আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের কার্যালয়ে ‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল-২০২৬’ নিয়ে একদল তরুণ উলামায়ে কেরামের বৈঠক হয়েছে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে উলামায়ে কেরাম বিলটির উদ্দেশ্য, পিতা-মাতা, প্রবীণ ব্যক্তি ও দাতার জীবদ্দশার ভোগ ও ব্যবহারের অধিকার সুরক্ষা গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন। তবে মুসলিম নাগরিকদের জন্য সম্পত্তি হস্তান্তর, হেবা, ওসিয়ত ও মিরাস কুরআন, সুন্নাহভিত্তিক বিধানের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ায় নতুন ব্যবস্থায় সম্ভাব্য শরয়ি জটিলতা নিয়ে তারা লিখিত প্রস্তাবনা তুলে ধরেন।
তাদের বক্তব্যে বলা হয়, দাতার জীবদ্দশায় মালিকানা হস্তান্তর করেও ভোগাধিকার মৃত্যুর পর কার্যকর করার ব্যবস্থা প্রচলিত হেবার শরয়ি কাঠামোর সঙ্গে অসামঞ্জস্য সৃষ্টি করতে পারে। পাশাপাশি এর প্রয়োগ যদি ওসিয়তের বৈশিষ্ট্য ধারণ করে, তাহলে ওয়ারিসের জন্য ওসিয়ত ও নির্ধারিত মিরাসের অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।
ফলে আইনটি অপব্যবহারের মাধ্যমে কোনো উত্তরাধিকারীকে ইচ্ছাকৃতভাবে বঞ্চিত করার সুযোগ তৈরি হচ্ছে কি না, তা বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে পর্যালোচনার প্রয়োজন রয়েছে বলে ওলামায়ে কেরামরা মনে করেন।
এ সময় উলামায়ে কেরাম দেশের শীর্ষ মুফতি, ফকিহ, ইসলামি আইন গবেষক ও আইনজ্ঞদের সমন্বয়ে বিশেষজ্ঞ পর্যালোচনা কমিটি গঠন করে উক্ত আইনটি পুনর্বিবেচনা করে একটি ভারসাম্যপূর্ণ কাঠামো তৈরি করার প্রস্তাব দেন, যাতে প্রবীণ ও দাতার নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি মুসলিম নাগরিকদের হেবা, ওসিয়ত ও মিরাসের শরয়ি বিধান ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন- হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক মাওলানা আফসার মাহমুদ, জাতীয় উলামা মশায়েখ আইম্মাহ পরিষদের মহাসচিব মুফতি রেজাউল করিম আবরার, ইসলামবাগ মাদরাসার মুহতামিম মুফতি আব্দুল কাইয়ুম কাসেমী, বাংলাদেশ ফিকহ একাডেমির মহাপরিচালক মুফতি ফয়সাল মাহমুদ হাবিবী, জাতীয় উলামা মশায়েখ আইম্মাহ পরিষদের যুগ্ম মহাসচিব মুফতি শামসুদ্দোহা আশরাফী ও মোহাম্মদপুর মোহাম্মদী হোমস জামে মসজিদের খতিব মুফতি আদনান মাসউদসহ অনেকে।
