সমালোচনাকে পাত্তা দিচ্ছেন না আনচেলত্তি, লক্ষ্য তারুণ্যনির্ভর দল গঠন

বাংলাদেশ চিত্র
প্রকাশ : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৪০ এএম

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অপ্রত্যাশিত ড্রয়ের পর কোণঠাসা হয়ে পড়লেও পদত্যাগের দাবি পাত্তায় নারাজ কার্লো আনচেলত্তি। কিংবদন্তি এই কোচ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, বাইরের সমালোচনার কোনো প্রভাব নেই তার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায়। বর্তমানে নতুন প্রজন্মের প্রতিভাদের দলে একীভূত করার দিকেই তার সব মনোযোগ। একই সঙ্গে ব্রাজিলের জার্সির ওজন যে কতটা বেশি, তা স্বীকার করে তিনি এও মনে করিয়ে দিয়েছেন যে সেলেসাওদের মূল লক্ষ্য কেবলই বিশ্বকাপ জয়।

টাউন্সভিলে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে হার থেকে বাঁচতে শেষ মুহূর্তের জন্য লড়াই করতে হয়েছে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের। ম্যাচের অন্তিম মুহূর্তে ৯৫ মিনিটে রায়ান গোল করে দলকে পরাজয়ের হাত থেকে বাঁচালেও স্বস্তি ফেরেনি শিবিরে। নরওয়ের বিপক্ষে বিশ্বকাপ থেকে বেদনাদায়ক বিদায়ের ক্ষত শুকানোর আগেই এই পারফরম্যান্স ভক্ত ও স্থানীয় গণমাধ্যমকে ক্ষুব্ধ করে তুলেছে।

দলের এমন পারফরম্যান্সকে ‘খুব বাজে’ আখ্যা দিয়ে সমালোচকেরা সরব হয়েছেন। এমনকি কয়েকমাস আগেই নতুন চার বছরের চুক্তি করা সত্ত্বেও অভিজ্ঞ এই কোচকে বরখাস্ত করার দাবি তুলেছেন অনেকে।

তবে সমালোচনায় কান দিতে নারাজ আনচেলত্তি। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘কাজের সমালোচনা হওয়া ভালো। সমালোচনা অতীতেও ছিল, ভবিষ্যতেও থাকবে। এই জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমার যে ভাবনা, তার ওপর এর কোনো প্রভাব পড়ে না। সমালোচনার কোনো প্রভাবই আমার চিন্তায় নেই।’

আনচেলত্তি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে এই প্রীতি ম্যাচগুলোর মূল উদ্দেশ্য ব্রাজিলের পরবর্তী প্রজন্মের আইকনদের খুঁজে বের করা। বর্তমানে অস্ট্রেলিয়া সফরে যাওয়া স্কোয়াডটি বেশ পরীক্ষামূলক। এই দলে এমন ১৭ জন খেলোয়াড় আছেন, যাদের আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা ১০ বা তার কম এবং ১০ জন খেলোয়াড় সম্পূর্ণ নতুন মুখ।

ইতালিয়ান এই কোচ স্পষ্ট করেন যে এই প্রদর্শনী ম্যাচগুলোতে চূড়ান্ত স্কোর কী হলো, সেটি বড় বিষয় নয়; বরং স্কোয়াডের সামগ্রিক বিকাশই তার কাছে প্রধান। তিনি বলেন, “এখন আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার হলো এমন একটি নতুন প্রজন্ম গড়ে তোলা, যারা কোপা আমেরিকা ও বিশ্বকাপে ব্রাজিলকে সফলভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে।”

তরুণদের নিয়ে দল গঠনে মনোযোগ দিলেও নিজের পদের ঐতিহাসিক গুরুত্ব সম্পর্কে পুরোপুরি সজাগ আনচেলত্তি। তিনি জানেন, বিশ্বের অন্য যেকোনো দলের চেয়ে ব্রাজিলের কোচের কাজটা সম্পূর্ণ আলাদা, যেখানে বড় ট্রফি জয় ছাড়া অন্য কোনো কিছু মেনে নেওয়া যায় না।

ব্রিসবেনে দ্বিতীয় ম্যাচের আগে সেলেসাওদের এই বিশেষ পরিবেশ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, প্রত্যাশার পারদ সবসময়ই আকাশচুম্বী থাকে এবং ব্রাজিলের কোচ হিসেবে “আপনাকে অবশ্যই বিশ্বকাপ জিততে হবে।’

তাৎক্ষণিক কৌশলগত উন্নতির পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি দল গঠনের কাজটি তিনি সফলভাবেই সামলাতে পারবেন বলে আত্মবিশ্বাসী। শেষ ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হওয়ার আগে নিজের কৌশল আরও শাণিত করতে চান আনচেলত্তি।

তিনি আরও যোগ করেন, ‘কোচিং স্টাফ বা খেলোয়াড়- কেউই মনে করে না যে আমরা কেবল একটি প্রীতি ম্যাচ খেলতে নেমেছি। আমরা জানি আমরা একটি বিশাল দেশ ও মহান জার্সির প্রতিনিধিত্ব করছি। আমাদের কাছে বিশ্বকাপের ম্যাচ আর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ পুরোপুরি সমান। কারণ আমরা ফুটবলের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল জাতীয় দলের প্রতিনিধিত্ব করছি।’

সূত্র: গোলডটকম।

বাংলাদেশ চিত্র অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন