ডিসেম্বরের মধ্যে পান্থকুঞ্জের আপ-র‍্যাম্প চালুর নির্দেশ

বাংলাদেশ চিত্র
প্রকাশ : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৩৭ পিএম

ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে পিপিপি প্রকল্পের চলমান নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ। 

আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে পান্থকুঞ্জ পার্ক সংলগ্ন আপ-র‍্যাম্পের নির্মাণকাজ শেষ করে যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করার নির্দেশও দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে প্রকল্পের অর্থায়ন দ্রুত চূড়ান্ত করা এবং টোল প্লাজায় আরএফআইডি ভিত্তিক ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন (ইটিসি) ব্যবস্থা দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে পিপিপি প্রকল্পের অগ্রগতি ও নতুন অর্থায়ন পর্যালোচনা এবং চলমান নির্মাণকাজ দ্রুত সম্পন্ন করার লক্ষ্যে ফার্স্ট ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে কোম্পানি লিমিটেডের (এফডিইই) চীনের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সেতু ভবনে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। 

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন সেতু বিভাগের সচিব এবং বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ।

উল্লেখ্য, ‘ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে পিপিপি’ প্রকল্পটি বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান অবকাঠামোগত পিপিপি প্রকল্প। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (কাওলা) থেকে শুরু হয়ে কুড়িল, বনানী, মহাখালী, তেজগাঁও, মগবাজার, কমলাপুর, সায়েদাবাদ ও যাত্রাবাড়ী হয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুতুবখালী পর্যন্ত সড়কপথের ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি ও যানজট নিরসনে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। মূল উড়াল সড়কের দৈর্ঘ্য ১৯.৭৩ কিলোমিটার এবং ওঠানামার জন্য সংযোগকারী র‍্যাম্পসহ প্রকল্পটির মোট দৈর্ঘ্য ৪৬.৭৩ কিলোমিটার।

বৈঠকে সেতু বিভাগের সচিব প্রকল্পের সার্বিক অর্থায়নের অগ্রগতি বিষয়ে জানতে চাইলে চীনা প্রতিনিধিদল জানায়, অর্থায়ন কার্যক্রম দ্রুত নিরসনের বিষয়টি তারা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে এবং প্রক্রিয়াটি বেগবান করতে প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। ইতোমধ্যে বিকল্প ঋণদাতা হিসেবে চীনের শ্যানডং প্রদেশের শীর্ষস্থানীয় দুটি ব্যাংক এ প্রকল্পে বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

বৈঠকে সেতু সচিব আগামী ডিসেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে পান্থকুঞ্জ পার্ক সংলগ্ন আপ-র‍্যাম্পের নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করার নির্দেশনা প্রদান করেন। সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের জন্য চীনা প্রতিনিধিদলসহ সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ করেন তিনি। একই সঙ্গে প্রকল্পের অবশিষ্ট অংশের কাজ দ্রুত শেষ করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

এ ছাড়া ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের টোল প্লাজাগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে আরএফআইডি (আরএফআইডি)-ভিত্তিক ‘ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন’ (ইটিসি) সিস্টেম দ্রুত বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সমন্বয়ের জন্য চীনা প্রতিনিধিদলকে অনুরোধ জানানো হয়।

সেতু সচিব বলেন, ‘প্রকল্পের সুফল ঢাকাবাসীর কাছে দ্রুত পৌঁছাতে হলে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানকে আরও কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।’

তিনি কাজের গতি বাড়াতে প্রকল্প এলাকায় অতিরিক্ত জনবল মোতায়েনের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সব ধরনের নীতিগত ও পরিচালনাগত সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

বৈঠকে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের পরিচালক (প্রশাসন) প্রকল্পের অবশিষ্ট কাজ সময়মতো শেষ করতে একটি সুস্পষ্ট ও সময়ভিত্তিক পূর্ণাঙ্গ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন এবং নির্মাণকাজ চলাকালে প্রকল্প এলাকার সার্বিক নিরাপত্তা-ব্যবস্থা জোরদার করার তাগিদ দেন।

দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের প্রধান প্রকৌশলী, ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে পিপিপি প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক এবং বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ ও এফডিইই (এফডিইই)-এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ চিত্র অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন