ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে অবিলম্বে পদত্যাগের দাবি জানিয়েছেন জার্মান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (ডিএফবি) সহসভাপতি হান্স-জোয়াকিম ওয়াতজকে। বার্লিনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বিষয়ক এক উৎসবে যোগ দিয়ে তিনি বলেন, কোনো শর্ত বা অজুহাত ছাড়াই ইনফান্তিনোকে ফিফা সভাপতির পদ ছাড়তে হবে।
বার্তা সংস্থার এএফপির বরাতে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে হতে যাওয়া ফিফা নির্বাচনে ইনফান্তিনোর পুনর্নির্বাচনের সমর্থনে খোলা চিঠিতে সই না করা হাতেগোনা কয়েকটি ফুটবল ফেডারেশনের একটি ছিল এই ডিএফবি।
ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ তুলে ধরে ওয়াতজকে বলেন, ‘তাকে যেতেই হবে, এখানে কোনো ‘যদি’ বা ‘কিন্তু’র সুযোগ নেই।’
ওয়াতজকের প্রথম অভিযোগ ‘ফিফা পিস প্রাইজ’ নিয়ে। ২০২৬ বিশ্বকাপের ড্র অনুষ্ঠানে ইনফান্তিনো নিজেই এই পুরস্কার চালু করেন এবং তা তুলে দেন তার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতে।
এ প্রসঙ্গে ওয়াতজকে বলেন, ‘সে নিজেই এই পুরস্কার বানিয়েছে এবং নিজেই এর বিজয়ী ঠিক করেছে। নিজের মনমতো হুট করে একটা কিছু বানিয়ে সেটা ঘোষণা করে দেওয়া যায় না, এটা নিছকই পাগলামি।’
এছাড়া সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে আমেরিকান ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগানের লাল কার্ড সংক্রান্ত বিতর্কিত সিদ্ধান্তেরও কড়া সমালোচনা করেন তিনি। শেষ ৩২-এর ম্যাচে লাল কার্ড পাওয়ায় বালোগানের ওপর এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা আসার কথা ছিল। কিন্তু ইনফান্তিনোকে ট্রাম্পের একটি ফোন কলের পরপরই অলৌকিকভাবে সেই শাস্তি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।
ওয়াতজকে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘খেলোয়াড় লাল কার্ড পাওয়ার পর রাষ্ট্রপ্রধান ফিফা সভাপতিকে ফোন দেবেন আর সাথে সাথে সিদ্ধান্ত বদলে যাবে- এটা কোনো নিয়ম হতে পারে না। এটাও চরম এক পাগলামি।’
ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে তার তৃতীয় অভিযোগ ছিল বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান তৈরির পরিকল্পনা নিয়ে, যা গত ২৮ জুলাই উন্মোচিত হলেও ব্যাপক আন্দোলনের মুখে চার দিন পরই বাতিল করতে বাধ্য হয় ফিফা।
ওয়াতজকে বলেন, ‘এটা পুরোপুরি উন্মাদনা ছাড়া আর কিছু নয়। বিষয়টি সম্পর্কে কেউ কিছু জানত না- এমনকি ফিফায় তার নিজস্ব সহ-সভাপতি বা কাউন্সিল সদস্যরাও এতে অন্ধকারেই ছিলেন।’
এর আগে চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে জার্মান সংবাদমাধ্যম আরটিএল/এনটিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ডিএফবি সভাপতি বার্নড নয়েনডর্ফও জানান, ইনফান্তিনোর বিদায়ের সময় এসেছে।
তিনি বলেন, ‘বর্তমান ফিফা নেতৃত্বের অধীনে জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর ওপর বিশ্বাসের সম্পর্ক পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। এই ‘ইনফান্তিনো ব্যবস্থা’র ইতি টানা এখন সময়ের দাবি।’
উল্লেখ্য, আগামী ১৮ নভেম্বর পর্যন্ত সভাপতি পদে প্রার্থিতা জমার সময়সীমা রয়েছে। বর্তমানে ২০২৭ সালের ১৮ মার্চ নির্ধারিত এই ফিফা নির্বাচনের একমাত্র প্রার্থী হিসেবে নাম রয়েছে ইনফান্তিনোরই।
সূত্র: আলজাজিরা
