সরকারি হিসেবে ধর্ষণ, নারী নির্যাতনসহ বিভিন্ন অপরাধের তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ডিএনএ ল্যাবরেটরি ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের অনুমোদিত ৬৪টি পদের মধ্যে ৬৪টিই শূন্য রয়েছে। এছাড়া মহিলা ও বিষয়ক অধিদপ্তরের তিন হাজার ৫৯৭ পদের মধ্যে এক হাজার ৩৯৫টি, জাতীয় মহিলা সংস্থার ৫৭০ পদের ১৯৬টি, বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ৪০৪টির মধ্যে ১৬১টি এবং জয়িতা ফাউন্ডেশনের ৩৩ পদের মধ্যে ১১টি পদ শূন্য রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে উত্থাপিত নথি সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
ডিএনএ ল্যাবরেটরি ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের নথি অনুযায়ী, মহাপরিচালক, পরিচালক, প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও সহকারী পরিচালকসহ কয়েকটি পদে সংযুক্তির মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তবে উপপরিচালক থেকে শুরু করে অধিকাংশ বৈজ্ঞানিক, কারিগরি ও সহায়ক পদই শূন্য। ৯টি ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, ৯টি বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এবং ১৮টি পরীক্ষাগার প্রযুক্তিবিদের সব কটি পদই শূন্য। এ ছাড়া উপপরিচালকের একটি, সহকারী প্রোগ্রামারের একটি, হিসাব রক্ষকের একটি, স্টেনোটাইপিস্ট কাম কম্পিউটার অপারেটরের একটি, ডাটা এন্ট্রি/কন্ট্রোল অপারেটরের দুটি, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিকের ১০টি, ভান্ডার রক্ষকের একটি এবং অফিস সহায়কের ছয়টি পদও শূন্য রয়েছে।
তবে সূত্র জানায়, এই অধিদপ্তরে সরকারিভাবে সবগুলো পদ শূন্য দেখানো হলেও কয়েকজন প্রেষণে কাজ করছেন। আর যারা আগে থেকে কাজ করছেন তাদের আত্তীকরণের কাজ চলছে। পদ শূন্য দেখানো হলেও আসলে পদ শূন্য নেই। কেউ না কেউ কাজ করছেন।
নথিতে বলা হয়েছে, ডিএনএ ল্যাবরেটরি ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের অধীনে ঢাকায় জাতীয় ফরেনসিক ডিএনএ প্রোফাইলিং ল্যাবরেটরি এবং দেশের সাতটি বিভাগে ডিএনএ স্ক্রিনিং ল্যাবরেটরি রয়েছে। বিভাগীয় ল্যাবগুলোতে নমুনা সংগ্রহ ও স্ক্রিনিং করা হয়। পরে সংগৃহীত নমুনা ঢাকার জাতীয় ল্যাবে পাঠিয়ে ডিএনএ প্রোফাইলিং করা হয়।
জনবল সংকটকে অধিদপ্তর নিজেই একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। নথিতে বলা হয়েছে, অধিদপ্তর ও ল্যাবগুলোর কার্যক্রম চলমান রাখার জন্য প্রয়োজনীয় জনবল নেই। প্রকল্পের জনবল আত্তীকরণ এবং অবশিষ্ট পদে নিয়োগের মাধ্যমে এ সংকট মোকাবিলার কথা বলা হয়েছে।
তবে জনবল ঘাটতির মধ্যেও গত সাত মাসে ডিএনএ প্রোফাইলিং-সংক্রান্ত ৩ হাজার ৯৯৫টি নমুনা সংগ্রহ, এক হাজার ৮০০টি নমুনা পরীক্ষা এবং ৪৫০টি ডিএনএ প্রতিবেদন সরবরাহ করা হয়েছে। একই সময়ে অধিদপ্তর ২৫ লাখ ৫২ হাজার টাকা রাজস্ব আদায় করেছে।
নথিতে অধিদপ্তরের আরও কয়েকটি চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে যানবাহনের সংকট ও নিজস্ব স্থাপনা না থাকা। বর্তমানে অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয় ভাড়া করা ভবনে পরিচালিত হচ্ছে। নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা নিশ্চিত করতে নিজস্ব স্থাপনা নির্মাণের প্রয়োজনীয়তার কথাও নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া বিভাগীয় পর্যায়ের ল্যাবগুলোতে শুধু ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ ও স্ক্রিনিং করা সম্ভব। সেখানে পূর্ণাঙ্গ ডিএনএ প্রোফাইলিংয়ের সুবিধা না থাকায় নমুনা ঢাকার জাতীয় ফরেনসিক ডিএনএ প্রোফাইলিং ল্যাবে পাঠাতে হয়। এতে রাজধানীর কেন্দ্রীয় ল্যাবের ওপরও অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে।
গর্ভবতী নারীর মানসিক পরিচর্যার আহ্বান
সূত্র জানায়, গর্ভবতী নারীদের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য বিশেষ কর্মসূচি নেওয়ার জন্য বৈঠকে আহ্বান জানিয়েছেন এক সদস্য। তিনি বলেছেন, গর্ভবতী নারীদের পরিচর্যা ও চিকিৎসার ব্যাপারে কর্মসূচি আছে, কিন্তু মানসিক পরিচর্যার বিষয়ে কোনো কর্মসূচি দেখলাম না। বাচ্চা গর্ভে ধারণের পর থেকেই নারীর শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন হতে থাকে।
এ সময় পরিবার, কর্মক্ষেত্র ও সমাজ থেকে তার সহযোগিতা দরকার। মনোরোগ বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে নারীদের মানসিক সহায়তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
নিম্নবিত্ত পরিবারের শিশুদের জন্য ডে কেয়ার দরকার বলে মনে করেন এক সদস্য। তিনি বলেছেন, একজন গৃহকর্মী আমাকে বলেছিলেন, ‘আপনারা তো ডে কেয়ার করছেন, কিন্তু আমার শিশুকে আমি কোথায় রাখব? আমি যে সারাদিন বাড়িতে কাজ করি অন্যের বাড়িতে, আমার শিশুকে…?’ কাজেই ডে কেয়ার যেমন আমাদের আছে, এর পাশাপাশি নিম্নবিত্তের জন্যও কিছু ডে কেয়ার দরকার।
অন্যদিকে বৈঠকে জাতীয় মহিলা সংস্থার উত্থাপিত নথিতে বলা হয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নারী নির্যাতন প্রতিরোধ সেলে ১৪৫টি অভিযোগ পাওয়া গেছে। যার মধ্যে ৪৬টি নিষ্পত্তি এবং ৪৭টি অভিযোগ লিগ্যাল এইডে পাঠানো হয়েছে।
কমিটির সভাপতি সেলিমা রহমানের সভাপতিত্বে বৈঠকে আরও অংশগ্রহণ করেন কমিটির সদস্য ও মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন, রাশেদা বেগম হীরা, আন্না মিনজ, মাধবী মার্মা, ফাহিমা নাসরিন, নূরুন্নিসা সিদ্দীকা, সাবিকুন্নাহার, নুসরাত তাবাসসুম জ্যোতি।
