সংবিধান সংস্কারবিষয়ক বিশেষ কমিটির মতবিনিময় সভায় অংশ নেবে না বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী। সরকারের সংস্কার উদ্যোগকে ‘বিভ্রান্তিমূলক ও হঠকারী’ আখ্যা দিয়ে সভায় অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করেছে সংগঠনটি। তাদের দাবি, দলীয় স্বার্থ বাস্তবায়ন ও বৈধতা আদায়ের লক্ষ্যেই এসব আলোচনার আয়োজন করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ অবস্থান জানায় বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী। এতে সংগঠনের সভাপতি শাহরিয়ার খন্দকার আলিফ ও সাধারণ সম্পাদক তৈয়ব ইসলাম যৌথ বিবৃতি দেন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৫ অক্টোবর সংবিধান সংস্কারবিষয়ক বিশেষ কমিটির পক্ষ থেকে মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণের জন্য সংগঠনটিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। তবে গণবিরোধী চুক্তি ও প্রকল্প বাস্তবায়নকারী এবং জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলনে ব্যর্থ সরকারের সংস্কার আলোচনার অংশীজন হতে রাজি নয় তারা। একই সঙ্গে এ ধরনের আলোচনাকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে সংগঠনটি।
বিবৃতিতে নেতারা বলেন, বাংলাদেশের সংবিধান কখনোই এ ভূখণ্ডের মানুষের সামষ্টিক আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে পারেনি। স্বাধীনতার পর থেকে বিভিন্ন ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী শোষণ-নিপীড়নের হাতিয়ার হিসেবে রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করেছে। তাদের মতে, এর মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হয়েছে, রাষ্ট্রের গণবিরোধী চরিত্রের শিকড় শুধু রাজনৈতিক দলগুলোর জনস্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডে নয়, বরং দেশের আইনি ও সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যেও প্রোথিত।
তারা আরও বলেন, স্বাধীনতা-পরবর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অগণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সংবিধান প্রণয়ন, ১৯৭৩ সালের নির্বাচন এবং ১৯৭৫ সালে একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগের মধ্য দিয়ে স্বৈরতান্ত্রিক রাষ্ট্রকাঠামোর সূচনা হয়। পরে জিয়াউর রহমান ও এরশাদের সামরিক শাসন এবং বিএনপি-জামায়াত জোট ও আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে সেই কাঠামো আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়েছে।
সংগঠনটির নেতারা বলেন, রাষ্ট্রের নিপীড়নমূলক চরিত্র পরিবর্তনে আইনি ও সাংবিধানিক সংস্কার জরুরি। তবে শোষক ও গণবিরোধী গোষ্ঠীর হাত ধরে কাঙ্ক্ষিত সংস্কার সম্ভব নয়। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে গঠিত সংবিধান সংস্কার কমিশনসহ নারী, শ্রম ও পুলিশ কমিশনেও জনগণের যথার্থ প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হয়নি। পরে বুর্জোয়া রাজনৈতিক দলগুলোর অনুমোদিত জুলাই সনদেও এসব কমিশনের সুপারিশ যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনের শহীদদের রক্তের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে এ ধরনের আলোচনায় কোনো গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংগঠনের অংশ নেওয়া উচিত নয়। বিপ্লবী জনগণের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব ও প্রকৃত ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার মধ্য দিয়েই রাষ্ট্র ও আইনি কাঠামোর পরিবর্তন সম্ভব বলে মনে করে সংগঠনটি।
বিজ্ঞপ্তিতে বর্তমান বিএনপি সরকার ও জামায়াত জোটের বিরোধী দলকেও বৃহৎ বুর্জোয়া ও আন্তর্জাতিক সাম্রাজ্যবাদী গোষ্ঠীর ঐতিহাসিক উত্তরসূরি হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
