শিশু নিখোঁজের খবর যেভাবে দ্রুত পৌঁছাবেন মানুষের কাছে

বাংলাদেশ চিত্র
প্রকাশ : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৪৩ পিএম

কোনো শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর দ্রুত খবর ছড়িয়ে দেওয়া তার সন্ধান পাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এ জন্য বাংলাদেশে চালু হয়েছে ‘মুন অ্যালার্ট’ নামে একটি সতর্কতা ব্যবস্থা।

এর মাধ্যমে নিখোঁজ শিশুর তথ্য যাচাই করে দ্রুত সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। শিশু নিখোঁজ হলে টোল-ফ্রি ১৩২১৯ নম্বরে ফোন করে অথবা অনলাইনে তথ্য দিয়ে এ সেবার সহায়তা নেওয়া যায়।

বাংলাদেশ পুলিশের ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট (সিআইডি) ও অ্যাম্বার অ্যালার্ট ফর বাংলাদেশ যৌথভাবে এই উদ্যোগ চালু করেছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো নিখোঁজ শিশুর তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে দিয়ে অনুসন্ধান কার্যক্রমে সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করা।

কোনো শিশু নিখোঁজ হলে পরিবারের প্রথমেই পুলিশকে বিষয়টি জানানো উচিত। পাশাপাশি মুন অ্যালার্টের ১৩২১৯ নম্বরে কল করে শিশুটির নিখোঁজ হওয়ার তথ্য জানানো যায়। এ ছাড়া munalert.org ওয়েবসাইটে গিয়ে অনলাইনে সতর্কবার্তা দেওয়ার আবেদন করা সম্ভব।

মুন অ্যালার্টের তথ্য অনুযায়ী, শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর প্রথম তিন ঘণ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সময়ে যত দ্রুত নিখোঁজের তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও মানুষের কাছে পৌঁছানো যায়, তত দ্রুত অনুসন্ধান কার্যক্রমে জনসম্পৃক্ততা তৈরি করা সম্ভব।

তবে মুন অ্যালার্ট পুলিশের বিকল্প নয়; বরং পুলিশের অনুসন্ধানের পাশাপাশি তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে দেওয়ার একটি মাধ্যম হিসেবে কাজ করে।

মুন অ্যালার্টের মাধ্যমে কোনো শিশুর নিখোঁজ হওয়ার খবর ছড়িয়ে দেওয়া হলে যাচাইকৃত তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অংশীদার নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হতে পারে। এর মধ্যে ফেসবুক, মেসেঞ্জার ও ইনস্টাগ্রামের মতো প্ল্যাটফর্ম রয়েছে। এ ছাড়া মেট্রোরেল স্টেশন, এটিএম বুথ ও ব্যাংকের ডিজিটাল স্ক্রিনেও নিখোঁজ শিশুর ছবি ও প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদর্শনের সুযোগ রয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী মসজিদের মাইকেও শিশুটির নিখোঁজ হওয়ার ঘোষণা দেওয়া হতে পারে।

মুন অ্যালার্টের সঙ্গে মেটার অংশীদারত্বের কারণে যাচাইকৃত নিখোঁজ শিশুর সতর্কবার্তা নির্দিষ্ট এলাকার ফেসবুক ব্যবহারকারীদের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে। এর ফলে কোনো ব্যক্তি শিশুটিকে দেখে থাকলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তথ্য জানানোর সুযোগ পান।

কোনো মুন অ্যালার্ট নোটিফিকেশন পাওয়ার পর শিশুটিকে কোথাও দেখা গেছে বলে মনে হলে নিজের উদ্যোগে শিশুটির কাছে যাওয়া বা পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা না করে পুলিশ অথবা সতর্কবার্তায় উল্লেখ করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। নোটিফিকেশনে থাকা শিশুটির ছবি, নাম, পোশাক ও অন্যান্য পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য ভালোভাবে মিলিয়ে দেখাও জরুরি।

মুন অ্যালার্ট জিরো মিসিং চিলড্রেন ফাউন্ডেশনের একটি উদ্যোগ। নিখোঁজ শিশুর সংখ্যা শূন্যে নামিয়ে আনা এবং প্রতিটি নিখোঁজ শিশুর রিপোর্টকে জরুরি গুরুত্ব দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এটি গড়ে তোলা হয়েছে।

বাংলাদেশে জাতীয় পর্যায়ে নিখোঁজ শিশু সতর্কতা ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা সামনে রেখে ফাউন্ডেশন ২০২৪ সালে ‘অ্যাম্বার অ্যালার্ট ফর বাংলাদেশ’ পিটিশন চালু করে। এতে এক লাখ মানুষের সমর্থন পাওয়া যায়। এরপর চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি ঢাকায় পাইলট উদ্যোগ হিসেবে মুন অ্যালার্টের কার্যক্রম শুরু হয় বাংলাদেশ পুলিশের সিআইডির সহযোগিতায়।

‘মুন অ্যালার্ট’ নামটির পূর্ণরূপ Missing Urgent Notification। মুনতাহার স্মৃতিকে ধারণ করে এই নামকরণ করা হয়েছে। তার নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা দেশে কার্যকর নিখোঁজ শিশু সতর্কতা ও সাড়াদান ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা সামনে আনে।

মুন অ্যালার্ট ১৩২১৯ হেল্পলাইন ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে নিখোঁজ শিশুর রিপোর্ট গ্রহণ করে। এরপর স্বেচ্ছাসেবীরা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করেন এবং রিপোর্ট করা ঘটনার অগ্রগতি অনুসরণ করেন। যাচাইকৃত তথ্য পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অংশীদার নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে পরিবারগুলোকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতেও সহায়তা করা হয়।

ঢাকায় পাইলট কার্যক্রম শুরুর পর ২০২৬ সালের ২৫ মে আন্তর্জাতিক নিখোঁজ শিশু দিবসে মেটার সহযোগিতায় মুন অ্যালার্ট জাতীয়ভাবে চালু করা হয়। এই সহযোগিতার ফলে যাচাইকৃত নিখোঁজ শিশুর সতর্কবার্তা সংশ্লিষ্ট এলাকার ফেসবুক ব্যবহারকারীদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

মুন অ্যালার্টের কার্যকারিতা নির্ভর করে নিখোঁজ শিশুর খবর কত দ্রুত জানানো হচ্ছে, পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো কত দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছে, সতর্কবার্তা কত মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে এবং সাধারণ মানুষ শিশুটিকে শনাক্ত করার পর কত দ্রুত কর্তৃপক্ষকে জানাচ্ছেন তার ওপর। তাই কোনো শিশু নিখোঁজ হলে দেরি না করে পুলিশকে জানানোর পাশাপাশি মুন অ্যালার্টের ১৩২১৯ নম্বরে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ চিত্র অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন