দীর্ঘ প্রায় ছয় মাস বন্ধ থাকার পর আবার উৎপাদনে ফিরেছে চট্টগ্রাম ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিইউএফএল)। গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার পর কারখানাটি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হলেও যন্ত্রপাতিতে কারিগরি ত্রুটির কারণে উৎপাদনে ফিরতে কিছুটা সময় লাগে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে কারখানাটিতে ইউরিয়া সার উৎপাদন শুরু হয়েছে।
কারখানাটি দীর্ঘদিন পর উৎপাদনে ফেরায় সিইউএফএলের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিকদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। দীর্ঘ সময় উৎপাদন বন্ধ থাকায় কারখানার কার্যক্রম নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, উৎপাদন শুরুর মধ্য দিয়ে তা অনেকটাই কেটেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
সিইউএফএল সূত্র জানায়, মঙ্গলবার সকালে কারখানার ইউরিয়া উৎপাদন ইউনিট চালুর প্রক্রিয়া শুরু হয়। এর আগে গ্যাস সরবরাহ পাওয়ার পর ধাপে ধাপে অ্যামোনিয়া প্ল্যান্ট চালু করা হয়। এরপর ইউরিয়া প্ল্যান্টের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি সচল করে উৎপাদনে ফেরার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হয়। চালুর প্রাথমিক পর্যায়ে কয়েকটি যান্ত্রিক জটিলতা দেখা দেয়। কারখানার প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কাজ করে এসব ত্রুটি কাটিয়ে ওঠেন।
জানা গেছে, সিইউএফএল সার কারখানায় দৈনিক প্রায় ৪৮ থেকে ৫২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন হয়। পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ না থাকলে কারখানার উৎপাদন স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হয় না। গ্যাসের চাপ কমে গেলে বা সরবরাহ বন্ধ হলে উৎপাদনও বন্ধ হয়ে যায়। প্রতিষ্ঠার পর এ কারকানায় দৈনিক প্রায় ১ হাজার ৭০০ টন ইউরিয়া সার উৎপাদনের সক্ষমতা ছিল। তবে পুরোনো যন্ত্রপাতি, দীর্ঘদিনের ব্যবহারে বিভিন্ন ইউনিটের সক্ষমতা কমে যাওয়া এবং গ্যাস সংকটসহ নানা কারণে বর্তমানে কারখানাটির কার্যকর উৎপাদনক্ষমতা আগের তুলনায় কমেছে।
সর্বশেষ গত ৪ মার্চ গ্যাস-সংকটের কারণে সিইউএফএলের উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এরপর দীর্ঘ সময় কারখানাটি বন্ধ ছিল। গত মাসের শেষ দিকে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার পর কারখানা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার কারণে বিভিন্ন যন্ত্রপাতি পরীক্ষা করে সচল করতে সময় লাগে। একপর্যায়ে কারিগরি ত্রুটিও দেখা দেয়। ফলে গ্যাস পাওয়ার পরও সঙ্গে সঙ্গে উৎপাদনে ফেরা সম্ভব হয়নি।
উৎপাদনের বিষয়টি নিশ্চিত করে সিইউএফএলের উৎপাদন বিভাগের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) উত্তম চৌধুরী বলেন, আজ সকালে আমাদের উৎপাদন প্রাথমিকভাবে শুরু হয়েছে। গত মাসের শেষের দিকে আমরা গ্যাস পেলেও কারিগরি ত্রুটির কারণে তাৎক্ষণিকভাবে উৎপাদনে ফিরতে পারিনি। এরপর একে একে সব যন্ত্রপাতি সচল করার চেষ্টা করা হয়েছে। আশা করি, আগামীকালের মধ্যে কারখানাটি পুরোপুরি ত্রুটিমুক্ত ও স্বাভাবিক অবস্থায় আসবে।
সিইউএফএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মিজানুর রহমান বলেন, দীর্ঘ প্রায় ছয় মাস পর তারা উৎপাদনে ফিরেছেন। দীর্ঘ সময় উৎপাদন বন্ধ থাকায় যে ক্ষতি হয়েছে, নিয়মিত উৎপাদনের মাধ্যমে তা অল্প সময়ের মধ্যেই পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে বলে আশাবাদী।
