৯৮ সেবাখাতে জাপানের বিনিয়োগ প্রত্যাশা করে বাংলাদেশ

বাংলাদেশ চিত্র
প্রকাশ : ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৬:৫৬ পিএম

অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তির (ইপিএ) মাধ্যমে বাংলাদেশ ৯৮টি সেবাখাতে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার দিয়েছে জাপানকে। একইসঙ্গে জাপান বাংলাদেশের জন্য ১২০টি সেবাখাতে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার দিয়েছে। এতে করে বাংলাদেশের সেবাখাতে জাপানের ভালো বিনিয়োগ আসবে বলে মনে করছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান বলেন, জাপান আমাদের জন্য ১২০টি সেবা খাত উন্মুক্ত করেছে। আমরা ৯৮টা সেবা খাত উন্মুক্ত করতে পেরেছি। আগে যেখানে শুধু ৫ তারকা হোটেল ও মোবাইল ফোনের দুটি খাত উন্মুক্ত ছিল। এক্ষেত্রে আমরা আশা করছি জাপানের ভালো বিনিয়োগ পাবো আমরা।

আজ সোমবার সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জাপানের সঙ্গে গত ৬ তারিখ স্বাক্ষর হওয়া ইপিএ চুক্তির নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। এতে এসব কথা জানানো হয়। এ সময় বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।

বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান বলেন, জাপানের সঙ্গে এটা বাংলাদেশের প্রথম অর্থনৈতিক সহযোগীতা চুক্তি। এই চুক্তির মাধ্যমে ১ হাজার ৩৯ টা পণ্য স্বাক্ষরের প্রথম দিন থেকেই উন্মক্ত প্রবেশাধিকার দেওয়া হয়েছে। জাপান আমাদের ৭ হাজার ৩৭৯টি পণ্যে প্রবেশাধিকার দিয়েছে। আমরা আরও কিছু পণ্যে তাদের প্রবেশাধিকার দেব। এই প্রবেশাধিকারেগুলো ৫ থেকে ১৫ বছরে ধাপে ধাপে। এটা হচ্ছে ট্রেডিং অংশ।

তিনি বলেন, চুক্তির একটি বিশেষ দিক আছে গার্মেন্টস পণ্য নিয়ে। গার্মেন্টেসের ক্ষেত্রে আমরা এখনো শুল্ক মুক্ত প্রবেশাধিকার পাই। এই চুক্তির পরও আমরা এক ধাপ মূল্য সংযোজন করে আমরা রপ্তানি করতে পারব, যেটা আগেও পেয়েছি। কাপড় আমদানি করে পোশাক তৈরি করে রপ্তানি করা যাবে।

সচিব বলেন, উন্নত কোন দেশের সঙ্গে প্রথম কোন ইপিএ এবং এটা সুবিধাজনক একটি চুক্তি হয়েছে। অনেকগুলো বিষয়ে আমরা সহজ শর্তে আমরা সুবিধা নিতে পেরেছি। যাতে দুদেশের মধ্যে ব্যবসা বাণিজ্য বাড়বে এবং জাপানের বিনিয়োগ বাড়বে।

তিনি জানান, জাপানের পার্লামেন্টের প্রথম অধিবেশনেই এটি উঠার কথা এবং সেখানে অনুমোদিত হলেই এটা কার্যকর হয়ে যাবে। আমাদের দিক থেকে তাড়াহুড়া নেই এই কারণে যে, আমরা এলডিসি ভুক্ত দেশ হিসেবে এখনই এই সুবিধা পাচ্ছি।

এদিকে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, দ্বিপাক্ষিক চুক্তির মাধ্যমে বিভিন্ন অর্থনীতির সঙ্গে সংযুক্ত হতে হয়। এই উদ্দেশ্যে ২০২৬ সালের নভেম্বরে (এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের পর) মার্কেট প্রবেশাধিকারে যে ব্যত্যয়গুলো তৈরি হতে পারে সেগুলোকে আমলে নিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সহ সকলে মিলে একটা চুক্তি করতে পেরেছি।

তিনি বলেন, বাণিজ্য সচিব এতে নেতৃত্ব দিয়েছেন। নেগোসিয়েশনে বড় একটি টিম কাজ করেছে কোন কোন ক্ষেত্রে এটা ১০০ থেকে ১৫০ জন লোক একসঙ্গে কাজ করেছেন। আমরা ২১টা উপখাত নিয়ে আলোচনা করেছি।

উপদেষ্টা বলেন, বাণিজ্যকে উদার করার ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীরা যদি সক্ষমতা বাড়াতে না পারে, তাহলে সেটা বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে। এই উদার বাণিজ্য থেকে দেশের ভোক্তারা সুবিধাভোগী হবেন।

বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, জাপান পৃথিবীর পাঁচটা বড় অর্থনীতির একটা এবং আমরা পৃথিবীর এত বড় একটা অর্থনীতির সাথে যুক্ত হতে পেরেছি। ভারত এটা নিয়ে প্রায় ১৫ থেকে ২০ বছর চেষ্টা করে একটা পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট করতে পেরেছে। সেটা আমরা এক বছরের সময়কালের মধ্যে এরকম একটা চুক্তি করেছি। যার ফলে জাপান সঙ্গে বাংলাদেশের একটা ঐতিহাসিক ঘটনা ঘটেছে। এতে করে আমাদের একটা অর্থনীতির উদারীকরণের সম্ভাবনা তৈরি হলো।

বাংলাদেশ চিত্র অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সর্বশেষ সব খবর