নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে ভারতে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলকে না পাঠানোর সিদ্ধান্তের জন্য তৎকালীন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলকে দায়ী করেছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের তদন্ত কমিটি। তবে এ সিদ্ধান্তের দায় স্বীকার করে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন আসিফ নজরুল।
জবাবের ব্যাখ্যায় না পাঠানোর সিদ্ধান্তকে ‘সঠিক’ দাবি করে তিনি বলেছেন, বিশ্বকাপে ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত মূলত তারই ছিল। দেশের মর্যাদা, ক্রিকেটার-সাংবাদিক-সমর্থকদের নিরাপত্তা ও নির্বাচনের আগে দেশের পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখার বিষয় বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টা ৪৮ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে ‘টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ: কেন ভারতে যাইনি?’ শিরোনামে দেওয়া এক পোস্টে এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন আসিফ নজরুল।
অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক এ উপদেষ্টা বলেন, ‘ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ না খেলতে যাওয়ার সিদ্ধান্তটি তখনকার ক্রীড়ামন্ত্রী (ক্রীড়া উপদেষ্টা) হিসেবে মূলত আমারই ছিল। আমি নিজেই এ কথা একাধিকবার প্রকাশ্যে বলেছি। তাই এতদিন পর ক্রীড়া মন্ত্রণালয় কর্তৃক বিষয়টি তদন্ত করে তা প্রকাশের কী এমন কারণ ঘটল বুঝলাম না।’
আসিফ নজরুল বলেন, ‘ঘটনার সূত্রপাত উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের চাপের মুখে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের নির্দেশে মুস্তাফিজকে আইপিএল থেকে অপমানজনকভাবে বাদ দেওয়া থেকে। এর পরপরই আমরা নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কা এবং বাংলাদেশের প্রতি অবমাননার প্রতিবাদে ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়ার বিষয়ে অনীহা জানাই।’
বাংলাদেশের নিরাপত্তা নিয়ে যে আশঙ্কা করা হয়েছিল, তা অমূলক ছিল না দাবি করে তিনি বলেন, ‘আইসিসির প্রথম রিপোর্টেই তার স্বীকৃতি ছিল। সেখানে ভারতে নিরাপত্তা-আশঙ্কার তিনটি কারণ উল্লেখ করা হয়েছিল- বিশ্বকাপের দলে মুস্তাফিজ থাকলে, বাংলাদেশের সমর্থকরা মুক্তভাবে ঘোরাফেরা করলে এবং বাংলাদেশে নির্বাচন এগিয়ে আসার প্রেক্ষাপটে। বিবিসি বাংলা ওই রিপোর্টের হুবহু বাংলা অনুবাদও প্রকাশ করেছিল।’
‘এই পরিস্থিতিতে আমরা ভারতে খেলতে যাব কেন’- এমন প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, ‘আমরা শেষ পর্যন্ত অন্য কোনো ভেন্যুতে বিশ্বকাপ খেলার জন্য বহু চেষ্টা করেছি। কোনো কোনো দেশ থেকে সমর্থনও পেয়েছিলাম। কিন্তু সম্ভবত আইসিসির নেতৃত্বে ভারতীয়দের আধিপত্যে থাকার কারণে শেষ পর্যন্ত তা সম্ভব হয়নি।’
না যাওয়ার পেছনে বেশ ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়’ উল্লেখ করতে গিয়ে আসিফ নজরুল বলেন, ‘আমাদেরকে ভারতে নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও কোনো যোগাযোগ করা হয়নি।’
বিশ্বকাপে না যাওয়ার সিদ্ধান্তের পেছনে তিনটি বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল বলে জানান তিনি। তিনটি বিষয় সম্পর্কে আসিফ নজরুল পোস্টে বলেন, ‘দেশের মর্যাদা, আমাদের ক্রিকেটার-সাংবাদিক-সমর্থকদের নিরাপত্তা এবং আগামী নির্বাচনের আগে দেশের পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখা।’
বিশ্বকাপ না খেললে বিদেশি দলগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের খেলা বন্ধ হয়ে যেতে পারে- সে সময় এমন আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছিল বলেও উল্লেখ করে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক এ উপদেষ্টা বলেন, ‘আমাদের ক্রিকেট বোর্ডের নানা উদ্যোগে সেই আশঙ্কাও শেষ পর্যন্ত দূর হয়েছিল।’
‘সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন’ দাবি করে তিনি বলেন, ‘একটি ছোট দেশ বলে কেউ আমাদের ইচ্ছেমতো অপমান করবে, আর আমরা সবসময় তা মুখ বুঝে মেনে নেব এমন প্রত্যাশা করা ঠিক নয়। আমি সমমর্যাদার ভিত্তিতে ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বে বিশ্বাসী। মাথা নত করে সব মেনে নেওয়াতে না।’
