বক্সিং রিংয়ে প্রতিপক্ষের আঘাতে মাথায় ৫ সেলাই দিতে হলো বাংলাদেশের সেলিম হোসেনের। জ্বরে ইভেন্টেই নামা হয়নি সাইক্লিস্ট সবুর হোসেনের। জাপানের বিপক্ষে কাবাডি ম্যাচে ইনজুরি নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে রাসেল হোসেনকে। জ্বর নিয়েও ম্যাটে নেমেছিলেন এখন পর্যন্ত একমাত্র পদকজয়ী উশুর জিন্নাত আক্তার। সাইক্লিংয়ে রোড রেস ইভেন্ট শুরু করলেও এক ল্যাপ দিয়েই হাঁপিয়ে উঠলেন শাহাদাত হোসেন। লড়াইয়ে এবং লড়াইয়ের বাইরে এভাবে একের পর এক ঘটনা প্রশ্ন তুলছে—বাংলাদেশ আসলে এশিয়ান গেমসের মতো বড় মঞ্চের জন্য কতটা প্রস্তুতি নিয়ে এসেছে?
বক্সিং ইনজুরিপ্রবণ খেলা। এখানে যেকোনো সময় যেকোনো কিছু ঘটতে পারে। থাইল্যান্ডের প্রতিযোগী সাকদা রুয়ামখামের বিপক্ষে সেলিম হোসেনের লড়াইয়েও ঘটল অপ্রত্যাশিত ঘটনা। মাথায় আঘাতের কারণে পাঁচ সেলাই দিতে হয়েছে, তাতেও অবশ্য হাল ছাড়েননি। যদিও ৫-০ ব্যবধানে ম্যাচটা হারতে হয়েছে, তারপরও প্রশংসিত হচ্ছেন এই বক্সার। ইনজুরিপ্রবণ খেলা কাবাডিও। কিন্তু বাকিদের ঘটনায় প্রস্তুতি ও সক্ষমতা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।
বিভিন্ন ইভেন্টে লড়াইয়ের শুরুতেই হার মেনে নিজেদের সক্ষমতাকে আরও প্রশ্নবিদ্ধ করছেন বাংলাদেশি ক্রীড়াবিদরা। আসলে বর্তমান ক্রীড়া বিশ্ব চলছে এক ছন্দে, বাংলাদেশ হাঁটছে উল্টো পথে। নির্দিষ্ট গেমস ও ইভেন্ট ঘিরে প্রস্তুতির সেকেলে পদ্ধতিটা বদলাতে পারেনি লাল-সবুজরা। এই কারণে আন্তর্জাতিক মঞ্চে গিয়ে হয় শুরুতেই হার মানছেন বাংলাদেশি ক্রীড়াবিদরা, নয়তো ইনজুরি-অসুস্থতার ধকলে চিৎপাত!
খেলোয়াড়দের প্রস্তুত করা, সাফল্য আনার যে প্রচেষ্টা, তার চেয়ে ঢের বেশি মসনদে আরোহণের দৌড়ঝাঁপ। এশিয়ান গেমসের বহরে যুক্ত হওয়া নিয়েও রীতিমতো লড়াইয়ে নেমেছিলেন কর্মকর্তারা। যারা এসেছেন, ঘুরছেন-ফিরছেন। ধুঁকছেন অপ্রস্তুত হয়ে আসা ক্রীড়াবিদরা—কেউ অসুস্থ, কেউ নাকাল হয়ে, কেউবা ইভেন্ট শুরুর পরই হাঁপিয়ে উঠেন!
