মুরাদনগরে ধর্মমন্ত্রীর নির্বাচনী সভায় বক্তব্য দেওয়ায় ইমামকে চাকরিচ্যুত করলো জামায়াত নেতা

বাংলাদেশ চিত্র
প্রকাশ : ৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৪৪ পিএম

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ এর নির্বাচনী সভায় বক্তব্য দেওয়ায় মাওঃ আব্দুর রহমান আল-মুজাফফার নামে এক ইমামকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।

গত ২৮ মার্চ রবিবার যোহর নামাজের পর কোনো নোটিশ ছাড়াই তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেন মসজিদের সেক্রেটারি জামায়াত নেতা ডাঃ আবু হানিফ।

বিষয়টি নিশ্চিত করে মাওলানা আব্দুর রহমান আল মুজাফফার বলেন এছাড়াও মুরাদনগর বড় মাদরাসার মুতাওয়াল্লী, ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ এর নির্বাচনী সভায় বক্তব্য দেওয়াকে কেন্দ্র করে তাকে অগ্রীম নোটিশ ছাড়া গত ৪ ফেব্রুয়ারি এশার নামাজের সময় জামায়াত নেতা মোঃ সুন্দর আলী কর্তৃক তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছিল।

বিষয়টি নিয়ে এলাকা জুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হলে মসজিদ কর্তৃপক্ষ বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে। রমজান মাসেও ইমাম সাহেবের প্রতি জামায়াত নেতা ডাঃ আবু হানিফ ও সুন্দর আলী বিভিন্ন ষড়যন্ত্রের প্রভাব বিস্তার করে। পরবর্তীতে জামায়াত নেতা ডাঃ আবু হানিফ ও সুন্দর আলী ইমাম সাহেবের প্রতি বিভিন্ন ষড়যন্ত্র করে এলাকার সাধারণ মুসল্লিদেরকে ভুল ম্যাসেজ দিয়ে গত ২৮ মার্চ রবিবার যোহরের নামাজের পর ইমামকে অযৌক্তিক বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে বিনা নোটিশে চাকরিচ্যুত করেন।

২০২৪ সাল জুন মাস থেকে উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের ছিলমপুর পূর্ব মধ্যপাড়া জামে মসজিদে ইমাম হিসেবে যোগদান করেন মাওঃ আব্দুর রহমান আল-মুজাফফার। এছাড়াও তিনি ধর্মমন্ত্রী কায়কোবাদ এর পরিচালিত প্রতিষ্ঠান মুরাদনগর বড় মাদরাসা মহিলা শাখার সিনিয়র শিক্ষক।

এর আগে গত ১ ফেব্রুয়ারি থেকে এলাকার বিভিন্ন নির্বাচনী সভায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি মনোনীত প্রার্থী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ এর নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দেন মাওলানা আব্দুর রহমান আল-মুজাফফার। এই জনসভার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় বলে জানান তিনি।

মাওলানা আব্দুর রহমান আল-মুজাফফার জানান, গত ২ বছর থেকে আমি এই মসজিদে ইমামতি করে আসছি। কখনো কারোর সাথে আমার কোনো ধরনের সমস্যা হয়নি। মাননীয় ধর্মমন্ত্রীর নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দেওয়াকে কেন্দ্র করে আমাকে বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে মসজিদের ইমামতি থেকে বাদ দেয়া হয়েছে। নির্বাচনের সময় বিভিন্ন চাপ প্রয়োগ প্রসঙ্গে ধর্মমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ ও তার ছোট ভাই কাজী শাহ আরফিনকে আমি বিস্তারিত জানাই। যার কারণে আমাকে তাৎক্ষণিক বিদায় না দিয়ে গত ২৮ মার্চ রবিবার এশার নামাজের পর মসজিদের সেক্রেটারি জামায়াত নেতা ডাঃ আবু হানিফ আমাকে জানিয়ে দিয়েছেন, ১ লা এপ্রিল বুধবার এর মধ্যে আমাকে মসজিদ থেকে বিদায় নিয়ে চলে যেতে। আমি ১ মাস সময় সুযোগের দাবি জানাইলেও আমাকে এক মাসের সুযোগ দেয়নি জামায়াত নেতা ডাঃ আবু হানিফ।

বাংলাদেশ চিত্র অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সর্বশেষ সব খবর