নোয়াখালীর সুবর্ণচরে সাবেক স্ত্রীর দ্বিতীয় বিয়ের খবর শুনে নিজের ১৪ বছর বয়সী ছেলেকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে বাবার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ছেলের মা বাদী হয়ে মামলা করার পর অভিযুক্ত বাবা মো. ইব্রাহীম খলিলকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ছেলেকে হত্যার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ইব্রাহীম খলিল লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চরজঙ্গালিয়া গ্রামের বাসিন্দা। নিহত নাঈম সুবর্ণচরের চরজব্বর ইউনিয়নের দারুল উলুম মাদানী নগর মাদ্রাসার নাজেরা বিভাগের শিক্ষার্থী ছিল।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকালে নাঈমের মা ফাতেমা আক্তার সুমি বাদী হয়ে সাবেক স্বামী ইব্রাহীম খলিলকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন।
পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার অভিযুক্ত ইব্রাহীম খলিলকে কৌশলে আটক করা হয়। পরে থানায় জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তিনি ছেলেকে হত্যার ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন। শুক্রবার বিকেলে তাকে নোয়াখালী চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে চরজব্বর ইউনিয়নের মধ্য বাগ্যা গ্রামের একটি ধানক্ষেতের পাশ থেকে নাঈমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নাঈমের নানা এবায়েদ উল্যাহ বলেন, সোমবার রাতে নাঈম তার বসতঘরে ঘুমিয়ে ছিল। ভোরে ফজরের নামাজের সময় ঘুম থেকে উঠে তিনি দেখতে পান ঘরের দরজা খোলা এবং নাঈম শয়নকক্ষে নেই। পরে সকাল সাতটার দিকে সার আনতে যাওয়ার সময় বাড়ি থেকে প্রায় ১০০ গজ দূরে ধানক্ষেতের পাশের রাস্তায় নাঈমের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন তিনি।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, প্রায় তিন বছর আগে নাঈমের মা-বাবার বিচ্ছেদ হয়। এরপর থেকে নাঈম নানার বাড়িতে থাকত এবং স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় পড়াশোনা করত।
স্বজনরা জানান, প্রায় ২০ থেকে ২৫ দিন আগে নাঈমের মা সুমি আক্তার দ্বিতীয় বিয়ে করেন। এরপর সাবেক স্ত্রীকে নিয়ে ক্ষুব্ধ ছিলেন ইব্রাহীম খলিল। তিনি বিভিন্ন সময় হুমকি-ধমকিও দিতেন বলে পরিবারের অভিযোগ।
নাঈমের মৃত্যুর পর তার মা সাবেক স্বামীকে সন্দেহ করেন। সকালে ছেলের মৃত্যুর খবর জানাতে ইব্রাহীমকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি বলে পরিবারের সদস্যরা জানান। পরে তিনি নিজে ফোন করলে তাকে ছেলের মৃত্যুর খবর জানানো হয়।
স্বজনদের অভিযোগ, সুমি আক্তারের দ্বিতীয় বিয়ের কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে ইব্রাহীম খলিল নাঈমকে নানার বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। পরে মরদেহ ধানক্ষেতের পাশে ফেলে রাখা হয়।
নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আহমেদ পেয়ার বলেন, বৃহস্পতিবার অভিযুক্ত বাবাকে কৌশলে আটক করা হয়। পরে থানায় জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তিনি ছেলের হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন। শুক্রবার বিকেলে তাকে আদালতে নেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।
