ফুটবলের দুই মহাতারকা লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো বয়সের শেষ প্রান্তে পৌঁছেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। একজনের ক্যারিয়ারে যোগ হচ্ছে নতুন ট্রফি ও রেকর্ড, অন্যজনকে ঘিরে উঠছে পারফরম্যান্স ও ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন। গত এক সপ্তাহের ঘটনাপ্রবাহ যেন আরও একবার দেখিয়ে দিল—দুই কিংবদন্তির ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়ও কতটা আলাদাভাবে এগোচ্ছে।
মেসির জন্য সপ্তাহটি ছিল সাফল্যে মোড়ানো। মাঝ সপ্তাহে ক্রুজ আজুলকে ২-০ গোলে হারিয়ে ইন্টার মিয়ামি জেতে ক্যামপেওনেস কাপ। ম্যাচে লুইস সুয়ারেজের ক্রস থেকে দুর্দান্ত হেডে গোল করে মেসি দলকে এগিয়ে দেন। পরে কর্নার থেকে তার নেওয়া বলে কাসেমিরো গোল করে ব্যবধান বাড়ান। এই গোলের মাধ্যমে ইন্টার মিয়ামির হয়ে মেসির গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ১০০-তে, আর ক্যারিয়ারে পেশাদার ট্রফির সংখ্যা পৌঁছে যায় ৪৯-এ।
সপ্তাহের শেষেও থামেননি আর্জেন্টাইন তারকা। সানদিয়েগোর বিপক্ষে সরাসরি ফ্রি-কিকে গোল করে তিনি পৌঁছে যান ৭৫টি ডাইরেক্ট ফ্রি-কিক গোলের মাইলফলকে। ম্যাচটি অবশ্য শেষ পর্যন্ত ২-২ গোলে ড্র হয়। মেসির গোলের পর সুয়ারেজ মিয়ামিকে এগিয়ে দিলেও আন্দের্স ড্রেয়ারের দ্বিতীয় গোল সমতা ফেরায়। ফলে ইস্টার্ন কনফারেন্সে নিউ ইংল্যান্ড রেভল্যুশনের পেছনে গোল ব্যবধানে তৃতীয় অবস্থানে আছে মিয়ামি।
অন্যদিকে রোনালদোর সপ্তাহটি ছিল হতাশার। এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ এলিটে আল আইনের মাঠে আল-নাসর ৪-০ গোলে বিধ্বস্ত হয়। শুরু থেকে মাঠে থাকলেও রোনালদো ম্যাচে উল্লেখযোগ্য প্রভাব রাখতে পারেননি। তার পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর কোচ অ্যাঞ্জে পোস্টেকোগ্লু প্রকাশ্যে রোনালদোর পাশে দাঁড়ান। তিনি মনে করিয়ে দেন, রোনালদো এরই মধ্যে তিন গোল করেছেন এবং সীমিত প্রস্তুতির মধ্যেই খেলছেন। পোস্টেকোগ্লুর বক্তব্য, দলের ব্যর্থতার দায় তার নিজের; এমন একজন খেলোয়াড়কে নিয়ে মন্তব্য করার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা উচিত, যিনি দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ত্যাগ ও পরিশ্রমের উদাহরণ তৈরি করেছেন।
জাতীয় দল নিয়েও দুই তারকা বিপরীত মেরুতে। মেসিকে ৬ অক্টোবর বেনিনের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার প্রীতি ম্যাচের জন্য ডাকা হয়েছে, যা জাতীয় দলের হয়ে তার বিদায়ী ম্যাচ হিসেবে আয়োজন করা হচ্ছে। অন্যদিকে নতুন পর্তুগাল কোচ জর্জে জেসুস রোনালদোকে নেশন্স লিগের দলে রেখেছেন। ৪১ বছর বয়সী রোনালদো জানিয়েছেন, এবারের বিশ্বকাপই তার শেষ; তবে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে কবে পুরোপুরি সরে দাঁড়াবেন, তা এখনো জানাননি।
মেসিকে ঘিরে ব্যালন ডি’অর বিতর্কও নতুন মাত্রা পেয়েছে। ডেভিড বেকহাম মনে করেন, বিশ্বকাপে তার পারফরম্যান্স এবং সামগ্রিক বছর বিবেচনায় মেসির আবারও পুরস্কারটি পাওয়ার যোগ্যতা রয়েছে। কাসেমিরোর বক্তব্যও স্পষ্ট—‘সে এখনো সেরা।’ তবে ভোটের সিদ্ধান্ত যে শেষ পর্যন্ত মানুষের হাতে, সেটিও তিনি স্বীকার করেছেন।
রোনালদোকে নিয়ে জর্জে জেসুসের অবস্থানও পরিষ্কার: পারফরম্যান্সের ভিত্তিতেই খেলোয়াড় নির্বাচন হবে। তবে পাঁচবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী রোনালদোর আলাদা মর্যাদা রয়েছে। তার বিশ্বাস, পর্তুগালের হয়ে নয়, আল-নাসরের হয়েই রোনালদো ১,০০০ গোলের মাইলফলকে পৌঁছানোর সম্ভাবনা বেশি।
সব মিলিয়ে, মেসি-রোনালদোর প্রতিদ্বন্দ্বিতার গল্প শেষ হওয়ার নয়; বরং ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়েও দুজনকে ঘিরে নতুন রেকর্ড, বিদায়, প্রত্যাশা ও বিতর্ক তৈরি হচ্ছে। একজন ট্রফি ও গোলের ধারায় এগোচ্ছেন, অন্যজন এখনো নিজের বিশাল ক্যারিয়ারের মর্যাদা ধরে রেখে নতুন মাইলফলকের পথে এগোচ্ছেন হোঁচট খেতে খেতে।
গোল ও অ্যাসিস্টের হিসাব
মেসি: ৯৩০ গোল, ৪২৪ অ্যাসিস্ট
(এই সপ্তাহে ২টি গোল ও ১টি অ্যাসিস্ট যোগ হয়েছে)
রোনালদো: ৯৭৯ গোল, ২৬১ অ্যাসিস্ট
(এই সপ্তাহে কোনো গোল অবদান নেই)
