ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পুরো দেশকে নিয়ে যে পরিকল্পনা এবং তথ্য ও সম্প্রসারণ নিয়ে যে পরিকল্পনা সেটি আমাদের ৩১ দফায় ছিল। যে তথ্য কমপ্লেক্সটি এখানে হতে যাচ্ছে, এটি শুধু একটি দালান না, এটির কিছু উদ্দেশ্য আছে। আমাদের চলচ্চিত্রশিল্প গত ১৭ বছরের অনাচারে ধ্বংসের মুখে। তাই সুচিন্তিতভাবে এখানে একটি ৬০ সিটের সিনেপ্লেক্সের আয়োজন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাঙামাটি শহরের ট্রাইব্যাল আদাম বটতলা এলাকায় আধুনিক তথ্য কমপ্লেক্স নির্মাণকাজের ভিত স্থাপন উদ্বোধন শেষে এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। বনরূপা এলাকার মুজাদ্দেদ-ই আলফেসানী একাডেমি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আলোচনা সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেন, বাংলাদেশ হল একটা গুজবের দেশ। এখন ফেসবুকে মনে যা আসে লেখা যায় এবং এআইয়ের সর্বোচ্চ খারাপ ব্যবহার করে মানুষের চরিত্রহননসহ বিভিন্ন ধরণের অপকর্মের সঙ্গে কিছু অপরাধী যুক্ত হচ্ছে। এখানে ফ্যাক্টচেকিং ডিপার্টমেন্টের খোলার মধ্য দিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য কেবল নয়, আপামর জনসাধারণ ও সামাজিক যে অবক্ষয় ঘটেছে সেটিকে রোধ করতে ভূমিকা রাখবে বলে আমি মনে করি।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী পার্বত্য চট্টগ্রামের তিনটি জেলা রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের ব্যাপারে বিশেষভাবে মনোযোগী। কিছুদিন আগেই প্রধানমন্ত্রী তিনটি কমিটি গঠন করেছেন, যাতে এ এলাকার যত ধরণের সমস্যা আছে এগুলো সমাধানে একটা বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়া যায়। গত তিনদিন ধরে আমি খাগড়াছড়ি, সাজেক এবং এখন রাঙামাটি আছি। এটার কারণ হচ্ছে উনি চান, আমরা যারা দায়িত্বে আছি, তারা যেন প্রত্যন্ত অঞ্চলে গিয়ে মানুষের কী প্রয়োজন সেটা অনুভব করি এবং বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহণ করি।
অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) মো. শাহ আলমের সভাপতিত্বে গেস্ট অব অনার ছিলেন রাঙামাটি আসনের সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন- রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান দীপন তালুকদার, গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এসএম আব্দুর রহমান, রাঙামাটির পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ইমরানুল হক ভূঁইয়া। স্বাগত বক্তব্য দেন- জেলা পর্যায়ে আধুনিক তথ্য কমপ্লেক্স নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক মো. মনিরুজ্জামান।
এসময় পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের ভাইস-চেয়ারম্যান শেখ ছালেহ্ আহাম্মদ, রাঙামাটি গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শর্মি চাকমা, জেলা তথ্য অফিসের উপপরিচালক রাহুল বণিকসহ প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও স্থানীয় রাজনৈতিক দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে জেলা পর্যায়ে আধুনিক তথ্য কমপ্লেক্স প্রকল্পের পরিচালক মো. মনিরুজ্জামান জানান, প্রকল্পের অধীনে প্রথম পর্যায়ে ২৬টি জেলায় আধুনিক তথ্য কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হচ্ছে। এরমধ্যে রাঙ্গামাটি জেলা অন্যতম। শুধুমাত্র অবকাঠামোগত সুবিধা নয়, এই তথ্য কমপ্লেক্সে অফিস ও অবকাঠামোর পাশাপাশি থাকবে বিভিন্ন আইসিটি সুবিধাও। ডিজিটাল ল্যাব, ডিজিটাল আর্কাইভ, ফ্যাক্টচেকিং ডিপার্টমেন্ট, মাল্টিপারপাস হল বা একটা সিনেপ্লেক্স থাকবে। রাঙামাটির তথ্য কমপ্লেক্সটি হবে ৫ তলা ভিতবিশিষ্ট, মোট আয়তন ১৪ হাজার ৬২০ বর্গফুট।
প্রকল্প সূত্রে জানা গিয়েছে, রাঙামাটি জেলা আধুনিক তথ্য কমপ্লেক্স নির্মাণ প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ১৩ কোটি ৮৭ লাখ ৫৫ হাজার টাকা। প্রকল্পের মেয়াদকাল দুই বছর।
