সুযোগ হারিয়ে ‘যদি-কিন্তু’ সমীকরণে বাংলাদেশ

বাংলাদেশ চিত্র
প্রকাশ : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:২৮ পিএম

সমীকরণটা ছিল বড় সরল—জিতলেই নিশ্চিত পদক। সেই সহজ অঙ্কটাই জটিল করে তুলল বাংলাদেশ। জাপানের কাছে হেরে এশিয়ান গেমসের পুরুষ কাবাডিতে পদকের পথ অনিশ্চয়তার মেঘে ঢাকা। ২০০৬ সালের পর থেকে চলে আসা এশিয়ান গেমসের পদকখরা ঘুচানোর মিশন জড়ালো ‘যদি-কিন্তু’র জটিল প্যাঁচে।

তকই সিটিজেন জিমনেশিয়ামে শুরু থেকেই কোণঠাসা ছিল লাল-সবুজরা। ম্যাচে একবারের জন্যও লিড নেওয়া হয়নি তাদের। স্বাগতিক জাপানের সূচনা ছিল দারুণ। হিরোতো চিবা প্রথম রেইড থেকেই বোনাস পয়েন্ট আদায় করেন, দ্বিতীয় রেইডে বোনাস নেন এতসুকি মানিতা। বিপরীতে মিজানুর রহমানের প্রথম রেইড ছিল ফলশূন্য, দ্বিতীয় রেইডে পয়েন্টের খাতা খোলেন জুলফিকার আকাশ। আল আমিন রেইডে গিয়ে ধরা খেয়ে দলকে পিছিয়ে দেন। আকাশ এক রেইডে দুজনকে কাবু করে স্কোর ৪-৪ করেন। ম্যাচে একবারই সমতায় ফিরতে পেরেছিল বাংলাদেশ। পরবর্তী সময়ে এতসুকি মানিতা এক রেইডে ৪ পয়েন্ট তুলে জাপানকে এগিয়ে দেন ৯-৫ ব্যবধানে। প্রথমার্ধের ৯ মিনিট বাকি থাকতে অলআউট হয়ে বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়ে ১৪-৮ ব্যবধানে। জুলফিকার আকাশ এক রেইডে ৩ পয়েন্ট তুলে ব্যবধান কমান বটে, কিন্তু অমনোযোগী বাংলাদেশ প্রথমার্ধ শেষ করে ২২-১৫ পয়েন্টে পিছিয়ে থেকে।

বিরতির পরও বদলায়নি চিত্র। জাপানের আগ্রাসী খেলার সামনে বোনাস পয়েন্টের ভরসায় টিকে থাকার চেষ্টা করে বাংলাদেশ। ম্যাচের ১৭ মিনিট বাকি থাকতে দ্বিতীয়বার অলআউট হয়ে যায় আব্দুল জলিলের দল। শেষদিকে দীপায়ন গোলদার রেইড থেকে দ্রুত পয়েন্ট তুলে বাংলাদেশকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করেন। তা শুধু ব্যবধান কমানোর সান্ত্বনাই দিতে পেরেছে।

এই হারের চেয়েও বেশি আলোচনায় উঠে এসেছে বাইরের বিতণ্ডা। ম্যাচের একপর্যায়ে দুই কোচ আব্দুল জলিল ও বাদশা মিয়ার দ্বন্দ্ব স্পষ্ট করে দিয়েছে দলের ভেতরের রুগণ চিত্র। এ প্রসঙ্গে বাদশা মিয়া বলেন, ‘ক্যাম্প শুরুর পর থেকে আমিই দলটাকে অনুশীলন করিয়েছি। এখন সবকিছুর নিয়ন্ত্রক আব্দুল জলিল ভাই। তিনি কারও কথাই শোনেন না।’ এই সমন্বয়হীনতার প্রভাব পড়েছে খেলার মাঠেও। শুরুর দিকে বাংলাদেশের অর্জিত ৮ পয়েন্টের অধিকাংশই এসেছিল জুলফিকার আকাশের হাত ধরে। অথচ ৬ ফুট উচ্চতার এই উদীয়মানকে পরবর্তী সময়ে রেইডেই পাঠানো হয়নি, যা দলের ভেতরে চলা গ্রুপিংকে সামনে এনেছে। ম্যাচ শেষে প্রধান কোচ আব্দুল জলিলের মন্তব্য শুনে বিস্ময় জাগা স্বাভাবিক। খেলোয়াড় ও কোচ—দুই ভূমিকাতেই এশিয়ান গেমসে পদক জেতা এই মানুষটি বলেন, ‘প্রথম দুই ম্যাচে আকাশ ভালো খেললেও এই ম্যাচে সে প্রত্যাশিত নৈপুণ্য দেখাতে পারেনি।’ অথচ বাস্তবতা ভিন্ন কথা বলে—শুরুতে আকাশ আর শেষদিকে দীপায়ন গোলদার ছাড়া গোটা ম্যাচেই সমন্বয়হীন বাংলাদেশ দল যেন হয়ে উঠেছিল এক বিচ্ছিন্ন দ্বীপ। নিজেদের ব্যর্থতার দায় রেফারির কাঁধে চাপানোর চেষ্টাও করলেন আব্দুল জলিল। গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নবাণের মুখে এক পর্যায়ে বলেন, ‘আমাদের রক্ষণ আসলে প্রত্যাশিত মানের ছিল না। আরও কিছুদিন সময় পেলে এ জায়গায় উন্নতি করা যেত।’

দক্ষিণ কোরিয়া ও চায়নিজ তাইপের বিপক্ষে ঘাম ঝরানো জয়ের পর কোচ, খেলোয়াড় আর কর্মকর্তাদের যে উৎসব দেখা গিয়েছিল, তা কি মনোযোগ সরিয়ে দিয়েছিল? প্রশ্নের জবাবে আব্দুল জলিল বলেন, ‘অমনটা করা উচিত হয়নি। আসলে অতীতে তাদের কাছে হেরেছিলাম, এই কারণে হয়তো এমন উচ্ছ্বাস হয়েছে।’

তিন ম্যাচ থেকে ৪ পয়েন্ট নিয়ে বাংলাদেশের পদক-স্বপ্ন এখনো পুরোপুরি নিভে যায়নি। শেষ গ্রুপ ম্যাচে অপেক্ষা করছে পরাক্রমশালী ভারত। সেই লড়াইয়ে জয়-পরাজয়ের হিসাব ছাপিয়ে বাংলাদেশ তাকিয়ে থাকবে হারের ব্যবধান কমানোর দিকে। যাতে অন্য দলগুলোর ফলাফলের অঙ্ক মিললে অন্তত পদক নিয়ে পিঠ বাঁচানো যায়!

বাংলাদেশ চিত্র অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন