সৌর বিদ্যুতে আলোকিত হচ্ছে পঞ্চবটি-মুক্তারপুরের দোতলা সড়ক

বাংলাদেশ চিত্র
প্রকাশ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৩৪ এএম

সৌরশক্তিতে আলোকিত হচ্ছে পঞ্চবটি হতে মুক্তারপুর সেতু পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণ ও দোতলা রাস্তা নির্মাণ প্রকল্পের ৯ দশমিক ০৬ কিলোমিটার উড়াল সড়ক। প্রকল্পের আওতায় সড়কের দুই পাশে আধুনিক প্রযুক্তির ৫৮৬টি সড়কবাতি স্থাপন করা হয়েছে। সৌরশক্তির মাধ্যমে এসব বাতি জ্বালানোর ফলে জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের পাশাপাশি বছরে প্রায় ৪ কোটি ৮৩ লাখ টাকার বিদ্যুৎ বিল সাশ্রয় হবে।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) প্রকল্পটি সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন সেতু বিভাগের সচিব এবং বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ। এ সময় প্রকল্পের অগ্রগতি ও সড়কবাতিতে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।

পরিদর্শনে সেতু সচিবের সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন সরকারের অতিরিক্ত সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের পরিচালক (প্রশাসন) আলতাফ হোসেন সেখ। এ সময় প্রকল্প পরিচালক ওহিদুজ্জামান, নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রিনাত ফৌজিয়া, বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের অতিরিক্ত পরিচালক (মওই) আঞ্জুমান আরা, উপপরিচালক (মওই) মো. মাসুদ রানা শিকদার, সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের সাইট অফিসের কর্মকর্তাগণ এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।

সৌরবিদ্যুতে বছরে সাশ্রয় ৪ কোটি ৮৩ লাখ টাকা

প্রকল্পের অগ্রগতি ও সড়কবাতিতে বিদ্যুৎ ব্যবহার দেখে সন্তোষ প্রকাশ করে সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ বলেন, ‘বর্তমান সরকারের বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের পরিকল্পনা অনুযায়ী পরিবেশবান্ধব ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে আমরা বদ্ধপরিকর। সোলার সিস্টেমের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনের যে বিশেষ নির্দেশনা সরকার দিয়েছে, এই প্রকল্পে তার সফল বাস্তবায়ন দেখে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। পঞ্চবটি হতে মুক্তারপুর সেতু পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণ ও দোতলা রাস্তা নির্মাণ প্রকল্পটি চালু হলে এই অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে।’

সেতু সচিব আরও বলেন, বর্তমান সরকারের দূরদর্শী নেতৃত্বে দেশের যোগাযোগ খাতে এক অভাবনীয় রূপান্তর ঘটেছে। প্রধানমন্ত্রীর সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা ও অদম্য সদিচ্ছার কারণেই আজ মেগা প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের মুখ দেখছে। একই সাথে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর প্রজ্ঞাপূর্ণ নেতৃত্ব এবং ধারাবাহিক দিকনির্দেশনায় দেশের যোগাযোগ অবকাঠামো বিশ্বমানে উন্নীত হচ্ছে।

বর্তমান সরকারের বিশেষ নির্দেশনা ও পরিবেশবান্ধব ভাবনার অংশ হিসেবে এই প্রকল্পের সমস্ত সড়কবাতি সম্পূর্ণ সোলার প্যানেল বা সৌর বিদ্যুতের মাধ্যমে জ্বালানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।

নবায়নযোগ্য জ্বালানির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে এবং সরকারি বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্য বাস্তবায়নে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় ৯ দশমিক ০৬ কিলোমিটার উড়াল সড়কের দুইধারে আধুনিক প্রযুক্তির মোট ৫৮৬টি সড়কবাতি স্থাপন করা হয়েছে। এসব বাতি সৌরশক্তি বা সোলার সিস্টেমের উৎপাদিত বিদ্যুতের সাহায্যে আলোকিত হবে।

বছরে সাশ্রয় হবে ৪ লাখ ২১ হাজার ৯২০ ইউনিট বিদ্যুৎ

সেতু কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, দৈনিক ১০ ঘণ্টা বাতি জ্বালানো হলে ১১৭২ ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে। এতে মাসিক ৪,০২,৯৩৩/- টাকা এবং বাৎসরিক ৪,৮৩,৫২,০৩/- টাকার বিদ্যুৎ বিল সাশ্রয় হবে। ফলে জাতীয় গ্রিডে বার্ষিক ৪,২১,৯২০ ইউনিট বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে।

২০২৬ সালের মধ্যেই খুলবে যান চলাচলে

পরিদর্শন শেষে সেতু সচিব প্রকল্পের সঙ্গে জড়িত সবাইকে পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে দ্রুত ও সুচারুভাবে কাজ শেষ করার নির্দেশনা দেন। তিনি প্রকল্পের চলমান কাজের সার্বিক অগ্রগতি ঘুরে দেখেন।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গুণগত মান বজায় রেখে কাজ সম্পন্ন করা এবং ২০২৬ সালের মধ্যে জনসাধারণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করার ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রকল্প পরিচালককে নির্দেশনা দেন তিনি।

বাংলাদেশ চিত্র অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন