‘আমার ভাই হত্যার বিচার চাই’, উপদেষ্টার কাছে হাউমাউ করে ছোট ভাইয়ের কান্না

বাংলাদেশ চিত্র
প্রকাশ : ৩ জুলাই ২০২৬, ০৩:৩১ এএম

সিলেটের উপজেলার নিজ গ্রামের রাস্তায় সরকারি উন্নয়নকাজে অনিয়মের প্রতিবাদ করায় এক যুবদলকর্মীকে পরিকল্পিতভাবে নিজগৃহে প্রবেশ করে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগে এখনো কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে নিহতের পরিবার। এ ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) হুমায়ুন কবিরের কাছে হাউমাউ করে কাঁদতে কাঁদতে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেছেন।

গত ১৯ জুন উপজেলার দয়ামীর ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর রাইকদাড়া গ্রামের মৃত সুরুজ আলীর পুত্র ও যুবদলকর্মী তুরন মিয়ার লাশ তার নিজ গৃহ থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পর থেকেই পরিবার দাবি করে আসছে, নিজ গ্রামের রাস্তায় সরকারি উন্নয়নকাজে অনিয়মের প্রতিবাদ করায় তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তবে পরিবারের অভিযোগে উল্লেখিত আসামিদের আটক বা জিজ্ঞাসাবাদ না করে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কিছু বলতে নারাজ পুলিশ। ফলে ঘটনাটি ঘিরে রহস্য দিনদিন আরও ঘনীভূত হচ্ছে।

পরিবারের দাবি, প্রভাবশালী একটি মহল যুবদলকর্মী কে হত্যার পর ঘটনাটিকে স্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবে প্রচার করে প্রকৃত ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে। এতে নিহতের পরিবার ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে গভীর শঙ্কায় রয়েছে।

গত ১ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির সরকারি সফরে ওসমানীনগর উপজেলায় দিনব্যাপী বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মসূচিতে অংশ নেন। কর্মসূচির এক পর্যায়ে উপজেলা অডিটোরিয়ামে নেতাকর্মীদের সঙ্গে কুশল বিনিময়কালে হঠাৎ পেছন দিক থেকে নিহত তুরন মিয়ার ছোটভাই এলাইছ মিয়া হাউমাউ করে কাঁদতে কাঁদতে উপদেষ্টাকে জড়িয়ে ধরে বলেন,স্যার, আমার ভাই হত্যার বিচার চাই। আমরা ন্যায়বিচার চাই। পরে নিহতের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং সফর শেষে ঢাকা যাওয়ার পথে সিলেটের

সিলেটের পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী মো. যাবের সাদেকে সঙ্গে কথা বলে সংগঠিত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন বলে একটি সূত্র নিশ্চিত করে।

প্রসঙ্গত, গত ৬ জুন নিহত তুরন মিয়া নিজ বাড়িতে প্রতিবেশীদের হামলার শিকার হন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় তিনি ভবিষ্যতে প্রাণনাশের আশঙ্কা উল্লেখ করে নিজে বাদী হয়ে ওসমানীনগর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। কিন্তু প্রভাবশালীদের চাপে সেই মামলা রেকর্ড করা হয়নি বলে পরিবারের দাবি। পরে মামলার এজাহার নিয়ে তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের কাছেও ধর্না দিয়েও বিচার পাননি।

এক পর্যায়ে কিছু প্রভাবশালী শালিস ব্যক্তি তুরন মিয়াকে মামলা থেকে সরে এসে বিষয়টি সালিশের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করতে চাপ প্রয়োগ করেন। তবে তুরন মিয়া মামলায় অটল থাকেন এবং শালিসে অসম্মতি জানান।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত ১৯ একটি গোপন বৈঠক করে তুরন মিয়াকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়।

ঘটনায় নিহতের দায়ের করা ৬ জুনের এজাহারে উল্লিখিত ব্যক্তিদের ভিত্তিতে গ্রহণ করা নতুন এজাহারে আসামিদের অজ্ঞাত রাখা হলেও এজাহারের বিবরণীতে তাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে গ্রামের রাস্তায় সরকারি উন্নয়নকাজে অনিয়মের প্রতিবাদ করায় যারা তার ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে হত্যার পরিকল্পনা করে, হত্যাকাণ্ডে প্ররোচনা দেয় কিংবা জোরপূর্বক বিষয়টিকে সালিশ বৈঠকে নিয়ে আসে এমন কোনো ব্যক্তিকে এজাহারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এছাড়া অভিযুক্ত বা মধ্যস্থতাকারী ব্যক্তিকে পুলিশ গোপনে জিজ্ঞাসাবাদ করলেও কাউকে আটক না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন নিহতের ছোট ভাই এলাইছ মিয়া।

তিনি জানান, আমার ভাই শুরু থেকেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে আসছিল। হত্যাকাণ্ডের পেছনে যারা কলকাঠি নেড়েছে এবং ঘটনাকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে, তাদেরও আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক। আমরা শুধু সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার চাই।

সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ওসমানীনগর সার্কেল মানছুরা আক্তার জানান, বিষয়টি শুরু থেকেই পুলিশের ঊর্ধ্বতন মহল অবগত আছেন এবং প্রকৃত দোষীকে শনাক্ত করতে পুলিশের গোয়েন্দা টিম কাজ করছে।

বাংলাদেশ চিত্র অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সর্বশেষ সব খবর