যুক্তরাজ্যের অর্থনীতিতে নতুন করে চাপ তৈরি করেছে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা ও ইরান যুদ্ধের প্রভাব। জ্বালানি মূল্য বৃদ্ধি, ব্যবসায়িক অনিশ্চয়তা এবং নিয়োগ কমে যাওয়ার কারণে দেশটিতে বেকারত্ব বেড়েছে এবং মজুরি বৃদ্ধির গতি কমে এসেছে।
যুক্তরাজ্যের জাতীয় পরিসংখ্যান দপ্তর (ONS) জানিয়েছে, চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত তিন মাসে দেশটির বেকারত্বের হার বেড়ে ৫ শতাংশে পৌঁছেছে, যা আগের মাসে ছিল ৪ দশমিক ৯ শতাংশ। একই সময়ে বেকার ভাতার জন্য আবেদনকারীর সংখ্যাও বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। এপ্রিল মাসে প্রায় ২৭ হাজার মানুষ নতুন করে বেকার ভাতার জন্য আবেদন করেছেন, যা গত বছরের জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ বৃদ্ধি।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি খরচ বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যয় কমানোর পথে হাঁটছে। এর ফলে নতুন নিয়োগ কমে গেছে এবং অনেক প্রতিষ্ঠান কর্মী ছাঁটাই করছে। এপ্রিল মাসে বেতনভুক্ত কর্মীর সংখ্যা প্রায় এক লাখ কমেছে, যা করোনাভাইরাস মহামারির শুরুর সময়ের পর সবচেয়ে বড় পতন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মজুরি বৃদ্ধির হারেও ধীরগতি দেখা গেছে। বোনাস ছাড়া নিয়মিত মজুরি বেড়েছে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ, যা আগের মাসের তুলনায় কম। তবে মূল্যস্ফীতির প্রভাব হিসাব করলে প্রকৃত মজুরি বৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে মাত্র শূন্য দশমিক ৩ শতাংশে। এতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় সামাল দেওয়া আরও কঠিন হয়ে পড়ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তরুণ কর্মীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। ৩৪ বছরের নিচের কর্মীদের চাকরি কমেছে উল্লেখযোগ্য হারে, অন্যদিকে বেশি বয়সীদের কর্মসংস্থানে তুলনামূলক স্থিতিশীলতা দেখা গেছে। ফলে শ্রমবাজারে প্রজন্মভিত্তিক বৈষম্য আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
এদিকে চাকরির শূন্যপদের সংখ্যাও কমে প্রায় পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। নিয়োগদাতারা এখন নতুন কর্মী নেওয়ার ক্ষেত্রে আরও সতর্ক অবস্থান নিচ্ছেন। অর্থনীতিবিদদের মতে, ব্যবসায়িক আস্থা কমে যাওয়ায় আগামী মাসগুলোতেও শ্রমবাজারে চাপ অব্যাহত থাকতে পারে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন, যদি জ্বালানি সংকট ও ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি আরও ধীরগতির মুখে পড়তে পারে এবং সাধারণ মানুষের ওপর আর্থিক চাপ আরও বাড়বে।
