৬ বছরেও ভরাট হয়নি মাঠ, জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগে শিক্ষার্থীরা

বাংলাদেশ চিত্র
প্রকাশ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:০৪ এএম

নদীভাঙনে বিলীন হওয়ার পর নতুন ঠিকানায় স্থানান্তরের ছয় বছর পার হলেও কুড়িগ্রামের চিলমারীতে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ ভরাট করা হয়নি। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র জলাবদ্ধতা ও কাদা-পানি। আর এই দুর্ভোগের মধ্য দিয়েই প্রতিদিন ঝুঁকি ও কষ্ট নিয়ে বিদ্যালয়ে আসছে সাড়ে ৩০০ শিক্ষার্থী।

কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার নয়ারহাট ইউনিয়নের মগড়াকুড়া আকন্দপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চিত্র এটি। ২০২০ সালে ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনে বিদ্যালয়টি বিলীন হয়ে গেলে দক্ষিণ খাউরিয়ার চরের একটি নিচু ফসলি জমিতে স্থানান্তর করা হয়। স্থানান্তরকালে দুটি টিনশেড ঘর তুলে সাময়িক ব্যবস্থা করা হলেও দীর্ঘ অর্ধযুগ ধরে মাঠ ও আশপাশের জায়গা ভরাট না করায় তা এখন শিক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বিদ্যালয়ের পুরো প্রাঙ্গণ নিচু হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই সেখানে পানি জমে যায়। পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টি থামার পরও দীর্ঘ সময় মাঠ ও প্রবেশপথে কাদা-পানি আটকে থাকে। এতে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে ভোগান্তির পাশাপাশি শারীরিক শিক্ষা ও খেলাধুলাও ব্যাহত হচ্ছে। একইসঙ্গে তীব্র শ্রেণিকক্ষ সংকটে গাদাগাদি করে পাঠ নিতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। প্রয়োজনের তুলনায় কক্ষ কম থাকায় স্বাভাবিক পরিবেশে পাঠদানও ব্যাহত হচ্ছে।

পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী মোস্তাফিজার রহমান বলে, ‘বৃষ্টি হলেই স্কুলের মাঠ ও সামনে পানি জমে যায়। কাদা-পানি মাড়িয়ে ক্লাসে যেতে হয়। অনেক সময় জামা-কাপড় ও বই-খাতা ভিজে যায়। মাঠ ভরাট করে দিলে আমাদের খুব সুবিধা হতো।’

চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী সালমা খাতুন বলে, ‘স্কুলে এসে খেলাধুলা করতে পারি না। বৃষ্টির পর মাঠে অনেক দিন পানি ও কাদা থাকে। স্কুলের একটি ঘরও খুব খারাপ। আমাদের জন্য নতুন ভবন হলে ভালোভাবে ক্লাস করতে পারতাম।’

জলাবদ্ধতার পাশাপাশি বিদ্যালয়টিতে রয়েছে তীব্র অবকাঠামোগত সংকট। স্থানান্তরের সময় নির্মিত দুটি টিনশেড ঘরের একটি ইতিমধ্যে জরাজীর্ণ হয়ে পড়ায় পাঠদানের অনুপযোগী। অপর টিনশেডের ছয়টি কক্ষের একটি অফিস হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। বাকি পাঁচটি কক্ষে শিশু শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণির পাঠদান চালাতে হচ্ছে। পাশাপাশি একই চত্বরে ব্র্যাক পরিচালিত ঝরে পড়া ও পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার কার্যক্রম চলায় শ্রেণিকক্ষ সংকট আরও প্রকট হয়েছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘বিদ্যালয়টি ভাঙনের পর নতুন জায়গায় স্থানান্তর করা হলেও জায়গাটি এখনো ভরাট করা হয়নি। সামান্য বৃষ্টিতেই মাঠে পানি জমে যায়। একটি টিনশেড ঘরও জরাজীর্ণ হওয়ায় ব্যবহার করা যাচ্ছে না। ফলে শ্রেণিকক্ষ সংকটের মধ্যেই পাঠদান চালাতে হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে মাঠ ভরাট, পানি নিষ্কাশন ও নতুন ভবন নির্মাণের জন্য আমি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত আবেদন করেছি।’

প্রধান শিক্ষক আরও বলেন, ‘দুর্গম চরাঞ্চলের এই বিদ্যালয়ে সাড়ে ৩০০ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। তাদের স্বাভাবিক পাঠদানের পরিবেশ নিশ্চিত করতে দ্রুত স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন।’

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান বলেন, ‘বিদ্যালয়ের মাঠ ভরাটের বিষয়টি প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে মাঠ ভরাটের ব্যবস্থা করা হবে। আর প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি-৫ চালু হলে বিদ্যালয়টির নতুন ভবন নির্মাণের জন্য প্রস্তাবনা পাঠানো হবে।’

চিলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত আছি। দ্রুত সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বাংলাদেশ চিত্র অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন