শেষ দিনে ৭ উইকেট দরকার বাংলাদেশের

বাংলাদেশ চিত্র
প্রকাশ : ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৩৬ এএম

বাংলাদেশের হয়ে হাসান মাহমুদ ও এবাদত হোসেনের আঘাতে চাপে পড়েছে আফগানিস্তান। ৪৭৯ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে চতুর্থ দিনের শেষে ৫০ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ১৩২ রান তুলেছে আফগানরা। আজ শেষ দিনে জেতার জন্য তাদের সামনে ৩৪৭ রানের অসম্ভব লক্ষ্য। সে তুলনায় বাংলাদেশের হিসাবটা সহজ। ৭ উইকেট পেলেই চলবে।

আবুধাবি টেস্টে আফগানিস্তানের জয়ের সম্ভাবনা খুব ক্ষীণ। প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি করা অধিনায়ক রহমত শাহ ৫১ রান করে ফিরেছেন। সেদিকউল্লাহ আতাল অপরাজিত ৩৫ রানে। অন্যপ্রান্তে ১৯ রানে ব্যাট করছিলেন হাসমতউল্লাহ শাহিদি। গতকাল দুপুরের বিরতির পরপরই ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ। মোহাম্মদ সেলিমের বলে উইকেটরক্ষকের হাতে ক্যাচ দিয়ে লিটন দাস ১০২ রানে আউট হন। ৩৭২ রানে সপ্তম উইকেট হারানোর পর ইনিংস ঘোষণা করেন বাংলাদেশের অধিনায়ক।

গতকাল নিজের সপ্তম টেস্ট সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন লিটন। উইকেটরক্ষক হিসেবে যা তার ষষ্ঠ সেঞ্চুরি। সেলিমের ওভারেই দারুণ এক পুল শটে ৯৪ থেকে ৯৮ রানে পৌঁছান তিনি। পরে পয়েন্ট অঞ্চল দিয়ে চার মেরে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। প্রথম ইনিংসেও তার ব্যাট থেকে এসেছিল হাফ সেঞ্চুরি। এ ছাড়া এই টেস্টে এখন পর্যন্ত উইকেটের পেছনে পাঁচটি ক্যাচ নিয়েছেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে টানা তিন ইনিংসে শূন্য রানে আউট হওয়ার পর এমন প্রত্যাবর্তন নিঃসন্দেহে স্বস্তি দেবে লিটনকে।

তৃতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের সময় একের পর এক ক্যাচ ও রানআউটের সুযোগ নষ্ট করার খেসারত দিতে হয়েছে আফগানিস্তানকে। মেহেদী হাসান মিরাজ নন-স্ট্রাইকার প্রান্তে ক্রিজে পৌঁছানোর অনেক আগেই রানআউট করার সুযোগ পেয়েও ব্যর্থ হন কায়েস। পরে গালিতে মিরাজের সহজ ক্যাচ ছাড়েন আবদুল মালিক, তখন তার রান ছিল ৪০।

ব্যাটিংয়ে সুযোগ নষ্ট করার পর বল হাতে মাঠে নেমেও দুঃসময় কাটেনি মালিকের। বাংলাদেশের রান তাড়া করতে নেমে এবাদত হোসেনের প্রথম বলেই উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। আগের ইনিংসেও এবাদতের অনেক বাইরের একটি বলে ব্যাট চালিয়ে বিপদে পড়েছিলেন মালিক। এবার বলটি অফ স্টাম্পের অনেক বাইরে না থাকলেও শেষ পর্যন্ত লিটনের হাতে ধরা পড়েন তিনি।

এরপর হাসান মাহমুদের বলে হুক করতে গিয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন শাহিদুল্লাহ। চারটি বাউন্ডারিতে দ্রুত ১৯ রান করেছিলেন তিনি। আফগানিস্তানের প্রথম ইনিংসেও একই ধরনের শট খেলতে গিয়ে আউট হয়েছিলেন শাহিদুল্লাহ। পরে হাফ সেঞ্চুরি করে এবাদতের বলে আউট হয়েছেন আফগান অধিনায়ক রহমত।

চতুর্থ দিনের প্রথম সেশনেও লিটনের দৃষ্টিনন্দন ব্যাটিংয়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সুযোগ নষ্ট করেছে আফগানিস্তান। আবুধাবি টেস্টের সবচেয়ে উত্তপ্ত দিনে কাট, ড্রাইভ ও পুল শটে প্রতিপক্ষের বোলারদের অনায়াসে সামলেছেন লিটন। তার ব্যাটিংয়ে ছিল আত্মবিশ্বাস ও নান্দনিকতার ছাপ।

তবে আফগানিস্তানের জন্য হতাশা আরও বাড়ে, যখন লিটন ১৪, ২৬ ও ৬৭ রানে থাকার সময় তিনবার জীবন পান। স্লিপে কঠিন একটি ক্যাচ নিতে পারেননি শাহিদুল্লাহ। এরপর কায়েসের হাত থেকে ফসকে যায় লিটনের ফিরতি ক্যাচ। ৬৭ রানে লিটন আম্পায়ারের সিদ্ধান্তে বেঁচে গেছেন, কারণ ততক্ষণে রিভিউ নেওয়ার সুযোগ শেষ হয়ে গিয়েছিল আফগানিস্তানের।

শুধু লিটনই নন, মেহেদী হাসান মিরাজকেও রানআউট করার সুযোগ হাতছাড়া করে আফগানিস্তান। স্লিপে তার ক্যাচও ফেলেন ফিল্ডাররা। এসব সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশের লিড এত বড় হতো কি না, সেই প্রশ্ন থেকেই যায়। সব মিলিয়ে, ব্যাট হাতে লিটনের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি এবং ফিল্ডিংয়ে আফগানিস্তানের একের পর এক ভুলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ এখন বাংলাদেশের হাতে। ৪৭৯ রানের লক্ষ্য পেরিয়ে জয়ের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে হলে আফগানিস্তানকে চতুর্থ ইনিংসে অবিশ্বাস্য কিছুই করতে হতো। শুরুতে সেটা তারা করতে পারেনি।

বাংলাদেশ চিত্র অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন