৮০ বছরের অসহায় বৃদ্ধের পাশে বিএনপি নেতা হযরত আলী

প্রকাশ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৫৩ পিএম

বয়সের ভারে নুয়ে পড়া শরীর। পাশে ৭০ বছরের স্ত্রী। ঘরে অসুস্থ মানুষ, প্রতিবন্ধী সন্তান। চুলায় খাবার নেই, হাতে চিকিৎসার টাকা নেই। অভাবের এই সংসারে দিনের পর দিন কেটে যাচ্ছিল অনাহার-অর্ধাহারে। শেষ পর্যন্ত অসহায় ৮০ বছরের সাজু সেখের কণ্ঠ থেকে বেরিয়ে আসে একটি আকুতি— ‘আল্লাহ, আমাকে খাবার দাও। আমার স্ত্রীকে নিয়ে বিপদে আছি।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সেই আকুতি নাড়া দেয় অনেককে। খবরটি পৌঁছে যায় শেরপুর জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ্ব হযরত আলীর কাছে। এরপর গভীর রাতেই অসহায় পরিবারটির বাড়িতে ছুটে যান তিনি।

শেরপুর সদর উপজেলার কামারিয়া ইউনিয়নের খুনুয়া গ্রামের সাজু সেখ ও তার স্ত্রী নুরজাহানের জীবনে অভাব অবশ্য নতুন নয়। দীর্ঘদিন ধরেই মানবেতর জীবনযাপন করছিল পরিবারটি। সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিও গুরুতর অসুস্থ। তার ওপর শারীরিক প্রতিবন্ধী এক সন্তান।

ফলে পরিবারের নিত্যদিনের খাবার জোগাড় করাটাই হয়ে উঠেছিল কঠিন। এর মধ্যে পরিবারের একমাত্র নারী সদস্য ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। স্বজন হারানোর শোকের সঙ্গে যোগ হয় সংসার চালানোর দুশ্চিন্তা। অসুস্থ স্বামী ও প্রতিবন্ধী সন্তানকে নিয়ে আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়ে নুরজাহানের জীবন। এমন অবস্থায় বৃদ্ধ সাজু সেখের সেই আকুতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে তার কণ্ঠে ছিল অসহায়ত্বের ছাপ।

খাবারের জন্য একজন বৃদ্ধ মানুষের এমন আকুতি দেখে বিষয়টি নজরে আসে হযরত আলীর। খবর পাওয়ার পর অপেক্ষা করেননি তিনি। গভীর রাতেই চলে যান ওই পরিবারের বাড়িতে। সেখানে গিয়ে বৃদ্ধ দম্পতির সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের কষ্টের কথা শোনেন। একপর্যায়ে অসুস্থ গৃহকর্তাকে নিজের হাতে খাবার খাইয়ে দেন।

পরে পরিবারের হাতে তুলে দেন তাৎক্ষণিক আর্থিক সহায়তা, খাবার ও প্রয়োজনীয় ওষুধ। পরিবারটির জন্য আরও সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। অসুস্থ গৃহকর্তা ও প্রতিবন্ধী সন্তানের নিয়মিত ওষুধ এবং পুষ্টিকর খাবারের ব্যবস্থা করার কথাও জানান। পাশাপাশি পরিবারের জরুরি খরচ বহনের প্রতিশ্রুতি দেন।

তবে অসহায় এই পরিবারের জন্য সহায়তার হাত বাড়িয়েছে আরও একটি মানুষ। হযরত আলীর মেয়ে ও সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্য সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা পরিবারটিকে একটি হুইলচেয়ার উপহার দিয়েছেন। চলাচলে সমস্যায় থাকা পরিবারের সদস্যদের জন্য এটি কিছুটা স্বস্তি আনবে বলে জানান স্থানীয়রা।

স্থানীয়রা জানান, খুনুয়া গ্রামের এই পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরেই চরম অভাবের মধ্যে রয়েছে। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বৃদ্ধ সাজু সেখের আকুতির ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর তাদের দুর্দশা নতুন করে মানুষের সামনে আসে। এরপর সহায়তা নিয়ে এগিয়ে আসেন হযরত আলী।

জানতে চাইলে সংসদ সদস্য সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বৃদ্ধ সাজু সেখ ও তার পরিবারের অসহায়ত্বের কথা জানতে পেরে খুবই কষ্ট পেয়েছি। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমার বাবা তার বাসায় ছুটে গেছে। আর্থিক সহায়তা দিয়েছে। আমি তাকে একটি হুইল চেয়ার উপহার দিয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘মানবিক দায়বদ্ধতা থেকেই তাদের পাশে দাঁড়িয়েছি। তবে এটিই শেষ নয়, পরিবারের প্রয়োজন অনুযায়ী ভবিষ্যতেও আমি ও আমার পরিবার তাদের পাশে থাকবে। শুধু ওই একটি মাত্র পরিবারেই নয় শেরপুরবাসীর যেকোনো প্রয়োজনে, বিপদে আপদে আমি ও আমার পরিবার সবসময় তাদের পাশে রয়েছি।’

বাংলাদেশ চিত্র অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন