রুগণ নারী ক্রিকেট: বাংলাদেশ হারছে মাঠের বাইরেই!

বাংলাদেশ চিত্র
প্রকাশ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:০৪ পিএম

এশিয়ান গেমসে খালি হাতে ফেরার পেছনে শুধু ব্যাটে-বলের ব্যর্থতা নয়, দায়ী মাঠের বাইরের অস্থিরতাও—এমনটাই মনে করা হচ্ছে। খোদ বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের কোচ সারোয়ার ইমরানও এমনটা মনে করছেন।

জাপানের নিশিনের কোরোগি স্পোর্টস পার্কে সোমবার ব্রোঞ্জ পদকের লড়াইয়ে পাকিস্তানের কাছে ৩১ রানে হেরে ২০২৩ সালে চীনে জেতা পদক ধরে রাখতে পারেনি বাংলাদেশ। আসরে খেলা তিন ম্যাচের মধ্যে বল মাঠে গড়িয়েছিল দুটিতে—দুই ম্যাচেই ছিল রুগণ দশা!

চীনের বিপক্ষে বৃষ্টিভেজা মাঠের কারণে ম্যাচ পরিত্যক্ত হওয়ায় সেমিফাইনালে ওঠে বাংলাদেশ, ভারতের কাছে ১১৪ রানের বড় ব্যবধানে হার। সবশেষ ব্রোঞ্জের লড়াইয়েও একই চিত্র—পাকিস্তানের ছুড়ে দেওয়া ১৪৫ রানের লক্ষ্যে নেমে ৭ উইকেটে ১১৪ রানে থামে ইনিংস।

হারের পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে কোচ সারোয়ার ইমরান খোলাসা করেই বলেছেন, দলের বর্তমান সংকটের শিকড় লুকিয়ে আছে মাস দুয়েক আগের এশিয়া কাপে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জেতা ম্যাচ হাতছাড়া করার পর থেকেই বাংলাদেশের ব্যাটিং আত্মবিশ্বাসহীনতায় ভুগছে বলে এই কোচের পর্যবেক্ষণ। ইন্দোনেশিয়া কিংবা সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো তুলনামূলক দুর্বল প্রতিপক্ষের বিপক্ষেও ১২০-১৩০ রান তুলতে না পারার যে ধারা তৈরি হয়েছিল, সেটিই বহন করে এশিয়ান গেমসেও এসেছে দল—এমন আক্ষেপ ঝরেছে তার কণ্ঠে।

পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ প্রসঙ্গে সারোয়ার ইমরান বলেন, ‘পাওয়ার প্লেতে অন্তত ৪০-৪৫ রান তুলতে পারলে ১৪৫ রানের লক্ষ্য নাগালের মধ্যেই থাকত, কিন্তু সেখানে মাত্র ২৪ রান আসায় শুরুতেই পিছিয়ে পড়ে দল।’ ১০ ওভারে ৩ উইকেটে মাত্র ৪৩ রান তুলেছিল বাংলাদেশ, যার প্রভাবে শেষ ৬০ বলে দরকার হয় প্রায় অসম্ভব ১০৩ রানের সমীকরণ। ছক্কা মারার সহজাত সামর্থ্যও দলের ভেতর থেকে যেন হারিয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন কোচ।

ব্যাটিং-ব্যর্থতার চেয়েও সারোয়ার ইমরানের কণ্ঠে বেশি হতাশা ঝরেছে আসর চলাকালীন মাঠের বাইরের টানাপোড়েন নিয়ে। হেড কোচ ও অধিনায়ককে ঘিরে যেভাবে সমালোচনা-চাপ তৈরি হয়েছে, তাতে দলের নৈপুণ্যে নিয়ে আশা করাটাই কঠিন বলে মনে করেন কোচ। অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি গেমস শুরুর আগে টি-টোয়েন্টি নেতৃত্ব ছাড়ার ঘোষণা দেন, যা দলের ভেতরে বাড়তি মানসিক চাপ তৈরি করে থাকতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন অভিজ্ঞ এই কোচ, ‘সমাধানের জায়গাটা মূলত মনস্তাত্ত্বিক—দলকে চাঙা রাখার যে কাজ হওয়া দরকার ছিল, সেটিই ঠিকমতো হচ্ছে না।’

কাঠামোগত সংকটের প্রসঙ্গও এড়াননি অভিজ্ঞ এই কোচ, ‘শ্রীলঙ্কায় শত শত স্কুলে মেয়েদের ক্রিকেট চর্চা হয়, অথচ বাংলাদেশে এমন কোনো কাঠামোই গড়ে ওঠেনি।’ নতুন মুখের ঘাটতি এতটাই প্রকট যে ৩০ জনের বেশি বিকল্প খেলোয়াড়ের তালিকাই তৈরি করা যাচ্ছে না! স্কুল ক্রিকেট, অনূর্ধ্ব-১৮ পর্যায়ের প্রতিযোগিতা এবং মেয়েদের জন্য আলাদা প্রশিক্ষণ সুবিধা তৈরি না হলে এই বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসা কঠিন বলেই মনে করেন সারোয়ার ইমরান।

স্কুল থেকে জাতীয় দল পর্যন্ত বিস্তৃত একটি কাঠামো তৈরি হলে হয়তো দ্রুতই ভারত-পাকিস্তান-শ্রীলঙ্কার সঙ্গে সমানে সমানে লড়াই করার স্বপ্ন দেখতে পারবে বাংলাদেশ—এমন প্রত্যাশা কোচের নিজেরই।

বাংলাদেশ চিত্র অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন