বাজেটকে ‘গণবিরোধী’ বলায় সমালোচকদের কড়া জবাব দিলেন প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশ চিত্র
প্রকাশ : ১৭ জুন ২০২৬, ০২:৩৬ পিএম

সরকারের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট নিয়ে বিভ্রান্তিকর মন্তব্যের কড়া জবাব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (১৭ জুন) মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলস্থ ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি স্পষ্টভাবে জানান, বিএনপি সরকার সাধারণ মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের লক্ষ্যেই এই বাজেট প্রণয়ন করেছে। যারা জনকল্যাণমুখী এই বাজেটকে ‘চানাচুর’ বা ‘গণবিরোধী’ বলে আখ্যায়িত করছেন, তাদের তীব্র সমালোচনা করে তিনি সরকারের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ও প্রতিশ্রুতি পূরণের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের মূল অংশজুড়ে ছিল বর্তমান সরকারের উন্নয়ন দর্শন এবং বাজেটের জনকল্যাণমুখী দিকসমূহ। বাজেট নিয়ে সমালোচকদের উদ্দেশে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘‘এই বাজেট জনগণের বাজেট। যে বাজেটের মাধ্যমে, অর্থ বরাদ্দের মাধ্যমে আমরা জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে চাই, সেই বাজেটকে যারা ‘চানাচুর’-এর সাথে তুলনা করে, যে বাজেটে আমরা সাধারণ মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবা, কৃষক ভাইদের জন্য কৃষি কার্ড এবং আমাদের সন্তানদের সুশিক্ষার জন্য সর্বোচ্চ বরাদ্দ রেখেছি, সেই বাজেটকে তারা ‘গণবিরোধী’ বলে প্রচার করছে। আপনারা নিশ্চয়ই বিষয়টি লক্ষ্য করেছেন।’

তিনি তার বক্তব্যে বাজেটের ইতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরে বলেন, ‘‘আমরা যে বাজেট পেশ করেছি, সেখানে দেশের কোটি কোটি মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালে ৫০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার জন্য অর্থ বরাদ্দ রেখেছি। আমাদের লক্ষ্য পরিষ্কার—গ্রাম ও উপজেলার মানুষ যেন ন্যূনতম স্বাস্থ্যসেবা পায়। এর পাশাপাশি স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও খেলাধুলার জন্য বাজেটে বিশেষ অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে।’

অনুষ্ঠানের মূল প্রেক্ষাপট স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকের দিনটি আমার জন্য অত্যন্ত আনন্দের। কয়েক মাস আগে নির্বাচনের প্রচার অভিযান শুরু করেছিলাম সিলেটের পবিত্র মাটি থেকে। হবিগঞ্জের জনসভায় আমি কথা দিয়েছিলাম, বিএনপি সরকার গঠন করলে চা বাগানের নারী শ্রমিকদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রবর্তন করব। আজ মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে আমি আমার সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পেরেছি। আজ চা বাগানের নারী শ্রমিকদের হাতে এই কার্ড তুলে দিয়েছি এবং ইনশাআল্লাহ আগামী এক বছরের মধ্যে আমরা চা বাগানের সকল নারী শ্রমিকের কাছে এই কার্ড পৌঁছে দেব।’’

নারীর ক্ষমতায়ন ও পরিবারের জীবনমান উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে দেশের মানুষ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে নির্বাচিত করেছিল আমাদের ওপর আস্থা রেখে। আমরা বিশ্বাস করি, প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হলে পুরুষদের পাশাপাশি নারীদের স্বাবলম্বী করা অত্যন্ত জরুরি। বাংলাদেশের প্রায় চার কোটি পরিবারের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে আমরা পর্যায়ক্রমে সব পরিবারের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়ার যে অঙ্গীকার করেছি, সরকার গঠনের এক মাসের মধ্যেই আমরা তা বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছি।’

চা শ্রমিকদের সহায়তায় সরকারের অন্যান্য উদ্যোগ তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমরা শুধু ফ্যামিলি কার্ড নয়, চা বাগানের ৫০ জন নারী শ্রমিককে গৃহনির্মাণের জন্য ২ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছি। এছাড়া প্রায় ১৫০ জন শ্রমিকের মেধাবী সন্তানদের পড়াশোনার জন্য বিশেষ স্কলারশিপ দেওয়া হয়েছে। প্রতিবন্ধী মানুষদের চিকিৎসার জন্যও আমরা আর্থিক চেক তুলে দিয়েছি এবং প্রশাসনের মাধ্যমে এই সহায়তা প্রকৃত প্রাপকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া ইমাম, মোয়াজ্জেম, খতিবসহ সকল ধর্মের ধর্মীয় গুরুদের জন্য মাসিক সম্মানির ব্যবস্থাও আমরা নিশ্চিত করেছি।’

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এই দেশের কৃষকদের পাশেও দাঁড়াতে চাই। আগামী জুলাই থেকে এক বছরের মধ্যে আমরা দেশের ৪০ লক্ষ কৃষকের হাতে ‘কৃষক কার্ড’ তুলে দেব। মূলত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটানোই হচ্ছে বিএনপির রাজনীতির মূল লক্ষ্য। আমরা দেশকে এগিয়ে নিতে চাই, আর এই কাজগুলো আগামী পাঁচ বছর যেন অব্যাহত থাকে, সেই প্রত্যাশাই করি।’’

দেশের শিল্প ও কর্মসংস্থান রক্ষার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে আরও বলেন, ‘দেশের শিল্পোদ্যোক্তা ও মিল-কারখানাগুলোকে রক্ষার জন্য আমরা বিশেষ সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা নিয়েছি। বাংলাদেশে তৈরি পণ্যের সুরক্ষায় বিদেশ থেকে আমদানিকৃত সমজাতীয় পণ্যের ওপর শুল্ক বাড়িয়েছি, যাতে স্থানীয় কারখানাগুলো সচল থাকে। আর এই কারখানাগুলো চললে আমাদের বেকার যুবক-যুবতীরা কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে। আমাদের দেশীয় শিল্পকে সুরক্ষা দেওয়ার এই ব্যবস্থাগুলোও আমরা বাজেটের অন্তর্ভুক্ত করেছি।’

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন রাখেন, ‘আপনারা কি চান এই উন্নয়ন কার্যক্রম আগামী পাঁচ বছর অব্যাহত থাকুক? আপনারা কি চান দেশের সকল মায়ের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে যাক?’ উপস্থিত হাজারো মানুষের সমস্বরে ইতিবাচক সাড়ায় প্রধানমন্ত্রী তাদের ধন্যবাদ জানান এবং উন্নয়নের এই ধারা বজায় রাখতে দলের ওপর আস্থা রাখার আহ্বান জানান।

বাংলাদেশ চিত্র অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন