পাকিস্তানের উইকেটকিপার-ব্যাটার মোহাম্মদ রিজওয়ানের করা রিট আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন লাহোর হাইকোর্ট। একই সঙ্গে দেশটির ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইমস ইনভেস্টিগেশন এজেন্সির (এনসিসিআইএ) জিজ্ঞাসাবাদে সহযোগিতা করে তাদের প্রশ্নের উত্তর দিতে রিজওয়ানকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সংক্ষিপ্ত শুনানি শেষে আদালত রিজওয়ানের আবেদনটি খারিজ করেন। এর আগে বুধবার আইনজীবীদের মাধ্যমে লাহোর হাইকোর্টে রিট আবেদনটি করেন পাকিস্তানের এই ক্রিকেটার।
আবেদনে রিজওয়ান দাবি করেছিলেন, তাকে কেন জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে, সে বিষয়ে এনসিসিআইএ স্পষ্ট কোনো কারণ জানায়নি। পাশাপাশি অনলাইন বেটিং বা জুয়া-সংক্রান্ত অভিযোগ তদন্তে ওই সংস্থার এখতিয়ার নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
রিজওয়ানের দাবি ছিল, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দুর্নীতি, বেটিং ও স্পট-ফিক্সিংয়ের মতো অভিযোগ তদন্তের জন্য আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) অ্যান্টি-করাপশন ইউনিট (এসিইউ) নির্ধারিত সংস্থা। ফলে এনসিসিআইএর এ বিষয়ে তদন্তের এখতিয়ার নেই।
রিটে এনসিসিআইএর অভিযোগকে ‘অস্পষ্ট’ ও ‘ভিত্তিহীন’ দাবি করে রিজওয়ান বলেন, তাকে হয়রানি ও তার সুনাম ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যেই এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
গত সপ্তাহে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিজওয়ানকে তলব করেছিল এনসিসিআইএ। একই দিনে পাকিস্তানের আরেক ক্রিকেটার ইমাম-উল-হকও সংস্থাটির সামনে হাজির হন। তবে ইমামকে দেওয়া প্রশ্নমালার উত্তর তিনি পরে পূরণ করে চলতি সপ্তাহের শুরুতে সংস্থাটির কাছে পাঠিয়ে দেন। রিজওয়ান অবশ্য সরাসরি আদালতের দ্বারস্থ হন।
রিটে আরও অভিযোগ করা হয়, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লর্ডসে দ্বিতীয় টেস্টের পর রিজওয়ানের মোবাইল ফোন নিয়ে নেওয়া হয়েছিল। আবেদনে বলা হয়, রাত ১টার দিকে হোটেলের লবিতে তাকে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে সরকারি কোনো সংস্থার কর্মকর্তা পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তি তার মোবাইল ফোন নিয়ে নেন এবং কেন ফোনটি নেওয়া হচ্ছে, সে বিষয়ে কোনো কারণ বা লিখিত আদেশ দেখানো হয়নি।
রিজওয়ানকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল, ফোনটি পরীক্ষা করে তিন ঘণ্টার মধ্যে ফেরত দেওয়া হবে। তবে তার দাবি অনুযায়ী, এর পরও ফোনটি ফেরত দেওয়া হয়নি।
লর্ডস টেস্টে পাকিস্তান ১৯৪ রানে হারের পর রিজওয়ান, ইমামসহ কয়েকজন ক্রিকেটারকে ইংল্যান্ড সফরের দল থেকে দেশে ফেরত পাঠায় পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। একই সময়ে সফর শেষে শৃঙ্খলা ও আচরণ নিয়ে নিজস্ব অভ্যন্তরীণ তদন্তও শুরু করে বোর্ড। তবে সেই তদন্তের সঙ্গে এনসিসিআইএর জিজ্ঞাসাবাদের সরাসরি কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
এদিকে রিজওয়ান ও ইমামের ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ড সফরের দলে অন্তর্ভুক্তি নিয়েও নির্বাচকদের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছিল পিসিবি। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাদের নির্বাচনের কারণ ও প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছিল। এ ঘটনার পর নির্বাচক কমিটির সদস্য মিসবাহ-উল-হক পদত্যাগ করেন।
লাহোর হাইকোর্টের রায়ের পর রিজওয়ান এনসিসিআইএর প্রশ্নের উত্তর দেবেন কি না, কিংবা এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে উচ্চতর আদালতে যাবেন কি না, তা এখনো জানা যায়নি।
