এশিয়ান গেমসেও নকভির থাকার সম্ভাবনা, ভারতের ফের ট্রফিহীন উদযাপন!

বাংলাদেশ চিত্র
প্রকাশ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:০৮ এএম

এশিয়া কাপের ট্রফি নিয়ে যে তুলকালাম কাণ্ড ঘটেছিল, এশিয়ান গেমসেও কি তারই পুনরাবৃত্তি ঘটতে যাচ্ছে? রোববার সেমিফাইনালে বাংলাদেশের মুখোমুখি হতে যাওয়া ফেভারিট ভারতীয় নারী দলকে ঘিরে এখন এই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে ক্রিকেটপাড়ায়। এক বছর আগে পুরুষ দলের মতো এবার নারী দলও দুবাইয়ে মহসিন নকভির হাত থেকে ট্রফি নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল।

এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) সভাপতি হিসেবে নাগায়া গেমসে পদক প্রদানের সম্মানীয় দায়িত্বে নকভিকে দেখা যেতেই পারে। তবে এবার ঘটনা দুবাইয়ের মতো না-ও হতে পারে। জাপানের সঙ্গে ভারতের বর্তমান কূটনৈতিক সম্পর্ক অত্যন্ত সুদৃঢ়। দুই দেশের বন্ধুত্ব ৭৫ বছর পূর্ণ হওয়া উপলক্ষে বেশ কিছু বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার অংশ হিসেবে র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ দল ভারত সম্প্রতি সহযোগী দেশ জাপানের বিরুদ্ধে খেলার সম্মতি দিয়েছে। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ভারতের ৪১ নম্বরে থাকা দলের বিপক্ষে খেলার ঘটনায় দুই দেশের সরকার, বিসিসিআই ও জাপান ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের যৌথ ভূমিকা রয়েছে। তাই এই সম্পর্ক বিবেচনায় জাপান ভারতের অস্বস্তির কারণ হতে পারে- এমন কিছু ঘটতে দেবে না বলেই মনে করা হচ্ছে।

এসিসির এক কর্মকর্তা এ বিষয়ে বলেন, জাপান নিশ্চিতভাবেই ভারতকে কোনো ধরনের অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে ফেলবে না। ভারতের এমন উদার সৌজন্যের উপযুক্ত সম্মান তারা রাখবে এবং এতে এসিসির বেশি কিছু করার থাকবে না।

পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি নির্বাচন অলিম্পিক কাউন্সিল অব এশিয়ার (ওসিএ) এখতিয়ার হলেও, এ ক্ষেত্রে স্থানীয় আয়োজক কমিটি ও জাপানি অলিম্পিক কমিটির মতামতই প্রাধান্য পাবে। আর এই দুই সংস্থাই ভারতের আপত্তি ও সেন্টিমেন্ট মাথায় রেখে পদক্ষেপ নেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিসিসিআই অবশ্য এই ইস্যুতে কৌশলগত নীরবতা বজায় রাখছে। ভারতীয় দল পোডিয়ামে উঠলে নকভি পদক তুলে দিলে বিসিসিআই কী ভূমিকা নেবে- এমন প্রশ্নের জবাবে বোর্ড সচিব দেবাশিস সাইকিয়া বলেন, আগে তো দলগুলোকে ফাইনালে উঠতে হবে। আমরা সময়মতো সব পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেব। 

অন্যদিকে, নকভি আদৌ জাপান সফরে যাবেন কি না, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) এক মুখপাত্র তার সফরের বিষয়টি একপ্রকার নাকচ করে দিলেও, শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য নকভির সুনাম রয়েছে। উল্লেখ্য, এশিয়া কাপের ফাইনাল শেষ হওয়ার ঠিক ৩০ মিনিট আগে তিনি দুবাইয়ে গিয়ে হাজির হয়েছিলেন।

বিসিসিআইয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা কিন্তু নাগায়ায় উপস্থিত থাকছেন। আগামী ১ অক্টোবর বিসিসিআই সচিবের জাপানে যাওয়ার কথা রয়েছে। ৩ অক্টোবর পুরুষ দলের ফাইনাল পর্যন্ত তিনি সেখানেই অবস্থান করবেন। সূচি অনুযায়ী, ২২ সেপ্টেম্বর নারী বিভাগের এবং ৩ অক্টোবর পুরুষ বিভাগের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে। এবার ভারত ও পাকিস্তান দলের কেবল মেডেল নিশ্চিত করার ম্যাচেই (সোনা বা ব্রোঞ্জ) মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তা না হলে টুর্নামেন্টে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর দেখাই না-ও হতে পারে।

বাংলাদেশ চিত্র অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন