পদ্মার স্রোতে ভারতে, ১১ দিন পর ফিরলেন ৫ বাংলাদেশি

বাংলাদেশ চিত্র
প্রকাশ : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৩২ এএম

পদ্মার স্রোতে নৌকা নিয়ে রাজশাহীর বাঘায় ফেরার পথে ভুল করে ভারতের সীমান্তে ঢুকে পড়ে বিএসএফের হাতে আটক হন পাঁচ বাংলাদেশি। তারপর কেটে যায় ১১ দিন, অবশেষে সন্তান ফিরে পেল পাঁচ পরিবার।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) ভারতের সাগরপাড়া সীমান্তের বিএসএফ ক্যাম্প থেকে ছাড়া পেয়ে আলাইপুর বিজিবি ক্যাম্পের মাধ্যমে দেশে ফিরেছেন তারা।

ফিরে আসা পাঁচজন হলেন, বাঘার পাকুড়িয়া ইউনিয়নের আলাইপুর মধ্যপাড়া গ্রামের গোলাম মোস্তফার ছেলে মোশাররফ হোসেন (২২), ইউনুস মণ্ডলের ছেলে শাহাবুল আলী (৪২), শাজাহান আলীর ছেলে বাবর আলী (৪৫), নৌকার মাঝি জামাল হোসেনের ছেলে আসাদুল ইসলাম (৪১) ও সামাদ আলীর ছেলে সাইফুল ইসলাম (৫৮)।

শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে তাদের দেশে ফেরার পর আলাইপুর বিজিবি ক্যাম্পসংলগ্ন পদ্মার তীরে স্বজনদের কাছে গ্রহণ করেন রাজশাহী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আবু সাঈদ চাঁদ। পরে তাদের পরিবারের সদস্যদের কাছে তুলে দেওয়া হয়।

ছেলেকে কাছে পেয়ে গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘১১ দিন ধরে ছেলেকে কাছে না পেয়ে আমরা খুব দুশ্চিন্তায় ছিলাম। প্রতিটি দিন তার ফেরার অপেক্ষায় কেটেছে। আজ ছেলেকে সুস্থভাবে ফিরে পেয়েছি, এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় স্বস্তি।’

বাবর আলীর স্ত্রী হেলেনা বেগম বলেন, ‘এই ১১ দিন স্বামীকে ছাড়া খুব দুশ্চিন্তায় কাটাতে হয়েছে। প্রতিদিন তার ফেরার অপেক্ষায় ছিলাম। আজ তাকে সুস্থভাবে ফিরে পেয়ে পরিবারের স্বস্তি ফিরে এসেছে।’

স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৭ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে কুষ্টিয়ার বাংলাবাজার চর থেকে পাট কিনে নৌকায় করে বাঘায় ফিরছিলেন পাঁচজন। এ সময় পদ্মার তীব্র স্রোতে দিকভ্রান্ত হয়ে পড়েন তারা। একপর্যায়ে নৌকাটি সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের প্রায় দুই থেকে আড়াই কিলোমিটার ভেতরে চলে যায়।

সেখানে বিএসএফের একটি টহল দল পাটবোঝাই নৌকাসহ তাদের আটক করে।

খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা  আলাইপুর বিজিবি ক্যাম্পে যোগাযোগ করেন। পরে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক হয়। তবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া তাদের ফেরত দেওয়া সম্ভব নয় বলে বিএসএফের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

এরপর সংসদ সদস্য আবু সাঈদ চাঁদ পাঁচ বাংলাদেশিকে দেশে ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগ নেন। তিনি রাজশাহীতে নিযুক্ত ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার মনোজ কুমারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। জাতীয় পরিচয়পত্রসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার পর প্রশাসনিক ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় তাদের ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়।

অবশেষে শুক্রবার ভারতের সাগরপাড়া সীমান্তের বিএসএফ ক্যাম্প থেকে তাদের মুক্তি দেওয়া হয়। পরে আলাইপুর বিজিবির মাধ্যমে তারা বাংলাদেশে ফিরে আসেন।

আলাইপুর বিওপি ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার নায়েক সুবেদার মাকসুদুর রহমান বলেন, ‘বিএসএফের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের প্রশাসনিক ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় তাদের মুক্ত করে আমাদের মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।’

আসাদুল ইসলামের ভাই সাহারুল ইসলাম বলেন, ‘আমার ভাইসহ পাঁচজনকে ভারতের রানীনগর থানায় রাখা হয়েছিল। ১১ দিন পর তারা মুক্তি পেয়ে আমাদের কাছে ফিরে এসেছেন।’

পাঁচজনকে স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের সময় সংসদ সদস্য আবু সাঈদ চাঁদ বলেন, ‘নদীর স্রোতের কারণে ভুলবশত তারা বিএসএফের হাতে আটক হওয়ার পর থেকে আমি কখনও ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনারের কার্যালয়ে, কখনও বিজিবির সিওর সঙ্গে, আবার কখনও জেলা প্রশাসকের দপ্তরে যোগাযোগ করেছি। আমার এলাকার প্রতিটি নাগরিক আমার কাছে নিজ সন্তানের মতো আপন। তাদের পরিবারের কাছে নিরাপদে ফিরিয়ে দিতে পেরে আমি খুশি।’

বাংলাদেশ চিত্র অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন