রপ্তানি বাজার সুরক্ষায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের আশ্বাস পেল বাংলাদেশ

বাংলাদেশ চিত্র
প্রকাশ : ৩০ মার্চ ২০২৬, ১২:২৩ পিএম

বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার ১৪তম মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনের (MC14) সাইডলাইনে রবিবার (২৯ মার্চ) বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। অন্যদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষে নেতৃত্ব দেন কমিশনার মারোস সেফকোভিচ। বৈঠকে বাংলাদেশের বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমানসহ উভয় পক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকের শুরুতেই বাণিজ্যমন্ত্রী বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করার বিষয়ে সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, বর্তমান সরকার বৈশ্বিক ভ্যালু চেইনে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি বৃদ্ধি এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে দূরদর্শী পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। এই উদ্যোগগুলো দেশের টেকসই বাণিজ্যনির্ভর প্রবৃদ্ধিকে আরও ত্বরান্বিত করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বাংলাদেশের আসন্ন স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণ প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে বিশেষ অনুরোধ জানান। তিনি রপ্তানি সক্ষমতা বজায় রাখা এবং সম্ভাব্য অর্থনৈতিক ঝুঁকি এড়ানোর লক্ষ্যে প্রস্তুতিমূলক সময়সীমা আরও ৩ বছর বাড়ানোর প্রস্তাব দেন। একইসঙ্গে বাংলাদেশের প্রধান তৈরি পোশাক রপ্তানি বাজার হিসেবে ইইউ-এর সঙ্গে দ্রুত একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সইয়ের জন্য আলোচনার আনুষ্ঠানিক উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।

বাণিজ্যিক অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি সম্পন্ন করেছে। এছাড়া দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বেশকিছু দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি এবং ব্যাপক অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলমান রয়েছে। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী বাংলাদেশের শ্রম খাতের সংস্কার কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির কথাও তিনি উল্লেখ করেন এবং জানান যে, সংশোধিত শ্রম আইন দ্রুতই প্রণয়ন করা হবে।

বাংলাদেশের এসব প্রস্তাব ও সংস্কার কার্যক্রমের বিষয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে। ইইউ প্রতিনিধিদল বাংলাদেশের শ্রম খাতের অগ্রগতির প্রশংসা করেন এবং এলডিসি উত্তরণ সংক্রান্ত সময় বৃদ্ধির অনুরোধটি গুরুত্বের সাথে বিবেচনার আশ্বাস দেন। প্রস্তাবিত এফটিএ বিষয়ে তারা জানান, প্রয়োজনীয় অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া এবং মূল্যায়ন শেষে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

বৈঠকের শেষ পর্যায়ে উভয় পক্ষই বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সমতা, স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ইউরোপীয় ইউনিয়ন একটি ভারসাম্যপূর্ণ বাণিজ্যিক সম্পৃক্ততার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে, আর বাংলাদেশ সকল অংশীদারের জন্য বৈষম্যহীন আচরণ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেয়। ভবিষ্যতে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও সংস্কার কার্যক্রম নিয়ে নিবিড় যোগাযোগ বজায় রাখার বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হয়ে বৈঠক শেষ করেন।

বাংলাদেশ চিত্র অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সর্বশেষ সব খবর