বগুড়ায় ১০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগে গড়ে উঠবে পুণ্ড্র ইকোনমিক জোন

বাংলাদেশ চিত্র
প্রকাশ : ২০ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৮:০৯ এএম

Valo Sangbadপাঁচ হাজারের বেশি মানুষের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগে একটি বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলছে ঠেঙ্গামারা মহিলা সবুজ সংঘ (টিএমএসএস) ও এর অঙ্গপ্রতিষ্ঠান বিল্ডিং কনস্ট্রাকশন লিমিটেড (বিসিএল)।

পাঁচ হাজারের বেশি মানুষের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগে একটি বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলছে ঠেঙ্গামারা মহিলা সবুজ সংঘ (টিএমএসএস) ও এর অঙ্গপ্রতিষ্ঠান বিল্ডিং কনস্ট্রাকশন লিমিটেড (বিসিএল)। ‘প্রাইভেট পুণ্ড্র ইকোনমিক জোন’ নামের শিল্পাঞ্চলটি সরকারি অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে, যা উত্তরাঞ্চলের অর্থনৈতিক চিত্র পাল্টে দিতে পারে। এটি সম্পূর্ণভাবে চালু হলে আন্তর্জাতিক মানের গ্লাস, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ও ভেষজ তেল উৎপাদন কারখানা, ফিডমিল ও লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্পসহ বিভিন্ন ধরনের শিল্প-কারখানা গড়ে উঠবে।

জানা যায়, ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের পাশে বগুড়ার গোকুল এলাকায় প্রায় ৪০০ বিঘা জমি নিয়ে উত্তরাঞ্চলের প্রথম বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার কাজ শুরু হয় ২০২১ সালে। তবে আরো ১০০ বিঘা ক্রয়ের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। সে ক্ষেত্রে শিল্পাঞ্চলটির মোট জমির পরিমাণ দাঁড়াবে ৫০০ বিঘায়।

প্রাইভেট পুণ্ড্র ইকোনমিক জোনের সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তারা বলছেন, দেশের বড় বড় কোম্পানি ও ব্যবসায়ী গ্রুপগুলো এখানে শিল্প-কারখানা স্থাপনের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী, এ অর্থনৈতিক অঞ্চলে প্রাথমিকভাবে দুই হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্রয়োজন। নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই পিএলসি (নেসকো) চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। তবে এখানে শিল্পায়ন দ্রুত করতে হলে দরকার গ্যাস। বিষয়টি নিয়ে এরই মধ্যে আলোচনা চলছে।

জানা গেছে, এ অর্থনৈতিক অঞ্চলে প্রায় ১২০০ কোটি টাকা বিনিয়োগে একটি কারখানা স্থাপন করেছে বিসিএল গ্লাস ইন্ডাস্ট্রিজ। গ্যাস সংযোগ পাওয়া মাত্রই কারখানাটি উৎপাদনে যাওয়ার কথা রয়েছে।

বিসিএল গ্লাসের উপ-মহাব্যবস্থাপক আবিদ হোসাইন জানান, ‘এ কারখানায় ১ থেকে ১০ মিলিমিটার পুরুত্বের বিভিন্ন ধরনের গ্লাসের পাশাপাশি রঙিন গ্লাসও তৈরি করা হবে, যা আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ও রফতানি উপযোগী। প্রাথমিকভাবে এখানে অন্তত এক হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থান হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘উৎপাদনে যাওয়ার জন্য সার্বিক প্রস্তুতি এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। ভবিষ্যতে মিরর প্লান্ট, টেম্পারিং প্লান্ট ও ফ্লোট গ্লাসের পাশাপাশি গাড়িতে ব্যবহৃত বিভিন্ন ধরনের গ্লাস উৎপাদনের পরিকল্পনাও রয়েছে।

শিল্পাঞ্চলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এখানে বিভিন্ন শিল্প-কারখানার জন্য গ্যাসের প্রাথমিক চাহিদা দেড় লাখ কিউবিক মিটার ধরা হয়েছে। তবে বিসিএল গ্লাস ইন্ডাস্ট্রিজের কারখানাটি চালু করতেই প্রয়োজন ৫০ হাজার কিউবিক মিটার গ্যাস।

বগুড়ার শিল্প-মালিক ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, শিল্পাঞ্চলটিতে পর্যাপ্ত শ্রম সুবিধা, নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সুবিধা এবং স্বল্পমূল্যে শিল্প অবকাঠামো গড়ে তোলার মতো জায়গা সহজলভ্য হওয়ায় উদ্যোক্তাদের মধ্যে আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। সেই সঙ্গে রয়েছে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, বিশেষত সরাসরি সড়ক ও রেল সুবিধা। এছাড়া বিমানবন্দর নির্মাণের কাজও এগিয়ে চলেছে। এসব সুবিধার কারণে এখানে ট্যানারি, রড-সিমেন্ট, মোটরবাইক ও গাড়ি তৈরির কারখানা স্থাপন করতে চান উদ্যোক্তা।

বগুড়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সাইরুল ইসলাম বলেন, ‘শিল্পনগরী বগুড়ায় এখনো কোনো অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে ওঠেনি। এছাড়া দুটি বিসিক শিল্পনগরীতে স্থান সংকুলানের অভাবে শিল্পোদ্যোক্তারা আসতে পারছেন না, সে ক্ষেত্রে এ ইকোনমিক জোন শিল্পের বিকাশে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। তবে এজন্য শিল্পোদ্যোক্তাদের স্বার্থও রক্ষা করতে হবে।’

প্রস্তাবিত এ প্রকল্প অনুমোদনের জন্য শিল্প মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ৭ নভেম্বর মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি দল প্রস্তাবিত এলাকাটি পরিদর্শন করে। টিএমএসএস কর্তৃপক্ষ আশা করছে, কিছুদিনের মধ্যেই সরকারি অনুমোদন পাওয়া যাবে।

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প সংস্থা (বিসিক) বগুড়ার উপ-মহাব্যবস্থাপক একেএম মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘জায়গা পেলে বগুড়ায় এখনই দেড় হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ সম্ভব। শিল্প-কারখানা স্থাপনের জন্য সহজ শর্তে জমি ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে এখানে বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে। আর কর্মসংস্থান হবে স্থানীয় হাজার হাজার শ্রমিকের।’



ভালো সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে গুগল নিউজ ফিডটি অনুসরণ করুন


Google News

বাংলাদেশ চিত্র অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সর্বশেষ সব খবর