দেশে ক্যাশলেস লেনদেন বাস্তবায়নে কী কী উদ্যোগ নিচ্ছেন?
মোসলেহ্ উদ্দীন আহমেদ : ক্যাশলেস লেনদেন বাস্তবায়নের মূল ভিত্তি হলো ইনফ্রাস্ট্রাকচারের রোবাস্টনেস, যাতে এটি বিভিন্ন ক্রস প্ল্যাটফর্মে উদ্ভাবিত পেমেন্ট সিস্টেমের সঙ্গে ইন্টিগ্রেট/সংযুক্ত করা যায়। আমরা সেটি মাথায় রেখে স্টেট অব দি আর্ট টেকনোলজি ব্যবহার করে অত্যাধুনিক ইন্টারনেট ও অ্যাপ বেইজড বিভিন্ন পেমেন্ট সিস্টেম তৈরি করছি। যার ফলে আমাদের গ্রাহক অগণিত মার্চেন্ট, ইউটিলিটি ও ওয়ালেট অ্যাকাউন্টে নিরাপদে ক্যাশলেস লেনদেন করতে পারছেন। আমরা অত্যন্ত দক্ষ একটি আইটি সিস্টেম ডেভেলপার ও সিকিউরিটি টিম গড়ে তুলেছি, যারা দেশি-বিদেশি যে কোনো পেমেন্ট সিস্টেমের সঙ্গে আমাদের পেমেন্ট সিস্টেমের সংযোগ স্থাপন করতে সক্ষম।
: ভারত, শ্রীলংকা ও পাকিস্তানের মতো বিদেশি অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো হচ্ছে কি না?
মোসলেহ্ উদ্দীন আহমেদ : বিদেশি অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর জন্য যে প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত যোগাযোগ প্রয়োজন, তা অর্জনের জন্য আমরা নিরবচ্ছিন্নভাবে প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছি। আমাদের কর্মকর্তাদের বিভিন্ন অনলাইন ও অফলাইন প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করছি। পাশাপাশি দেশের বাইরে থেকে প্রযুক্তিগত সেবা গ্রহণ করছি, যার মাধ্যমে গ্রাহকদের উন্নত ও নিরাপদ সেবা প্রদান করা হচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ: SWIFT service ও অন্যান্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ ইনফ্রাস্ট্রাকচার হতে প্রাপ্ত সেবাগুলোর নিরবচ্ছিন্নতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ভারত, সিঙ্গাপুর শ্রীলংকাভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে রক্ষণাবেক্ষণ চুক্তি করছি। ভারত, শ্রীলংকা ও পাকিস্তান এবং এর বাইরের অনেক দেশের বিভিন্ন Remittance House-এর মাধ্যমে Foreign Remittance আহরণে আমরা গ্রাহকদের সেবা প্রদান করছি। ইন্টারঅপারেবল পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম, রিয়েলটাইম ট্রান্সফার এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক ডিজিটাল ইকোসিস্টেমের মাধ্যমে তাদের মতো আমরাও সাফল্য লাভে সক্ষম হচ্ছি। উদাহরণস্বরূপ, বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী এদেশে ২০২৪ সালে মোট লেনদেনের ৪৭-৫৬% ডিজিটাল মাধ্যমে হচ্ছে। এ অন্তর্ভুক্তি পূর্ববর্তী বছরগুলোর তুলনায় বেড়েছে।
: ভারতে ক্যাশলেস পেমেন্ট সফল হওয়ার অন্যতম কারণ হলো সেখানে পিটুপি ট্রান্সফার ও অধিকাংশ কিউআর লেনদেনে কোনো চার্জ নেই। পাকিস্তানে পিটুপি ট্রান্সফারে কোনো খরচ নেই। এসব ফলো করা হচ্ছে কি না?
মোসলেহ্ উদ্দীন আহমেদ : ক্যাশলেস পেমেন্ট সুবিধা প্রদানের লক্ষ্যে আমরা ইতোমধ্যে ইধহমষধ ছজ সিস্টেম চালু করেছি। বাংলাদেশ ব্যাংকের গাইডলাইন অনুযায়ী কোনো চার্জ ছাড়াই গ্রহকরা Bangla QR সিস্টেমে লেনদেন করতে পারছেন। এছাড়া গ্রাহক বিভিন্ন মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসে (এমএফএস) চার্জ ছাড়াই টাকা ট্রান্সফার করতে পারছেন।EFT-এর মাধ্যমে গ্রাহক বিনা খরচে আমাদের ব্যাংক থেকে অন্য ব্যাংকে টাকা পাঠাতে পারছেন। এ ছাড়াও বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী অন্যান্য মাধ্যমে চার্জবিহীন লেনদেনের জন্য আমরা বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছি।
: সেবার মান ও নিরবচ্ছিন্ন কার্যকারিতার জন্য কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে?
মোসলেহ্ উদ্দীন আহমেদ : সেবার মান ও নিরবচ্ছিন্ন কার্যকারিতার জন্য আমরা খুবই সচেতনতার সঙ্গে কাজ করি। গ্রাহকদের উন্নত সেবা প্রদানের লক্ষ্যে সম্প্রতি নতুন ইন্টারনেট ব্যাংকিং ও মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাপ Shahjalal TouchPay চালু করা হয়েছে। আমাদের ATM Booth-G CRM মেশিন সংযুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি বিভিন্ন মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস), কার্ড পেমেন্ট, বিভিন্ন Remittance House-এর সঙ্গে integration, করপোরেট গ্রাহকদের জন্য Corporate Payment Management System, বিভিন্ন ইউটিলিটি সেবার বিল কালেকশন চালু রয়েছে। সেবার মানোন্নয়নের জন্য আমরা প্রতিনিয়ত গ্রাহকদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং তাদের প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী নতুন সেবা চালু করার উদ্যোগ নিচ্ছি। পাশাপাশি শাখা ও Central Compliant Cell-এর মাধ্যমে আমরা গ্রাহকদের যে কোনো সমস্যা সমাধান ও পরামর্শ গ্রহণ করছি। নিয়মিত মেসেজ প্রদানের জন্য মোবাইল, ফেসবুক, ইউটিউব, ইমেইল ও অন্যান্য ডিজিটাল মিডিয়া ব্যবহারের মাধ্যমে গ্রাহকের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিচ্ছি।
: মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস), ইন্টারনেট ব্যাংকিং, কার্ড পেমেন্ট ও অন্যান্য ডিজিটাল চ্যানেলের কী কী চ্যালেঞ্জ রয়েছে?
মোসলেহ্ উদ্দীন আহমেদ : সাইবার থ্রেট অনেক সময়ই আমাদের চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন করে তোলে। প্রযুক্তিগত উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে সাইবার থ্রেটের ঝুঁকি বাড়ছে। তাই প্রযুক্তিগত উন্নয়নের পাশাপাশি সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এর পাশাপাশি নতুন নতুন সেবা চালুকরণ, যেমন: বিভিন্ন মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) সঙ্গে যুক্ত হয়ে নতুন নতুন ব্যাংকিং প্রোডাক্ট নিয়ে আসা ও মার্কেটে প্রচলন করা, একই সঙ্গে সহজে লেনদেন সুবিধা প্রদান করা, গ্রাহকদের প্রয়োজনীয়তা বুঝে ডিজিটাল চ্যানেলের মাধ্যমে সেবা প্রদান করা—যেমন: ক্যাশলেস ও ফিজিক্যাল কার্ড ছাড়া পেমেন্ট ব্যবস্থা চালু করা ইত্যাদি। এসব সেবা প্রদানে রেগুলেটরি সংস্থা থেকে ক্লিয়ারেন্স বা পারমিশন এবং সব সংশ্লিষ্ট সংযুক্ত সাপ্লায়ারদের মাধ্যমে চাহিদা ও সময়মতো নিরাপদে প্রকল্প বাস্তবায়ন—এসব কিছুই নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ সামনে আনে। এককথায় সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো তীব্র ও ক্রমবর্ধমান প্রতিযোগিতামূলক মার্কেটে উন্নত ও নিরাপদ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে গ্রাহককে সম্পৃক্ত করে সেবার পরিধি বৃদ্ধির মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখা এবং একই সঙ্গে ক্রমাগত উন্নতি সাধন করে এ দুয়ের সমন্বয়সাধন।