নিজের ক্যারিয়ারে হাজারবার বর্ণবাদের তিক্ত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়েছে বলে এক বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন বার্সেলোনা ফরোয়ার্ড লামিনে ইয়ামাল। তবে তার মতে, এমন অনেক মানুষ আছেন যারা নিজেদের কোনো মন্তব্য বা আচরণ যে বর্ণবাদী, তা নিজেরাও বুঝে উঠতে পারেন না।
স্প্যানিশ সম্প্রচারমাধ্যম ‘মোভিস্টার’- এ দেওয়ার সাক্ষাৎকারের বরাতে আলজাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে।
২০২৪ সালের অক্টোবরে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে বার্সেলোনায় খেলার সময় লামিনে ইয়ামাল, রাফিনিয়া ও আনসু ফাতি বর্ণবাদী আচরণের শিকার হন- এমন একটি ফুটেজ ছড়িয়ে পড়েছিল। পরবর্তী সময়ে স্প্যানিশ অবজারভেটরি অন রেসিজম অ্যান্ড জেনোফোবিয়ার মার্চে প্রকাশিত এক বুলেটিনে জানানো হয়, ২০২৫ সালের শেষ প্রান্তিকে স্পেনে অনলাইনে সবচেয়ে বেশি বর্ণবাদী আক্রমণের শিকার হয়েছেন ইয়ামাল ও রিয়াল মাদ্রিদ তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়র।
স্প্যানিশ সম্প্রচারমাধ্যম ‘মোভিস্টার’-এ আর্জেন্টিনার সাবেক আন্তর্জাতিক ফুটবলার হোর্হে ভালদানোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বর্ণবাদের মুখোমুখি হওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ১৯ বছর বয়সী এই তারকা বলেন, ‘হাজারবার এমনটা ঘটেছে।’
নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি আরও যোগ করেন, ‘মানুষ আপনার ওপর পরোক্ষভাবে বর্ণবাদী আচরণ করে, যা তারা হয়তো নিজেরাও উপলব্ধি করতে পারে না। এমন অনেক মন্তব্য বা দৃষ্টিভঙ্গি থাকে যা স্পষ্টতই বর্ণবাদী, কিন্তু তারা সেটা খেয়ালও করে না।’
বর্ণবাদী গালাগাল তাকে কীভাবে প্রভাবিত করে, তা নিয়ে খোলামেলা কথা বলতে গিয়ে ইয়ামাল বলেন, ‘কেউ যদি আমাকে ‘কালো’ বলে ডাকে, তাতে আমার বিন্দুমাত্র যায়-আসে না। দিনশেষে আমি কালো, অন্য কোনো রঙের তো নই! তবে মূল বিষয়টি হলো তারা মন্তব্যটি আমাকে অপমান করার উদ্দেশ্যে বলছে কি না, ভালো নাকি খারাপ উদ্দেশ্যে বলছে।’
মাঠের গ্যালারি থেকে আসা কটূক্তি এড়িয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, ‘কিন্তু আমি যখন কোনো ম্যাচ খেলি এবং দর্শক কেবল আমাকে দেখতে টিকিট কেটে মাঠে আসেন, তখন কেউ আমার প্রতি অনাদর দেখালেই আমি রেগে যাব না।’
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে স্প্যানিশ ফুটবলে বেশ কয়েকটি আলোচিত বর্ণবাদী ঘটনার পর স্টেডিয়ামগুলোতে বর্ণবাদবিরোধী তৎপরতা ও পর্যবেক্ষণ আরও জোরদার করেছে লা লিগা কর্তৃপক্ষ।
সূত্র: আলজাজিরা।
