ফুটবলপ্রেমীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে উত্তর আমেরিকায় বসতে যাচ্ছে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ফুটবল মহাযজ্ঞ। ২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে দলগুলোর শক্তির সামর্থ্য ও সাম্প্রতিক ফর্ম বিবেচনা করে পাওয়ার র্যাংকিং প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক ফুটবল গণমাধ্যম। এবারের তালিকায় স্পেনের শীর্ষস্থান ধরে রাখার খবর যেমন এসেছে, তেমনি এসেছে ব্রাজিলের শীর্ষ দশে রাজকীয় প্রত্যাবর্তনের গল্প। তবে বড় ধাক্কা খেয়েছে স্প্যানিশ শিবির। ইনজুরি জর্জরিত তরুণ তুর্কি লামিন ইয়ামালকে নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মাঝে দিন কাটছে ইউরো চ্যাম্পিয়নদের।
তাতে কি! মাঠের লড়াই শুরুর আগে র্যাংকিংয়ের সিংহাসনটা এখনো নিজেদের দখলেই রেখেছে স্পেন। অবশ্য স্প্যানিশদের ঠিক ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। চার বছর আগে কাতারে সোনালী ট্রফি উঁচিয়ে ধরা লিওনেল মেসির দল এবারও শিরোপা ধরে রাখতে মরিয়া। তবে ফেভারিটের তালিকায় পিছিয়ে নেই কেউ। টানা তৃতীয়বারের মতো ফাইনালে চোখ রাখা কিলিয়ান এমবাপের ফ্রান্স যেমন যেকোনো রক্ষণভাগ গুঁড়িয়ে দিতে প্রস্তুত, তেমনি পর্তুগাল অধিনায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো তার বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের শেষলগ্নে এসে অধরা বিশ্বকাপ ছুঁয়ে দেখতে সর্বোচ্চ উজাড় করে দেবেন। অন্যদিকে জুলিয়ান নাগেলসম্যানের অধীনে জার্মানি নিজেদের পুরোনো ছন্দ ফিরে পেয়েছে। কিন্তু ফুটবল বিশ্বকে চমকে দিয়ে এবার কি ট্রফি যাবে কোনো জার্মান কোচের হাতে? ১৯৬৬ সালের পর প্রথমবার বিশ্বজয়ের স্বপ্ন বুনে থমাস টুখেলকে নিজেদের ডাগআউটে বসিয়েছে ইংল্যান্ড। থ্রি লায়ন্সদের দীর্ঘ ৬০ বছরের আক্ষেপ মেটানোর গুরুভার এখন এই কোচের কাঁধেই।
এদিকে টুর্নামেন্টের তিন সহ-আয়োজক আমেরিকা, মেক্সিকো এবং কানাডাকে ঘরের মাঠে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। বিশেষ করে আসর শুরুর আগমুহূর্তে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র র্যাংকিংয়ের বেশ ওপরের দিকেই নিজেদের জায়গা করে নিয়েছে। তবে ফুটবল দুনিয়ার সবচেয়ে বড় আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু এখন লাতিন পরাশক্তি ব্রাজিল। কাতার বিশ্বকাপের পর থেকে বেশ কিছুদিন ছন্নছাড়া ফুটবল খেলা সেলেসাওদের ডাগআউটে বসেছেন অভিজ্ঞ ইতালিয়ান মাস্টারমাইন্ড কার্লো আনচেলত্তি। তার জাদুকরী ছোঁয়ায় চেনা রূপ ফিরে পেয়ে ব্রাজিল আবারও বিশ্বমঞ্চের সেরা দশের এলিট ক্লাবে দাপটের সাথে ফিরে এসেছে।
এবারের আসরটি শুধু ফেভারিটদের আধিপত্যের নয় বরং চমক দেখানোর দারুণ এক মঞ্চ। মরক্কো, জাপান কিংবা সেনেগালের মতো দলগুলো যেকোনো বড় শক্তিকে মাটিতে নামিয়ে আনার সামর্থ্য রাখে। প্লে-অফের কঠিন বৈতরণী পার হয়ে দীর্ঘ চার দশক পর বিশ্বমঞ্চে জায়গা করে নিয়েছে ইরাক। সুইডেন, তুরস্ক, চেকিয়া এবং ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর মতো দলগুলোও শেষ মুহূর্তে টিকিট কেটে বিশ্বমঞ্চে নিজেদের সামর্থ্য জানান দিতে প্রস্তুত।
বিডি প্রতিদিন/এনএইচ
The post হবে সেয়ানে সেয়ানে টক্কর first appeared on Latest BD News Bangladesh Breaking News.
