৫০ কোটি টাকার বিপিসি ভবনে ফাটল, পুটিং দিয়ে ফাটল ঢাকার চেষ্টা

বাংলাদেশ চিত্র
প্রকাশ : ৩ জুন ২০২৬, ০৫:০২ পিএম

প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) সদর দপ্তরের নিজস্ব ভবনটিতে ফাটল দেখা দিয়েছে। উদ্বোধনের আগেই ভবনটির কয়েকটি জায়গায় এই ফাটল দেখা দেয়। চট্টগ্রাম নগরের সার্সন রোডের জয় পাহাড় এলাকায় পাঁচতলা ভবনটি নির্মাণ করা হয়। ইতিমধ্যে রং করা থেকে পাইপ ফিটিং পর্যন্ত প্রায় সব কাজ সম্পন্ন হয়েছে। শুধু আনুষ্ঠানিকভাবে ভবনের উদ্বোধনটা বাকি। এর মধ্যেই ফাটল দেখা দেওয়ায় নির্মাণশ্রমিকেরা ফাটলগুলো পুটিং দিয়ে মেরামতে কাজ করছেন। সরেজমিন বুধবার (৩ জুন) মেরামতের দৃশ্য দেখা যায়। কর্তৃপক্ষের নির্দেশে বেশ তাড়াহুড়া করে মেরামতের কাজ সম্পন্ন করা হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, ভবনের দেয়ালের কয়েকটি অংশে ফাটল দৃশ্যমান হওয়ার পর দ্রুতগতিতে সেগুলো মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আর তাই নির্মাণকাজের মান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কেউ কেউ।

তবে প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিষয়টিকে বড় কোনো ত্রুটি হিসেবে দেখছেন না।

বিপিসির নতুন সদর দপ্তর নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক ও সংস্থাটির উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মো. আপেল মামুন বলেন, ‘এগুলো বড় ধরনের ফাটল নয়। নির্মাণকাজের সময় ছোটখাটো ফাটল দেখা দিতেই পারে। পুটিং ও প্লাস্টার করে সেগুলো মেরামত করা হচ্ছে। ভবনের নির্মাণসামগ্রী ও কাজের মান নিয়ে কোনো সমস্যা নেই।’

বিপিসি সূত্রে জানা যায়, দেশের জ্বালানি তেল আমদানি ও বিপণনের দায়িত্বপ্রাপ্ত রাষ্ট্রীয় সংস্থাটি ১৯৯০ সাল থেকে চট্টগ্রামে ভাড়া ভবনে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। প্রথমে আগ্রাবাদের হাউজ বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশন ভবনে এবং পরে ২০০১ সাল থেকে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) ভবনে সদর দপ্তর পরিচালিত হচ্ছে।

দীর্ঘ প্রায় সাড়ে তিন দশক ভাড়া ভবনে কার্যক্রম পরিচালনার পর নিজস্ব সদর দপ্তর নির্মাণের উদ্যোগ নেয় বিপিসি। গত বছর জয় পাহাড় এলাকায় স্টিল স্ট্রাকচারের পাঁচতলা ভবনটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। নির্মাণকাজের দায়িত্ব পায় ইউনাইটেড করপোরেশন।

নির্মাণের শুরুতে পাহাড় কাটার অভিযোগ নিয়ে আলোচনা তৈরি হলেও পরে কাজ এগিয়ে নেওয়া হয়। বর্তমানে ভবনের নির্মাণকাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং আগামী কয়েক দিনের মধ্যে উদ্বোধনের পরিকল্পনা রয়েছে।

নতুন ভবন থেকে বিপিসির সদর দপ্তরের সব প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে। প্রায় ১৮০ কর্মকর্তা-কর্মচারী সেখানে কর্মরত থাকবেন বলে জানিয়েছেন প্রকল্প পরিচালক।

উল্লেখ্য, বিপিসি বছরে প্রায় ৭০ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানি করে। সংস্থাটির নিয়ন্ত্রণাধীন পদ্মা অয়েল কোম্পানি, যমুনা অয়েল কোম্পানি ও মেঘনা পেট্রোলিয়ামের মাধ্যমে এসব তেল বাজারজাত করা হয়। আমদানিকৃত অপরিশোধিত তেল পরিশোধন করে বিপিসির অধীনস্থ ইস্টার্ন রিফাইনারি।

সম্প্রতি বিপিসির প্রধান কার্যালয় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় স্থানান্তরের আলোচনা শুরু হলে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। তবে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী সম্প্রতি এক বক্তব্যে জানিয়েছেন, বিপিসির প্রধান কার্যালয় চট্টগ্রামেই থাকবে।

বাংলাদেশ চিত্র অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সর্বশেষ সব খবর