২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে বাংলাদেশ থেকে শ্রম অভিবাসন বেড়েছে। তবে, ২০২২ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে নারী অভিভাসন উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। অন্যদিকে ৯০ ভাগ বাংলাদেশি কর্মী মাত্র ৫টি দেশে অভিভাসিত হয়েছেন বলে এক গবেষণা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিট (রামরু)’ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ বার্ষিক গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। ‘আন্তর্জাতিক শ্রম অভিবাসনের গতি-প্রকৃতি ২০২৫: অর্জন ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনটি তুলে ধরেন রামরুর ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক ড. তাসনিম সিদ্দিকী।
তিনি বলেন, ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে বাংলাদেশ থেকে শ্রম অভিবাসনের সংখ্যা প্রায় ১২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৫ সালে মোট ৬২, হাজার ৩১৭ জন নারী কর্মী বিদেশে গেছেন যা মোট অভিবাসনের প্রায় ৫.৫ শতাংশ। তবে ২০২২ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে নারী অভিবাসনের সংখ্যা প্রায় ৪০.৯ শতাংশ কমেছে। গন্তব্য দেশের দিক থেকে দেখা যায়, কার্যত প্রায় ৯০ ভাগ বাংলাদেশি কর্মী মাত্র ৫টি দেশে অভিবাসিত হয়েছেন এবং মোট অভিবাসীর ৬৭ শতাংশ (৭ লাখ ৫৪ হাজার ৩৬৯ জন) সৌদি আরবে গেছেন।
তিনি বলেন, রেমিট্যান্স প্রবাহে ২০২৫ সালে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা গেছে। এই বছরে রেমিট্যান্স দাঁড়িয়েছে ৩২.৮২ বিলিয়ন ডলার।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে প্রথমবারের মতে অভিবাসী বাংলাদেশিদের বিদেশে অবস্থানরত অবস্থায় ভোট দেওয়ার সুযোগ তৈরির বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত মোট ১১ লাখ ১৮ হাজার ৩৪৪ জন অভিবাসী পোস্টাল ভোটিংয়ে অংশগ্রহণের জন্য নিবন্ধিত হয়েছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বাজেটে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের জন্য বরাদ্দ বিগত অর্থবছরের চেয়ে এবার বাজেট কমিয়ে আনা হয়েছে। গতবছর ১ হাজার ১৪০ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল এবার সেটা ৮৫৫ কোটি টাকা। যেখানে অর্থনীতি বিষয়ক শ্বেতপত্রে অভিবাসন খাতে বাজেট বরাদ্দ ০.০৮ শতাংশ থেকে ১ শতাংশে বাড়িয়ে আনার সুপারিশ করা হয়েছিল।
অনিয়মিত অভিবাসনের ক্ষেত্রে বড় ঝুঁকির বিষয়টি উল্লেখ করে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত ১৫ হাজার ৪৭৬ জন বাংলাদেশি অভিবাসী সমুদ্রপথে ইতালির উপকূলে পৌঁছেছেন। যা চলতি বছরে ইতালিতে আগত দেশগুলোর অভিবাসীদের মধ্যে সর্বোচ্চ এবং গত বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। অভিবাসন খাতে সুশাসন নিশ্চিত করতে বিএমইটি ও মন্ত্রণালয়ের কাঠামোগত সংস্কার, অনিয়ম ও অতিরিক্ত ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং রিক্রুটিং এজেন্সির কঠোর তদারকি প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন তাসনিম সিদ্দিকী।
সংবাদ সম্মেলনে বিশিষ্ট আলোকচিত্রী ও লেখক ড. শহিদুল আলম বলেন, ‘অভিবাসীদের শুধু সংখ্যার হিসেবে নয়, মানুষ হিসেবে দেখতে হবে। যে অভিবাসীদের থেকে সরকার আয় করে, তাদের জীবন সহজ করার জন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেই। অথচ আমরা বৈষম্যহীন দেশের স্বপ্ন দেখি।’
তিনি আরও বলেন, ‘অভিবাসীদের ভোটগ্রহণের জন্য আমরা এখনো পোস্টাল ব্যালটের কথা বলছি, যা ডিজিটাল যুগের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।’
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন রামরুর প্রোগ্রাম ডিরেক্টর মেরিনা সুলতানা, প্রজেক্ট ম্যানেজার রাবেয়া নাসরিন, সিনিয়র আইটি অ্যান্ড কমিউনিকেশন অফিসার পারভেজ আলম, লিগ্যাল অফিসার মাহমুদুল হাসান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোহাম্মদ রাশেদ আলম।
