জাতীয় সংসদের হুইপ ও চাঁদপুর জেলার তদারকি দায়িত্বপ্রাপ্ত এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান বলেছেন, মানুষের আকাঙ্ক্ষা ও জনগণের কল্যাণের জন্য রাজনীতির সূচনা করেছিলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। সেই রাজনীতির ধারাবাহিকতা বেগম খালেদা জিয়ার পথ ধরে এগিয়ে এসেছে। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে সমন্বয় ও মতবিনিময়ের প্রয়োজন রয়েছে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে চাঁদপুর প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে জেলা বিএনপি আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান বলেন, দেশের মানুষ যে আকাঙ্ক্ষা নিয়ে বিএনপিকে দুই-তৃতীয়াংশ আসনে নির্বাচিত করেছে, সেই প্রত্যাশা বাস্তবায়নে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফা কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে জুলাই সনদে জনগণের যে আকাঙ্ক্ষা প্রতিফলিত হয়েছে, তা বাস্তবায়নেও সবাইকে কাজ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় আমরা বিভিন্ন রাজনৈতিক দল জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছি, যদিও সেখানে নোট অব ডিসেন্ট ছিল। জনগণের কাছে দেওয়া অঙ্গীকার অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করতে হলে আমাদের নেতাকর্মীদেরও সেভাবে প্রস্তুত হতে হবে।
জাতীয় সংসদের হুইপ বলেন, কাগজে-কলমে পরিকল্পনা করলেই হবে না। জুলাই সনদ, ৩১ দফা ও নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়ন কোনো একজনের একার কাজ নয়। তৃণমূল পর্যায় থেকে সবাইকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে কাজ করতে হবে। আর সেই কাজের সূচনা চাঁদপুর থেকেই শুরু করতে চাই।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমাকে কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও চাঁদপুরে নেতাকর্মী এবং জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার দায়িত্ব দিয়েছেন। এসব জেলায় নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও দলের সাংগঠনিক নেতারা রয়েছেন। সবার মধ্যে সমন্বয় গড়ে তুলতে আমি মাধ্যম হিসেবে কাজ করার চেষ্টা করব।
এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান বলেন, আমরা মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছি। শুধু মুখে বললে হবে না, এটি কীভাবে কার্যকরভাবে প্রতিরোধ করা যায়, সে বিষয়ে বাস্তব পদক্ষেপ নিতে হবে। সীমান্ত এলাকায় অবৈধ চোরাচালান প্রতিরোধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
চাঁদপুর জেলার তদারকি দায়িত্বপ্রাপ্ত এ নেতা বলেন, সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার প্রান্তিক পর্যায় পর্যন্ত বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না, তা তদারকি করতে হবে। কোথায় কী সমস্যা রয়েছে, মানুষ কী চায়-সেসব বিষয় চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে। একই সঙ্গে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দারিদ্র্য বিমোচন কার্যক্রম জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির পাশাপাশি তারেক রহমানের পরিকল্পনায় থাকা ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, প্রবাসী কার্ড ও হেলথ কার্ডের সুবিধা যাতে প্রকৃত মানুষের কাছে পৌঁছে, সে বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নে স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির কোনো সুযোগ রাখা যাবে না।
হুইপ বলেন, আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে নয়, নিজেদের কাছে নিজেরা শপথ নেব-জনগণের জন্য কাজ করার শপথ। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যে রাজনৈতিক ও উন্নয়নের দর্শনের সূচনা করেছিলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে এই শতাব্দীর বাস্তবতায় সেটির নতুন মূল্যায়ন ও নতুন ধারণার সৃষ্টি হবে।
চাঁদপুর-৩ (সদর-হাইমচর) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিকের সভাপতিত্বে সভা সঞ্চালনা করেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সলিম উল্যা সেলিম।
সভায় বক্তব্য দেন চাঁদপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য প্রকৌশলী মমিনুল হক, সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য রাশেদা বেগম হীরা এবং কুমিল্লা বিভাগের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হাজী মোস্তাক মিয়া। মতবিনিময় সভায় জেলা ও উপজেলা বিএনপি এবং দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের দেড় শতাধিক নেতা অংশ নেন।
