কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনের সংসদ সদস্য এবং কক্সবাজার জেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান চৌধুরীকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার ও মানহানির অভিযোগে তিনজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।
গত মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকালে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনার পর চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক এই আদেশ প্রদান করেন।
পরোয়ানাভুক্ত তিন আসামি হলেন কথিত সংবাদমাধ্যম অগ্রযাত্রা ডিজিটালের সম্পাদক মেহেদী হাসান পলাশ, টেকনাফ বিএনপি নেতা সুলতান আহামদ এবং ইমান হোসাইন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, গত বছর ২ জুলাই বাদীর আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত মামলাটি আমলে নেন এবং কক্সবাজার পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দেন। পিবিআইয়ের পুলিশ পরিদর্শক আমির হোসেন তদন্ত সম্পন্ন করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। তদন্ত প্রতিবেদনে সরেজমিনে সংগৃহীত সাক্ষ্যপ্রমাণ এবং বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে আসামিদের বিরুদ্ধে শাহজাহান চৌধুরীকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন, অপমান ও অপদস্থ করার জন্য পরস্পর যোগসাজশের অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া, অপপ্রচারের কারণে বাদীর ১০০ কোটি টাকার মানহানি হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
আদালত তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে অভিযোগগুলো প্রাথমিকভাবে সত্য বলে প্রতীয়মান হওয়ায় সাইবার সুরক্ষা আইন-২০২৬-এর ২৫(২) ধারায় মামলাটি আমলে নিয়ে তিন আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
মামলার আইনজীবী ছমি উদ্দিন জানান, গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর শাহজাহান চৌধুরী আওয়ামী লীগের নেতাদের পুনর্বাসন করে শতকোটি টাকা আয় করেছেন—এমন অভিযোগ তুলে তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন মাধ্যমে অপপ্রচার চালানো হয়। সংবাদ প্রকাশের পূর্বে আসামিরা শাহজাহান চৌধুরীর কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। তদন্তে অভিযোগ প্রাথমিক পর্যায়ে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তিন আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
