শ্রমিক দল নেতার বিচার দাবি বিএনপি নেতার

বাংলাদেশ চিত্র
প্রকাশ : ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০২:১৯ পিএম

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় ধার্য করা চাঁদা না পেয়ে বিএনপি নেতার ছেলের বিয়ের অনুষ্ঠানে হামলা ও স্বজনদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা শ্রমিক দলের এক নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অন্তত চারজন আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। তবে অভিযুক্ত শ্রমিক দল নেতা অভিযোগটি অস্বীকার করেছেন।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে রাঙ্গাবালী প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রাঙ্গাবালী ইউনিয়ন (দক্ষিণ) শাখার ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক সোহরাব হাওলাদার এ ঘটনার বিচার দাবি করেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, গত ১১ মার্চ রাতে তার কনিষ্ঠ ছেলে রাশেদুল ইসলামের বউভাত উপলক্ষে সদর ইউনিয়নের সামুদাবাদ গ্রামে নিজ বাড়িতে পারিবারিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে তার ভাগনে উপজেলা শ্রমিক লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সোলাইমান শাকিল ও পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় উপজেলা শ্রমিক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ফিরোজ মুন্সির নেতৃত্বে জামাল ও স্বপনসহ ৪০-৫০ জন লোক সেখানে এসে সোলাইমান শাকিলকে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করতে বলেন। অন্যথায় ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করা হয় এবং চাঁদা না দিলে অনুষ্ঠান পণ্ড করার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সোহরাব হাওলাদার আরও দাবি করেন, ফিরোজ মুন্সির উপস্থিতিতে জামাল ও স্বপন তার কাছে চাঁদা চান। চাঁদা না দেওয়ায় গাঁজা সেবনের মিথ্যা অভিযোগ তুলে তার ভাগিনা সোলাইমান শাকিল, নাতি নিবিড় ইসলাম, জয় ও দ্বীপকে পাশের একটি বাড়িতে নিয়ে গিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়।

তিনি বলেন, নিরুপায় হয়ে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতদের পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাদের মধ্যে দুজন চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরলেও সোলাইমান শাকিল ও তার ছেলে নিবিড় ইসলাম এখনও চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নিবিড় এবার এসএসসি পরীক্ষার্থী হওয়ায় তার পরীক্ষায় অংশগ্রহণ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

সোহরাব হাওলাদার বলেন, আমি বিএনপি করে একাধিকবার নির্যাতনের শিকার হয়েছি। অথচ দলের লোকজনই আমার কাছে চাঁদা দাবি করেছে। আমার ছেলের অনুষ্ঠান নষ্ট করে দিয়েছে। গত এক সপ্তাহ ধরে অনেক নেতার কাছে গিয়েছি, কিন্তু বিচার পাইনি।

তিনি পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও প্রশাসনের কাছে এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।

এদিকে অভিযুক্ত উপজেলা শ্রমিক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ফিরোজ মুন্সি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি সেখানে ছিলাম না। আমি একজন শিক্ষক এবং রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। সোলাইমান শাকিল, জনি ও বন বিভাগের দুজন লোক গাঁজা সেবন করেছিল। এ কারণে তাদের ওপর হামলা হয়েছে। পরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে আমি সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করি।

তিনি আরও বলেন, ঘটনাটি ১১ মার্চের, অথচ ১৮ এপ্রিল সংবাদ সম্মেলন করে আমার বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অভিযোগ আনা হচ্ছে। আগে বলা হয়েছে জামাল চাঁদা চেয়েছে। শুধু অভিযোগ করলেই তো হবে না, আমি এ ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত নই।

বাংলাদেশ চিত্র অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন