ছয় বছর আগে হাতছাড়া হওয়া সোনালি সুযোগ এবার আর হাতছাড়া করেননি। স্থানীয় সময় রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) ইউএস ওপেনের রোমাঞ্চকর ফাইনালে মার্কিন তারকা বেন শেলটনকে ৬-৩, ৭-৬ (৭/২), ৫-৭, ৬-২ সেটে হারিয়ে ক্যারিয়ারের প্রথমবারর মতো ট্রফি উঁচিয়ে ধরেছেন আলেকজান্ডার জভেরেভ।
২০২০ সালের ফাইনালে ডমিনিক থিমের বিরুদ্ধে প্রথম দুই সেটে এগিয়ে থেকেও শিরোপা হারানোর যে তিক্ত অভিজ্ঞতা জভেরেভের ছিল, এবার তা ধুয়ে-মুছে সাফ হয়ে গেছে। গত জুনে রঁলা গ্যারো (ফ্রেঞ্চ ওপেন) জয়ের পর মানসিক শক্তিতে অনেকটাই পরিপক্ব এই জার্মান তারকা নিউইয়র্কের চেনা কোর্টে স্বাগতিক সমর্থকদের হৃদয় ভেঙে এই ট্রফি নিজের করে নেন।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে আবেগাপ্লুত জভেরেভ বলেন, আমার মনে হয় ঈশ্বর দেখেছেন আমরা কতটা কঠোর পরিশ্রম করেছি, কতটা কষ্টে দিন কাটিয়েছি। আজকের এই ২০২৬ সালের সাফল্য আসলে সেই আগের কঠিন বছরগুলোরই সুফল।
গত ২৩ বছর ধরে গ্র্যান্ড স্ল্যাম খরা কাটানোর অপেক্ষায় থাকা স্বাগতিক দর্শকেরা সবটুকু সমর্থন ঢেলে দিয়েছিলেন শেলটনের পেছনে। তবে জীবনের প্রথম মেজর ফাইনালে নিজের সেরা ছন্দটাই খুঁজে পাননি এই মার্কিন তরুণ।
দর্শকদের সেই আবেগের কথা স্বীকার করে জভেরেভ বলেন, আমি জানি আজ গ্যালারির ৯৯.৯ শতাংশ মানুষই বেনের জয় চাইছিলেন। তাই আমি ক্ষমাপ্রার্থী। গ্যালারি আমার বিপক্ষে থাকলেও গ্যালারির আচরণ ছিল অত্যন্ত প্রশংসনীয় ও ক্রীড়াসুলভ।
খেলার প্রতি কতটা মনোযোগী ছিলেন জভেরেভ, তার প্রমাণ মিলেছিল একদম শেষ মুহূর্তে। শেলটনের সার্ভিস রিটার্নটি কোর্টের বাইরে চলে যাওয়ার পরও জভেরেভ খেয়ালই করেননি যে তিনি চ্যাম্পিয়ন হয়ে গেছেন! আম্পায়ার ‘গেম, সেট অ্যান্ড ম্যাচ’ ঘোষণা করার পরও জভেরেভ বেসলাইনের দিকে হাঁটছিলেন শেলটনের সার্ভিস রিসিভ করার জন্য। কিছুক্ষণ পর ভুল ভাঙতেই গ্যালারির স্ট্যান্ডিং ওভেশনের জবাব হাসিমুখে দিয়ে নেটের কাছে গিয়ে জড়িয়ে ধরেন প্রতিপক্ষকে। রেকর্ড ৫.৫ মিলিয়ন ডলারের প্রাইজমানির চেক হাতে নেওয়ার সময়ও জভেরেভের মুখে ছিল চওড়া হাসি।
ম্যাচে দুই হার্ডহিটার টেনিস তারকার লড়াইয়ে শুরু থেকেই আধিপত্য বিস্তার করেন অভিজ্ঞতায় এগিয়ে থাকা জভেরেভ। প্রথম গেমেই ব্রেক পয়েন্টে ভুল করে চাপ বাড়িয়ে বসেন তরুণ শেলটন। খেলায় ফিরতে ও ছন্দ বদলাতে শেলটন ‘সার্ভ অ্যান্ড ভলি’ কৌশল নিলেও সুবিধা করতে পারেননি।
দ্বিতীয় সেটে গ্যালারির সমর্থকেরা জভেরেভকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করার চেষ্টা করেছিলেন। নবম গেমে জভেরেভ ভুল করতেই চিৎকার শুরু করে দর্শকেরা। কিন্তু অবিচল জভেরেভ টাইব্রেকারে সরাসরি ৫-০ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়ে সহজ জয় দিয়ে দ্বিতীয় সেটও পকেটে পুরেন।
তৃতীয় সেটে পিছিয়ে পড়ে ক্ষোভে ফেটে পড়া শেলটন দারুণভাবে ম্যাচে ব্যাক করেন। বেসলাইন থেকে শক্তিশালী শটের প্রদর্শনীতে সার্ভিস ব্রেক করে জভেরেভকে বাধ্য করেন চতুর্থ সেটে নামতে। কিন্তু চতুর্থ সেটে জভেরেভের সামনে ভেঙে পড়ে শেলটনের প্রতিরোধ। ২৫টি শটের দীর্ঘ এক র্যালিতে জয় নিয়ে শুরুর দিকেই ব্রেক পয়েন্ট তুলে নেন জার্মান তারকা, যা আর হাতছাড়া হয়নি। ইউএস ওপেনে নিজের ১১তম আসরে এসে অবশেষে বহুল কাঙ্ক্ষিত সেই ট্রফি হাতে নেওয়ার সুযোগ পেলেন তিনি।
আর্থার অ্যাশের পর প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ মার্কিন পুরুষ হিসেবে নিউইয়র্কের ফাইনাল খেলা শেলটন বলেন, আমার জয়-পরাজয় কিংবা আপনাদের সামনে খেলা- সবই এক একটা উপহার।
গ্যালারির প্লেয়ার্স বক্সে উপস্থিত ছিলেন বান্ধবী তথা অলিম্পিকজয়ী নারী ফুটবলার ট্রিনিটি রডম্যান, যিনি নিজের ম্যাচ শেষ করেই ২০০ মাইল পথ পেরিয়ে এসেছিলেন।
সূত্র: গোলডটকম।
