জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে নিজেকে ‘মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সন্তান’ দাবি করে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ) আসনে জামায়াতের সংসদ সদস্য (এমপি) আব্দুল মুনতাকিম। পরে জানা যায়, আব্দুল মুনতাকিমের বাবা আব্দুল কাদের সৈয়দী এবং মা মোসলমান বেগম এখনও বেঁচে আছেন। এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার আব্দুল কাদের বলেন, ‘আমার ছেলে ভালো মানুষ। বিপুল ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছে। তার জন্য দোয়া করবেন আপনারা।’
অবশ্য বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার পর ওই বক্তব্যের জন্য ভুল স্বীকার করেছেন এমপিও। সংসদের বক্তব্য সংশোধনের জন্য ইতিমধ্যে তিনি স্পিকার বরাবর চিঠি দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।
গত ১৪ জুন সংসদের বাজেট অধিবেশনে বক্তব্য দিতে গিয়ে সংসদ সদস্য আব্দুল মুনতাকিম দাবি করেন, মুক্তিযুদ্ধে তার পরিবারের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা আছে। তিনি বলেন, ‘আমার বাবা, আমার দাদা মুক্তিযুদ্ধে শহীদ। আমার আব্বারা (বাবা-চাচা) সাত ভাই, চার জন মুক্তিযোদ্ধা। আমার দাদারা ১৯ জন, ১১ জন মুক্তিযোদ্ধা। আমার পরিবারে ৪৭ জন মুক্তিযোদ্ধা। আমার মা মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক। আমি জুলাই যোদ্ধা।’
এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে অনেকে সমালোচনা শুরু করেন। নির্বাচনি হলফনামা অনুযায়ী, এই সংসদ সদস্যের জন্ম ১৯৮১ সালে, অর্থাৎ মুক্তিযুদ্ধের প্রায় ১০ বছর পর। এ ছাড়া তার বাবা আব্দুল কাদের সৈয়দী এবং মা মোসলমান বেগম দুজনেই বর্তমানে জীবিত আছেন।
হলফনামার তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় তার বয়স ছিল ৪৪ বছর ১১ মাস ২০ দিন। ১৯৮১ সালের ১০ জানুয়ারি জন্ম নেওয়া একজন ব্যক্তির পক্ষে শহীদের সন্তান হওয়া নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ দেশজুড়ে হাস্যরস ও সমালোচনা শুরু হয়।
শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সন্তান দাবি করে আলোচনায় আসা জামায়াত এমপির বাবা এখনও জীবিতশহীদ মুক্তিযোদ্ধার সন্তান দাবি করে আলোচনায় আসা জামায়াত এমপির বাবা এখনও জীবিত
আব্দুল মুনতাকিম সৈয়দপুর উপজেলা জামায়াতের আমির। সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার আগে তিনি সৈয়দপুরের আল ফারুক একাডেমি নামের একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করতেন। ওই প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক ও উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এটা এমপি মহোদয়ের স্লিপ অব টাং। বিষয়টি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখাই ভালো।’
সংসদ সদস্য আব্দুল মুনতাকিম বলেন, ‘সংসদে দেওয়া আমার বক্তব্য সম্পূর্ণ সঠিক ছিল না। তবে আমার দাদার ভাই মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছেন। আমি আমার ভুল স্বীকার করে সংসদীয় প্রসিডিং অনুযায়ী স্পিকার বরাবর ১৭ জুন (বুধবার) চিঠি দিয়েছি। এতে আমার বক্তব্যের ভুলগুলো সংশোধনের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। জাতির কাছে সাংবাদিকদের মাধ্যমে আমার বক্তব্যের ব্যাখ্যা তুলে ধরার প্রস্তুতি নিচ্ছি।’
আব্দুল মুনতাকিম ছোটবেলায় হাফেজ হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষায় উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। তবে দেশের সর্বোচ্চ আইনসভায় দাঁড়িয়ে নিজের পরিবার সম্পর্কে এমন বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়ায় তার দায়িত্বশীলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল।
