ইলেকট্রিক ট্রেন চলবে যে রুটে, সুবিধা পাবেন যারা

প্রকাশ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৫২ পিএম

রাজধানী ও আশপাশের এলাকার যাত্রীদের দ্রুত ও সহজ যোগাযোগের সুযোগ দিতে ইলেকট্রিক ট্রেন চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা-জয়দেবপুর রুটে চলবে এ ট্রেন। ২০৩১ সালের মধ্যে নতুন এ যাতায়াত ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ৩ হাজার ৮২২ কোটি টাকা ব্যয়ে ইলেকট্রিক ট্রেন প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী ও একনেকের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এদিন তিনটি মেট্রোরেল প্রকল্পসহ মোট ১ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮০ কোটি ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে ১২টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

একনেক সভা শেষে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি ইলেকট্রিক ট্রেন প্রকল্পের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, জয়দেবপুর-ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে কমিউটার ট্রেনের মতো ইলেকট্রিক ট্রেন চলবে। এর সঙ্গে মেট্রোরেলের কিছুটা সাদৃশ্য রয়েছে। মেট্রোরেলের মতো এটিও একাধিক স্টেশনে থামবে এবং মূলত নাগরিকদের চলাচলের সুবিধার জন্য পরিচালিত হবে।

তবে ইলেকট্রিক ট্রেনের জন্য আলাদা মেট্রোরেল ট্র্যাক তৈরি করা হবে না। প্রচলিত রেলপথের ট্র্যাকের ওপর দিয়েই ট্রেনটি পরিচালনা করা হবে।

এ জন্য ১৬০ কিলোমিটার গতিতে ট্রেন চলাচলের উপযোগী ডুয়েলগেজ রেলপথ তৈরির কাজ এগিয়ে চলছে। সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের প্রায় ৭০ শতাংশ কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

জোনায়েদ সাকি বলেন, ইলেকট্রিক ট্রেনের সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ১৬০ কিলোমিটার হবে। এটি বুলেট ট্রেনের মতো ঘণ্টায় ৩০০ কিলোমিটার গতিতে চলবে না। তবে বিদ্যমান রেলপথে চলাচলকারী ট্রেনের তুলনায় এর গতি বেশি হবে।

এই রুটে ইলেকট্রিক ট্রেন চালু হলে সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাবেন ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও জয়দেবপুরের মধ্যে প্রতিদিন যাতায়াতকারী যাত্রীরা।

বিশেষ করে কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী ও নিয়মিত যাত্রীদের দ্রুত যাতায়াতের সুযোগ তৈরি হবে। মেট্রোরেলের মতো একাধিক স্টেশনে থামার কারণে রুটের বিভিন্ন এলাকার যাত্রীরাও এ পরিবহনব্যবস্থা ব্যবহার করতে পারবেন।

প্রতিমন্ত্রী জানান, জয়দেবপুর-ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে ইলেকট্রিক ট্রেন চালুর উদ্যোগ সফল হলে ভবিষ্যতে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটেও ইলেকট্রিক ট্রেন চালুর পথ তৈরি হবে। এ জন্য প্রয়োজনীয় ট্র্যাক তৈরির প্রকল্পও রয়েছে।

তিনি বলেন, দেশে ইলেকট্রিক ট্রেন চালুর পাশাপাশি এ ধরনের প্রযুক্তি ও সক্ষমতা দেশেই তৈরি করার প্রয়োজন রয়েছে। তার মতে, প্রতিবেশী ভারতসহ বিভিন্ন দেশ এ ক্ষেত্রে সক্ষমতা অর্জন করেছে। বাংলাদেশেও এ সক্ষমতা তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বর্তমান সরকার এবং সে অনুযায়ী প্রকল্প তৈরি করা হচ্ছে।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩১ সালে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-জয়দেবপুর রুটে ইলেকট্রিক ট্রেন চালু হলে রাজধানীর সঙ্গে আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ এলাকার যোগাযোগব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যুক্ত হবে। 

বাংলাদেশ চিত্র অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন