গাজীপুরের পূবাইলে রিসোর্ট ভাড়া নিয়ে ডিজে পার্টি ও ফেস্টিভ্যাল আয়োজন করে তরুণ-তরুণীদের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের সিনথেটিক মাদক সরবরাহের অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। অভিযানে কোকেন, এমডিএমএ বা এক্সটাসি, কুশ, বিলাতি মদ এবং গাঁজাজাতীয় উপাদানযুক্ত গামিসহ বিভিন্ন মাদক জব্দ করা হয়েছে।
এ সময় চারটি মোবাইল ফোন ও একটি ডিজিটাল ভিডিও রেকর্ডারও জব্দ করা হয়। শুক্রবার গাজীপুরের পূবাইলের ভাদুন এলাকায় ‘পূবাইল রিসোর্ট ক্লাব’-এ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। ডিএনসির গাজীপুর জেলা কার্যালয়ের নেতৃত্বে সংস্থাটির বিভিন্ন ইউনিটের সদস্যরা এ অভিযান পরিচালনা করেন। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান তানজিম (২৯), তুষার আহমেদ নিশু (৩২), মহিদুল ইসলাম রাহাত (২৮) ও কাসফিয়া নিশাত (২৫)।
শনিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানায় ডিএনসি। ডিএনসি সূত্রে জানা যায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ডিএনসির ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের অতিরিক্ত পরিচালক এ কে এম শওকত ইসলামের নেতৃত্বে বিভিন্ন ইউনিটের সদস্যদের সমন্বয়ে একটি দল গঠন করা হয়। পরে শুক্রবার রাত পৌনে ১২টার দিকে দলটি পূবাইল রিসোর্ট ক্লাবে পৌঁছে অভিযান শুরু করে। অভিযানকালে রিসোর্ট ক্লাবের দক্ষিণ পাশে লেকের মধ্যে থাকা ‘টিউবরোজ’ নামের দুই কক্ষের কটেজে তল্লাশি চালানো হয়। টিউবরোজ-১ কক্ষ থেকে ১২ পিস এমডিএমএ বা এক্সটাসি, যার ওজন ৫ গ্রাম, এক গ্রাম কোকেন এবং আইফোন ১৬ প্রো ম্যাক্স ও আইফোন ১২ প্রো জব্দ করা হয়।
এ ঘটনায় মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান তানজিমকে গ্রেপ্তার করা হয়। টিউবরোজ-২ কক্ষে অভিযান চালিয়ে ৩ দশমিক ৭৫ লিটার বিলাতি মদ, ১৫ গ্রাম কুশ, স্ট্রবেরি ড্রিম ইনফিউজড গামিস—THC-A D9 Live Resin—২০ গ্রাম, আইফোন ১৩ প্রো ম্যাক্স ও একটি অপো মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।
এ সময় তুষার আহমেদ নিশু ও মহিদুল ইসলাম রাহাতকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রিসোর্ট ক্লাবের দক্ষিণ পাশে লেকের মধ্যে উত্তরমুখী ‘গোমতী-১’ নামের এক কক্ষের কটেজে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে ৯ পিস এমডিএমএ বা এক্সটাসি, যার ওজন ৫ গ্রাম, এবং ৯ গ্রাম কুশ জব্দ করা হয়।
এ ঘটনায় কাসফিয়া নিশাতকে গ্রেপ্তার করা হয়। ডিএনসি জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে জানা গেছে, ‘SONIC PULSE’ নামের ব্যানারে ওই রিসোর্টে ফেস্টিভ্যাল বা ইভেন্টের আয়োজন করা হয়েছিল। মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান তানজিম, তুষার আহমেদ নিশু ও মহিদুল ইসলাম রাহাতের নেতৃত্বে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া তরুণ-তরুণীদের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের সিনথেটিক মাদক সরবরাহ করা হচ্ছিল বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য পাওয়া গেছে। রিসোর্ট ক্লাব কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে ডিএনসি আরও জানায়, অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান তানজিম, তুষার আহমেদ নিশু ও মহিদুল ইসলাম রাহাত রিসোর্টটি ভাড়া নিয়েছিলেন।
ডিএনসি সূত্র জানায়, ওই ফেস্টিভ্যাল বা ইভেন্ট আয়োজনের জন্য স্থানীয় প্রশাসনের কাছ থেকে কোনো ধরনের অনুমতি নেওয়া হয়নি। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) আইন, ২০২৬ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট থানায় নিয়মিত মামলা দায়েরের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
