পানাম সিটির সৌন্দর্য ও প্রাচীনতম নগর

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০৯ পিএম

পৃথিবীর ১০০টি ঐতিহাসিক প্রাচীনতম শহরের মধ্যে ধ্বংসপ্রায় একটি শহর যা নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁ উপজেলায় অবস্থিত পানাম নগর। পানাম নগর বাংলার প্রাচীনতম শহর। এক সময় ধনী হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকদের বসবাস ছিল এই পানাম নগরে। সেসময় মসলিনের জমজমাট ব্যবসায়ীক হাট বসতো এই পানাম নগরে। প্রাচীন সেই নগরীর তেমন কিছু এখন আর অবশিষ্ট নেই। কিন্তু প্রাচীন সময়ের কিছু এখন আর না থাকলেও আছে শুধু ঘুরে দেখার মতো ঐতিহাসিক স্থাপনার পুরনো বাড়িগুলো। এখানেই প্রতিদিন হাজারো মানুষ ঘুড়তে আসেন প্রাচীন এই শহর দেখতে ।

১০০টি ঐতিহাসিক স্থাপনার তালিকায় প্রকাশ করা হয় ২০০৬ সালে। সেখানে পানাম নগরকে শতাব্দীর পুরনো স্থাপনা হিসেবে ধ্বংসের তালিকায় রাখা হয়। ঈসা খাঁর আমলে বাংলার রাজধানী ছিল এই পানামনগর। পানামনগর, বড়নগর, খাসনগর, প্রাচীন সোনারগাঁর-এই তিন নগরের মধ্যে পানাম নগর ছিল সবচেয়ে আকর্ষণীয়। এখানে কয়েক শতাব্দীর অনেক পুরনো ভবন রয়েছে, যা বাংলার বার ভূঁইয়াদের ইতিহাসের সঙ্গে সম্পর্কিত। এই নগরী গড়ে উঠেছে সোনারগাঁর ২০ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে ।

ঐতিহাসিকভাবে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি শহর। জানা যায়, ১৪০০ শতাব্দীতে এখানে একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। যেখানে পৃথিবীর খ্যাতনামা শিক্ষকরা পড়াতে আসতেন। এখানে একটি ভৃত্য বাজার ছিল বলেও জানা যায়। পানাম নগরীর দুই পাশে ঔপনিবেশিক আমলের মোট ৫২টি স্থাপনা রয়েছে। এর উত্তরে ৩১টি এবং দক্ষিণে ২১টি স্থাপনা অবস্থিত।

এই স্থাপনাগুলোর স্থাপত্যে ইউরোপীয় শিল্পরীতির সঙ্গে মুঘল শিল্পরীতির মিশ্রণ লক্ষ করা যায়। পানাম নগরী নিখুঁত নকশার মাধ্যমে নির্মাণ করা হয়েছে। প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই কূপসহ আবাস উপযোগী নিদর্শন রয়েছে। নগরীর পানি সরবরাহের জন্য দুই পাশে খাল ও পুকুর রয়েছে। এখানে আবাসিক ভবন ছাড়াও উপাসনালয়, গোসলখানা, পান্থশালা, দরবার কক্ষ ইত্যাদি রয়েছে, আশপাশে আরও কিছু স্থাপনা রয়েছে যেমন-ঈশা খাঁর তোরণ, নীলকুঠি, ছোট সরদারবাড়ি, বণিক বসতি, ঠাকুরবাড়ি, পানাম নগর সেতু সহ অনেক কিছু। পানাম নগরের পাশে আছে চমৎকার লোকশিল্প জাদুঘর। যা সকলের কাছে সোনারগাঁ জাদুঘর নামে পরিচিত। আবার অনেকের কাছে সোনারগাঁ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন জাদুঘর নামেও পরিচিত ।

খোলা ও বন্ধ থাকে যেদিন : পানাম নগর সপ্তাহে ১দিন রবিবার সারাবেলা বন্ধ থাকে এবং সোমবার একবেলা অর্থাৎ আধাবেলা বন্ধ থাকে। এছাড়া সরকারি ছুটির দিনগুলোতে শুধু সোনারগাঁ জাদুঘর বন্ধ থাকে কিন্তু পানাম সিটি খোলা থাকে। পানাম নগরে ঢুকতে জনপ্রতি ৩০ টাকা দিয়ে টিকিট কাটতে হয়। এছাড়া জাদুঘরের জন্য ৫০ টাকা দিয়ে টিকিট কাটতে হয়। ঢাকা থেকে পানাম নগরের দূরত্ব ২৭ কি.মি. যা সোনারগাঁ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন জাদুঘর থেকে ০.৫ কিমি উত্তরে অবস্থিত। যে কেউ প্রাইভেটকার অথবা মাইক্রোবাস নিয়ে সরাসরি পানাম নগর যেতে পারবেন। ঢাকার আশপাশে হওয়ার কারণে আপনি দিনে গিয়ে দিনেই ফিরে আসতে পারবেন।

যাওয়া আশা করবেন যেভাবে : ঢাকার যেকোন প্রান্ত থেকেই আপনি প্রাইভেটকার অথবা মাইক্রোবাসে করে আসতে পারবেন সরাসরি পানাম নগরে বা সোনারগাঁ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন জাদুঘরে । বাস যোগেও আসতে পারবেন । রাজধানীর গুলিস্থান থেকে সরাসরি ঢাকা- দাউদকান্দি বা ঢাকা- চট্টগ্রাম রুটের বাসে করে আসতে পারেন। দাউদকান্দি মহাসড়কের সোনারগাঁ মোগড়াপাড়া চৌরাস্তায় প্রধান সড়কে এসে নামতে হবে । এরপর রিক্সা/অটোরিক্সায় করে যেতে পারবেন । বাস রিজার্ভ করে নিয়ে আসতে পারবেন । চাইলে সরাসরি সোনারগাঁ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন জাদুঘর এর দক্ষিণ পাশে অবস্থিত মাঠে বাস রাখতে পারবেন। গুলিস্তান থেকে এসি বাসের ভাড়া ৭০/৮০ টাকা এবং দাউদকান্দি রুটের মেঘনা,দোয়েল,স্বদেশ পরিবহনের বাসগুলোতে ভাড়া ৫০/৬০ টাকা ।

বাংলাদেশ চিত্র অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন