হকিতে দল নির্বাচন প্রক্রিয়ায় ধোঁয়াশা

বাংলাদেশ চিত্র
প্রকাশ : ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৫২ এএম

এশিয়ান গেমস ভরাডুবির পর নৈপুণ্যের মূল্যায়ন নেই, সেই গেরহার্ড পিটারের অধীনে আরও বড় পরীক্ষা দিতে যাচ্ছে বাংলাদেশ হকি দল। পাকিস্তানের নাম প্রত্যাহারের সুযোগে এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে জায়গা পেয়েছে বাংলাদেশ। গতকাল আসরের জন্য প্রাথমিক দল ঘোষণা করা হয়েছে। দল নির্বাচন কমিটির সর্বসম্মতিতে এই স্কোয়াড ঘোষণা করা হয়েছে কি না—তা নিয়ে আছে ধোঁয়াশা।

যদিও নির্বাচক কমিটির চেয়ারম্যান সাজেদ এ এ আদেল কালবেলার কাছে দাবি করেছেন, ‘কমিটির সবার সম্মতি নিয়েই ঘোষণা করা হয়েছে এই দল। কমিটির সদস্য মাহবুব হারুন স্বাক্ষর করতে আসতে পারেননি, কিন্তু তার সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। মাহবুব হারুনের সম্মতি নিয়েই ঘোষণা করা হয়েছে এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির প্রাথমিক দল।’ যদিও সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি ভিন্ন। সূত্র জানাচ্ছে, মাহবুব হারুন দল সিলেকশন প্রক্রিয়া থেকে নিজেকে দূরে রেখেছেন, স্বাক্ষর করতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন।

মাঠ ছাড়ার আগেই বিদায়ের সুর বেজেছিল মঈনুল ইসলাম কৌশিকের কণ্ঠে। এশিয়ান গেমসের পরই জাতীয় দলকে বিদায় বলবেন—আগেই জানিয়েছিলেন তিনি। কথা রেখেছেন। তাই ২৭ অক্টোবর ভারতের জলন্ধরে শুরু হতে যাওয়া এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির জন্য বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের ঘোষিত ২৬ সদস্যের দলে তার নাম নেই। দলে কোনো চমক নেই, সবই পুরোনো মুখ।

ভারতে খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে পাকিস্তান সরে দাঁড়ানোয় শেষ মুহূর্তে সুযোগ মিলেছে বাংলাদেশের। সেই সুযোগেই সাজানো হয়েছে

দল। প্রত্যেকেই অতীতে জাতীয় ফ্লেভার

নিয়েছেন। গোলপোস্টের ভরসা বিপ্লব কুজুর।

দলে আছেন আশরাফুল হক সাদ, মো. হুজাইফা হোসেন, আমিরুল ইসলাম, রেজাউল করিম বাবু, এম এম মেহরাব হাসান সামিন, ওবায়দুল হোসেন জয়, খালেদ মাহমুদ রাকিন, পুষ্কর খিসা মিমো, রকিবুল হাসান, মাহবুব হোসেন, আশরাফুল ইসলাম ও ফরহাদ আহমেদ। আছেন রোমান সরকার, নুরুজ্জামান নয়ন, অভিজ্ঞ রাসেল মাহমুদ, মো. সোহানুর রহমান, মো. আবেদ উদ্দিন, মো. তৈয়ব আলী, মো. তানভীর রহমান সিয়াম ও মো. আব্দুল্লাহ। বাকি চারজন মো. মাহমুদ হাসান, আল নাহিয়ান শুভ, মো. আরশাদ হোসেন, মো. শহিদুর রহমান সাজু ও মো. দ্বীন ইসলাম ইমন।

গেরহার্ড পিটারের শিষ্যরা সদ্যই এশিয়ান গেমসের আসর থেকে ফিরেছেন হতাশা নিয়ে। ষষ্ঠ হওয়ার লক্ষ্যে গিয়ে সপ্তম হয়েছে দল। ভরাডুবির সাক্ষী হয়ে আছে চীনের কাছে ৭ গোল হজমের লজ্জা। সেই ক্ষত সারানোর আগেই আরও কঠিন পরীক্ষা সামনে। ছয় দলের এ আসরে বাংলাদেশ মুখোমুখি হবে মহাদেশের পাঁচ শীর্ষ দলের। উদ্বোধনী দিনেই প্রতিপক্ষ গেমসের স্বর্ণজয়ী স্বাগতিক ভারত। এরপর ২৯ অক্টোবর জাপান, ৩০ অক্টোবর মালয়েশিয়া, ১ নভেম্বর দক্ষিণ কোরিয়া এবং ২ নভেম্বর চীন।

প্রস্তুতির সময়ও খুব কম। মনে রাখতে হবে, সুযোগটা এসেছে কপালের জোরে, আর কপালের জোরে আসা সুযোগ কাজে লাগানোর দায় পুরোটাই নিজেদের। বিশ্বমঞ্চের পথে হাঁটতে চাইলে এমন লড়াই থেকেই শিখতে হয়। জলন্ধরের টার্ফে লাল-সবুজের এই দল কতটা এগোবে, নাকি আবারও ফিরবে বিধ্বস্ত হয়েই—সেই উত্তর দেবে সময়ই!

বাংলাদেশ চিত্র অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন