দুই সেটেই প্রতিদ্বন্দ্বীকে চাপে রেখে ছেলেদের এককের শিরোপা জিতেছেন থাইল্যান্ডের লিকুল পার্টচারাপুল। অন্যদিকে ছেলেদের দ্বৈতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে চাইনিজ তাইপেইয়ের জুটি। মেয়েদের একক ও দ্বৈত দুই ইভেন্টেই শিরোপা জিতে নিজেদের আধিপত্য দেখিয়েছে চীন।
এর মধ্য দিয়ে রাজশাহীতে পর্দা নেমেছে ৩১তম আন্তর্জাতিক অনূর্ধ্ব-১৮ জুনিয়র টেনিস টুর্নামেন্টের। ৪টি ইভেন্টে শিরোপা নির্ধারণের মধ্য দিয়ে ছয় দিনের এই প্রতিযোগিতায় এশিয়ার তিন দেশের তরুণ খেলোয়াড়রা নিজেদের দক্ষতা ও সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন।
শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল ৮টায় রাজশাহী টেনিস কমপ্লেক্সে ছেলেদের এককের ফাইনালে চাইনিজ তাইপেইয়ের জিচে চেনকে ৬-৪ ৭-৫ গেমে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হন লিকুল পার্টচারাপুল। দুই সেটেই লড়াই হয়েছে সমানে-সমান। প্রথম সেটে ৬-৪ গেমে এগিয়ে যাওয়ার পর দ্বিতীয় সেটে প্রতিপক্ষের পাল্টা চ্যালেঞ্জ সামলে ৭-৫ গেমে জয় নিশ্চিত করেন থাইল্যান্ডের এই তরুণ খেলোয়াড়।
ফাইনালে দুই খেলোয়াড়ের পারফরম্যান্সে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ছাপ ছিল স্পষ্ট। শিরোপার লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে চাপ সামলে কার্যকর শট খেলেই শেষ পর্যন্ত জয় তুলে নেন লিকুল।
টুর্নামেন্টের রেফারি জয় মুখার্জি বলেন ফাইনালে ওঠা দুই খেলোয়াড়ই ভালো মানের। পুরো টুর্নামেন্টে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের মাধ্যমে তারা ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছেন। ফাইনালেও তাদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে। লিকুল পুরো টুর্নামেন্টে ভালো খেলেছেন এবং ফাইনালেও নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়ে শিরোপা জিতেছেন।
এককের ফাইনালে হারলেও দ্বৈতে শিরোপা জয়ের আনন্দ পেয়েছেন চাইনিজ তাইপেইয়ের জিচে চেন। শুক্রবার রাতে অনুষ্ঠিত ছেলেদের দ্বৈত ফাইনালে জিচে চেন ও ওয়েই-চেং ট্যাং জুটি ভারতের শিব মোহন ও আরভ ছাল্লানিকে ৬-৩, ৬-২ গেমে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়। ফলে এককে রানার্সআপ হলেও দ্বৈতে শিরোপা জিতে টুর্নামেন্ট শেষ করেন জিচে চেন।
মেয়েদের দুই ইভেন্টেই শিরোপা জিতেছে চীন। মেয়েদের এককের ফাইনালে নিজ দেশের জেনসি ডঙকে ৬-০, ৬-০ গেমে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হন জিমো সঙ। অন্যদিকে মেয়েদের দ্বৈতে সিয়াং জিয়াং ও শুয়াং জু জুটি শিরোপা জেতেন। এককে সরাসরি দুই সেটে জয় পেলেও দ্বৈতে শিরোপা নিশ্চিত করতে প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখোমুখি হতে হয় চীনের খেলোয়াড়দের।
সব মিলিয়ে ৪টি ইভেন্টের মধ্যে ছেলেদের এককে থাইল্যান্ড, ছেলেদের দ্বৈতে চাইনিজ তাইপেই এবং মেয়েদের একক ও দ্বৈতে চীন চ্যাম্পিয়ন হয়েছে।
গত ৫ অক্টোবর রাজশাহী টেনিস কমপ্লেক্সে শুরু হয় ছয় দিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা। এতে স্বাগতিক বাংলাদেশসহ ১০টি দেশের শতাধিক খেলোয়াড় অংশ নেন। বিভিন্ন দেশের অনূর্ধ্ব-১৮ পর্যায়ের খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণে প্রতিযোগিতাটি হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের দক্ষতা যাচাইয়ের পাশাপাশি তরুণ খেলোয়াড়দের অভিজ্ঞতা অর্জনেরও সুযোগ তৈরি হয় এই আসরে।
শনিবার ফাইনাল শেষে অনুষ্ঠিত হয় পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। এতে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী টেনিস কমপ্লেক্সের অ্যাডহক কমিটির আহ্বায়ক ও অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার হাবিবুর রহমান, টুর্নামেন্ট ডিরেক্টর হাসিনুর রহমান টিংকু, মিডিয়া কমিটির আহ্বায়ক গোলাম মোস্তফা মামুন এবং আরাফাত রহমান কোকো ক্রীড়া পরিষদ রাজশাহী মহানগরের সদস্যসচিব প্রকৌশলী মো. আরিফুজ্জামান সোহেল।
হাবিবুর রহমান বলেন, ৫ থেকে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত রাজশাহী টেনিস কমপ্লেক্স খেলোয়াড় আয়োজক ও দর্শকদের উপস্থিতিতে মুখর ছিল। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর সহযোগিতায় রাজশাহী পর্ব সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত আয়োজক কমিটি, বিভিন্ন উপকমিটি গণমাধ্যমকর্মী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। আগামী বছরও এই আয়োজনকে ঘিরে সবাইকে রাজশাহীতে স্বাগত জানান অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার।
