গাজীপুরের শ্রীপুরে অস্ত্র ঠেকিয়ে ঘরের দরজা ভেঙে বাড়ির লোকজনদের জিম্মি করে এক ছাত্রীকে অপহরণ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া পরিবারের সদস্যদের মারধর করে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটের অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা হাদিউল ইসলাম (৪৩) ১০ জনের নাম উল্লেখ করে থানায় মামলা করেছেন।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বিকালে ইমামের মেয়েকে দ্রুত উদ্ধারের দাবিতে আলেম-ওলামাদের বিভিন্ন সংগঠনের কয়েকজন নেতাকর্মী শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে প্রতিবাদ সভা করেছেন।
সভায় শ্রীপুর উপজেলা ইসলামী ঐক্যজোটের সভাপতি মুফতি শামীম আহমেদ বলেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইমামের মেয়েকে উদ্ধার করে তার বাবার কোলে ফিরিয়ে দিতে হবে, অন্যথায় কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। তিনি একজন বাবার কোল থেকে তার সন্তানকে অস্ত্রের মুখে অপহরণ করে নেওয়ার ঘটনা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
স্থানীয় সূত্র জানায়, একই এলাকার সুরুজ মিয়ার পুত্র আবিদ (২১) দীর্ঘদিন ধরে তাকে উত্ত্যক্ত করছিল এবং বিভিন্ন সময় কুপ্রস্তাব দিত। পরিবার থেকে একাধিকবার নিষেধ করা সত্যেও সে তা না মেনে একপর্যায়ে ইমাম পরিবারকে হুমকি ও তার মেয়েকে অপহরণের হুমকিও দেয়।
গত ১৪ এপ্রিল সকাল ৮টার সময় ইমামের মেয়ে মাদ্রাসায় যাওয়ার পথে মাওনা ফায়ার সার্ভিস সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছলে আবিদ ও তার সহযোগীরা তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। পরে স্থানীয়দের চাপের মুখে পরদিন ১৫ এপ্রিল সকাল ১০টার দিকে তাকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয়। তবে একই দিন বেলা ১১টার দিকে ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়ভাবে সালিশে বসলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
এ সময় আবিদ ও সুমিতসহ প্রায় ১০ জনের একটি দল এবং আরও ২৫ থেকে ৩০ জন অচেনা ব্যক্তি ধারাল অস্ত্র নিয়ে হাদিউল ইসলামের বাড়িতে হামলা চালায়। তারা ঘরের দরজা ভেঙে ওই মেয়েকে টেনে-হেঁচড়ে বাইরে নিয়ে যায় এবং অস্ত্রের মুখে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে প্রাণনাশের হুমকি দেয়।
ঘটনার সময় জাতীয় জরুরি সেবার ৯৯৯ নম্বরে কল করা হলেও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই অভিযুক্তরা ছাত্রীকে নিয়ে পালিয়ে যায়।
ওই ছাত্রীর বাবা বলেন, মেয়েকে আগে থেকেই উত্ত্যক্ত করা হচ্ছিল। নিষেধ করলেও তারা শোনেনি। গত ১৪ এপ্রিল প্রথমে অপহরণ করে নিয়ে যায়, পরে গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে ফেরত না হয়। এ সময় এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে সালিশি বৈঠক হয়। সালিশ বৈঠক শেষ হওয়ার পূর্বেই সালিশকারীদের উপস্থিতিতেই তারা অস্ত্রসহ অতর্কিত হামলা চালিয়ে আমার ঘরের দরজা ভেঙে আমার মেয়েকে পুনরায় তুলে নিয়ে যায়। আমরা প্রাণভয়ে কিছুই করতে পারিনি। ৪৮ ঘণ্টা পার হয়ে গেছে, এখনো মেয়েকে উদ্ধার করা হয়নি।
শ্রীপুর পৌর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য শাহজাহান সজল বলেন, ওই মেয়েকে তুলে নেওয়ার সময় আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম। প্রথমবার তুলে নিয়ে যাওয়ার পর শ্রীপুর পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শাহাদাত হোসাইন পাপ্পুসহ কয়েকজন নেতাকর্মীর সহায়তায় উদ্ধার করা হয়েছিল। বিষয়টি সমঝোতার জন্য আমরা সালিশ বৈঠকে বসেছিলাম। বিষয়টি সমঝোতার পূর্বেই হট্টগোল লেগে যায় এবং পুনরায় অপহরণ করে নিয়ে যায়। তবে বিষয়টি খুব দুঃখজনক বলে তিনি দাবি করেন।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাছির আহমেদ বলেন, এ ঘটনায় সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মূল আসামি এবং ভিকটিমকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।
