কার্তিক-অগ্রহায়ণ পেরিয়ে পৌষে শীতের আগমনের আগেই আশ্বিনের শুরুতে নীলফামারীর ডোমারে দেখা মিলেছে ঘন কুয়াশার। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ভোর থেকে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা কুয়াশায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। ঘন কুয়াশার কারণে দূরের গাছপালা, ঘরবাড়ি ও সড়কপথ স্পষ্ট দেখা যায়নি। ভোরের মাঠ-প্রান্তর ও ফসলি জমি ঢেকে যায় কুয়াশার সাদা চাদরে। এতে প্রকৃতিতে তৈরি হয় অন্যরকম আবহ। কমে যায় সড়কের দৃশ্যমানতা।
ভোরে কুয়াশার ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি থাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রায়ও এর প্রভাব পড়ে। বিশেষ করে সড়কে কমে যায় দৃশ্যমানতা। এ সময় বিভিন্ন যানবাহনকে হেডলাইট জ্বালিয়ে ধীরগতিতে ও সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করতে দেখা যায়।
কুয়াশার কারণে ভোরের দিকে উপজেলার বিভিন্ন সড়ক ও আশপাশের এলাকা অনেকটাই ঝাপসা হয়ে পড়ে। সড়কের পাশের গাছপালা ও দূরের স্থাপনা কুয়াশার আড়ালে ঢাকা থাকায় কয়েক মিটার দূরের দৃশ্যও স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল না।
স্থানীয়দের ভাষ্য, কয়েকদিন ধরে রাতের দিকে তাপমাত্রা কিছুটা কম অনুভূত হচ্ছিল। তবে আশ্বিনের শুরুতেই এমন ঘন কুয়াশা দেখা যাবে, তা অনেকের কাছেই অপ্রত্যাশিত ছিল। সকালে কুয়াশা কেটে যাওয়ার আগ পর্যন্ত চারপাশে শীতের আমেজের মতো আবহ তৈরি হয়।
আবহাওয়াবিদদেরমতে, রাতের তাপমাত্রা কমে যাওয়া এবং বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি থাকায় ভোরে কুয়াশা সৃষ্টি হয়। আগামী দিনগুলোতে তাপমাত্রা আরও কমে গেলে কুয়াশার পরিমাণ বাড়তে পারে।
কুয়াশায় ঢাকা ডোমারের ভোরে মাঠ-প্রান্তর ও ফসলি জমিতে তৈরি হয় মনোরম দৃশ্য। সাদা কুয়াশার চাদরে মোড়া প্রকৃতি ভিন্ন এক আবহ তৈরি করলেও সড়কে চলাচলকারী চালকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন স্থানীয়রা।
আশ্বিনে এমন কুয়াশা দেখা পাওয়ার বিষয়ে সৈয়দপুর আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লোকমান হাকিম কালবেলাকে বলেন, ‘তাপমাত্রার তারতম্য ও বাতাসে থাকা জলীয়বাষ্পের কারণে ভোরে এ ধরনের কুয়াশা বা আবছা আবরণ তৈরি হতে পারে। দিনের তুলনায় রাত ও ভোরে ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি বাতাস দ্রুত ঠান্ডা হয়ে যায়। এ সময় বাতাসে থাকা জলীয়বাষ্প ক্ষুদ্র জলকণায় পরিণত হয়ে বাতাসে ভেসে থাকে। ফলে ভোরের দিকে ঘাস, ফসলের মাঠ ও আশপাশের এলাকায় কুয়াশার মতো আবহ তৈরি হয়। এ সময় প্রকৃতপক্ষে কুয়াশা হওয়ার কথা নয়।’
বুধবার সকাল ৬টায় সৈয়দপুর আবহাওয়া অফিসে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
