৪৮১ ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার গেজেট বাতিল

বাংলাদেশ চিত্র
প্রকাশ : ৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৩৮ পিএম

বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় রাজনৈতিক বিবেচনায় তালিকাভুক্ত হওয়া ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমদ আজম খান।

তিনি জানান, যাচাই-বাছাইয় করে ইতোমধ্যে ৪৮১ জন অমুক্তিযোদ্ধার গেজেট বাতিল করা হয়েছে।

জাতীয় সংসদে দেওয়া এক নোটিশের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য জানান। 

রবিবার (৫ এপ্রিল) সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল মালিকের ৭১ বিধিতে দেওয়া জনগুরুত্বসম্পন্ন নোটিশের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী জানান, গত বছরের আগস্ট থেকে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত সারাদেশে তদন্ত ও যাচাই-বাছাই করে ৪৮১ জন অমুক্তিযোদ্ধার গেজেট বাতিল করা হয়েছে। তিনি বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধারা দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান। ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা বলতে আসলে কিছু নেই, তবে কিছু সুযোগসন্ধানী ব্যক্তি অসাধু উপায়ে তালিকায় ঢুকে পড়েছে। এদের চিহ্নিত করার কাজ একটি চলমান প্রক্রিয়া। জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) উপকমিটি অভিযোগের ভিত্তিতে নিয়মিত শুনানি ও যাচাই-বাছাই করছে। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া মাত্রই তাদের সনদ ও গেজেট বাতিল করা হবে।

সিলেট অঞ্চলের মুক্তিযোদ্ধাদের অবদানের কথা স্মরণ করে আহমেদ আজম খান জানান, মহান মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল এম এ জি ওসমানী এবং সাবেক নৌবাহিনী প্রধান মাহবুব আলী খানের স্মৃতিবিজড়িত এই অঞ্চলের মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তিনি আরও জানান, প্রবাসে অবস্থানরত যেসব মুক্তিযোদ্ধা এখনো ডিজিটাল সনদ বা স্মার্ট আইডি পাননি, তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে দ্রুততম সময়ে তা প্রদানের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দক্ষিণ সুরমা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের কাজ চলছে, দ্রুত হস্তান্তর করা হবে। এছাড়া বালাগঞ্জ ও ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স নির্মাণ ও সংস্কারের বিষয়টিও সরকারের পরিকল্পনায় রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং প্রথম নারী মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে পরিচিত নেত্রী খালেদা জিয়ার আদর্শে বর্তমান সরকার পরিচালিত হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধাদের যথাযথ সম্মান ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে আমরা বদ্ধপরিকর।

সংসদ সদস্য আব্দুল মালিক তার নোটিশে অভিযোগ করেন, বিগত ১৫ বছরে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা অবহেলিত ছিলেন এবং অনেক অসাধু ব্যক্তি ভুয়া তথ্য দিয়ে তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করে রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেছেন। বিশেষ করে সিলেটের বালাগঞ্জ ও দক্ষিণ সুরমার মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে এর ব্যাপক প্রভাব পড়েছে।

 

বাংলাদেশ চিত্র অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন