অ্যাপলের সিইও’র পদে বসতে যাওয়া কে এই টার্নাস?

বাংলাদেশ চিত্র
প্রকাশ : ২১ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:০৪ পিএম

 সংগৃহীত ছবি
অ্যাপলের শীর্ষ নেতৃত্বে বড় ধরনের পরিবর্তনের ঘোষণা এসেছে। দীর্ঘ দেড় দশক ধরে বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যাপলকে নেতৃত্ব দেওয়ার পর সিইও পদ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন টিম কুক। তার স্থলাভিষিক্ত হতে যাচ্ছেন কোম্পানির দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত সঙ্গী এবং হার্ডওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট জন টার্নাস। ২০২৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে এই পরিবর্তন কার্যকর হবে বলে অ্যাপল কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।

টিম কুক একেবারে বিদায় নিচ্ছেন না বরং তিনি অ্যাপলের বোর্ড অব ডিরেক্টরসের এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যান হিসেবে নতুন দায়িত্ব পালন করবেন। ২০২৬ সালের ১ নভেম্বর ৬৫ বছরে পা দেবেন কুক। ২০১১ সালে স্টিভ জবসের উত্তরসূরি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তার অধীনে অ্যাপল অভাবনীয় ব্যবসায়িক সাফল্য অর্জন করেছে। এবার তিনি টার্নাসের সাথে মিলে এক মসৃণ রূপান্তর প্রক্রিয়ায় কাজ করবেন এবং বৈশ্বিক নীতিনির্ধারকদের সাথে যোগাযোগের বিষয়টি দেখাশোনা করবেন।

নতুন সিইও হিসেবে মনোনীত হওয়া ৫০ বছর বয়সী জন টার্নাস ২০০১ সালে অ্যাপলে যোগ দিয়েছিলেন। গত ২৫ বছরে তিনি কোম্পানির ভেতর নিজের মজবুত অবস্থান তৈরি করেছেন। বিশেষ করে অ্যাপলের ম্যাক কম্পিউটারের বিক্রি বৃদ্ধি এবং এর বাজার সম্প্রসারণে টার্নাসের ভূমিকা অনবদ্য। বিদায়ী সিইও টিম কুক টার্নাসকে একজন দূরদর্শী নেতা হিসেবে অভিহিত করে বলেছেন, অ্যাপলকে আগামীর পথে এগিয়ে নেওয়ার জন্য তার চেয়ে যোগ্য ব্যক্তি আর কেউ হতে পারে না।

টার্নাসের কর্মজীবনের সবচেয়ে বড় সাফল্য ধরা হয় অ্যাপলের নিজস্ব সিলিকন চিপ বা এম-সিরিজ চিপে রূপান্তরের প্রক্রিয়াটিকে। তার নেতৃত্বে এই প্রযুক্তিগত পরিবর্তন ম্যাকবুক এবং আইপ্যাডের কার্যক্ষমতাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। এই অর্জন টার্নাসকে একজন দক্ষ প্রকৌশলী এবং দূরদর্শী পণ্য নকশাকার হিসেবে অ্যাপলের ভেতরে ও বাইরে ব্যাপক পরিচিতি এনে দিয়েছে। তাকে একজন শান্ত, নির্ভুল এবং সহযোগিতামূলক মানসিকতার নেতা হিসেবে বর্ণনা করেন তার সহকর্মীরা।

ইউনিভার্সিটি অফ পেনসিলভানিয়া থেকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক করা টার্নাস অ্যাপলে যোগ দেওয়ার আগে ভার্চুয়াল রিসার্চ সিস্টেমে কর্মরত ছিলেন। তিনি বিখ্যাত ডিজাইনার জনি আইভের অধীনে কাজ করে অ্যাপলের স্বর্ণালী সময়ের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। পরবর্তীতে তিনি আইফোন, আইপ্যাড এবং এয়ারপডসের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিভাগগুলোর দায়িত্ব দক্ষতার সাথে পালন করেছেন। তার এই দীর্ঘ অভিজ্ঞতা তাকে কোম্পানির মৌলিক দর্শনের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রেখেছে।

টিম কুকের শাসনামলে অ্যাপলের শেয়ারের দর প্রায় ১৮০০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। অ্যাপল পে, অ্যাপল ওয়াচ এবং অ্যাপল টিভি প্লাসের মতো সেবাগুলো তার হাত ধরেই জনপ্রিয় হয়েছে। কুকের দক্ষতা ছিল মূলত সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট এবং ব্যবসায়িক পরিচালনায়। অন্যদিকে টার্নাস পরিচিত তার পণ্য-কেন্দ্রিক চিন্তাধারা এবং কারিগরি প্রজ্ঞার জন্য। তাই অ্যাপল ভক্তরা আশা করছেন, তার নেতৃত্বে হার্ডওয়্যার উদ্ভাবনে নতুন কোনো বিপ্লব আসবে।

তবে টার্নাসের জন্য আগামী দিনগুলো খুব একটা সহজ হবে না। বর্তমানে আইফোনের বিক্রি কমে যাওয়া, বিশ্বজুড়ে নানা কঠোর রেগুলেটরি চাপ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে রয়েছে অ্যাপল। মিক্সড রিয়েলিটি বা ভার্চুয়াল রিয়েলিটির বাজারে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখা এবং নতুন কোনো বৈপ্লবিক পণ্য বাজারে আনা হবে তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। বিনিয়োগকারীদের আস্থা ধরে রাখার পাশাপাশি কোটি কোটি ব্যবহারকারীর প্রত্যাশা পূরণ করতে হবে তাকে।

গালফ নিউজ



ভালো সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে গুগল নিউজ ফিডটি অনুসরণ করুন


Google News

বাংলাদেশ চিত্র অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন