কোস্টগার্ড-নৌপুলিশ পারেনি, স্বজনরাই উদ্ধার করল ১৮ জেলেকে

বাংলাদেশ চিত্র
প্রকাশ : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৫৩ পিএম

ইঞ্জিন বিকল হয়ে আটকে থাকা ১৮ জেলেকে পাঁচ দিনেও উদ্ধার করতে পারেনি কোস্টগার্ড, নৌপুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন। প্রয়োজনীয় নৌযান, জনবল ও উদ্ধার সরঞ্জামের সংকটের কথা জানিয়েছিল সংশ্লিষ্টরা। শেষ পর্যন্ত স্বজনরাই ট্রলার পাঠিয়ে উদ্ধার করেছেন আটকে থাকা জেলেদের।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সোনারচরসংলগ্ন এলাকা থেকে ১৮ জেলেকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। বিকেল ৫টার দিকে উপকূলে এসে পৌঁছায় উদ্ধারকারী মাছধরার ট্রলারটি।

জানা গেছে, গত ১৯ সেপ্টেম্বর  শনিবার রাতে রাঙ্গাবালী উপজেলার সোনারচর থেকে প্রায় ৮০ থেকে ১০০ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণে সাগরে মাছ ধরার ট্রলারের ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। ট্রলারে থাকা ১৮ মাঝিমাল্লা এরপর থেকে সাগরে ভাসছিলেন।

জেলেদের স্বজনরা জানান, ইঞ্জিন বিকলের খবর পাওয়ার পর উপজেলা প্রশাসন, কোস্টগার্ড ও নৌপুলিশের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হয়। ৯৯৯ নম্বরেও জানানো হয়। তবে বৈরি আবহাওয়া, উত্তাল সাগর এবং প্রয়োজনীয় নৌযান ও উদ্ধার সরঞ্জাম না থাকায় সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান চালাতে পারেনি।

রাঙ্গাবালী কোস্টগার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আমজাদ হোসেন ওই সময় জানিয়েছিলেন, বিপদগ্রস্ত জেলেদের অবস্থান সোনারচরসংলগ্ন মোহনা থেকে প্রায় ৮০ থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরে। সেখানে পৌঁছাতে ছয় থেকে আট ঘণ্টা সময় প্রয়োজন। উপযুক্ত নৌযান ও উদ্ধার সরঞ্জাম না থাকার পাশাপাশি উত্তাল সাগরে নিরাপত্তার বিষয়টিও রয়েছে।

রাঙ্গাবালী নৌপুলিশের ইনচার্জ মো. জায়েদুর রহমান বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত আছেন। কিন্তু ঘটনাস্থলে যাওয়ার মতো নৌযান, উদ্ধার সামগ্রীসহ প্রয়োজনীয় কোনো কিছুই তাদের কাছে নেই। তবে সাগরে থাকা অন্যান্য জেলেদের মাধ্যমে উদ্ধারের চেষ্টা করা হয়েছে।

এ অবস্থায় বৃহস্পতিবার সকালে জেলেদের স্বজনরা একটি মাছ ধরার ট্রলার নিয়ে সাগরে রওনা হন। সকাল ৯টার দিকে সোনারচরসংলগ্ন এলাকা থেকে তারা ১৮ জেলেকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে। পরে ৫টার দিকে জেলেদের উদ্ধারকারী ট্রলারটি উপকূলে এসে পৌঁছায়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার হাজারীগঞ্জের জোবায়ের এন্টারপ্রাইজের মৎস্য আড়তদার ফরহাদ হোসেন পাটোয়ারী বলেন, ‘একটি ট্রলার পাঠিয়ে জেলেদের উদ্ধার করা হয়েছে।’

উদ্ধারকারী ট্রলারে থাকা বিকল ট্রলারের মালিক হানিফ মাঝির ভাই ফিরোজ রাঢ়ী জানান, তার ভাইসহ ট্রলারের ১৮ জন মাঝিমাল্লাকেই অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।

এ বিষয়ে রাঙ্গাবালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল হাসান বলেন, জেলেদের ট্রলারের মাধ্যমে সকল জেলেকে সহিসালামতে উদ্ধার করা হয়েছে বিষয়টি জানতে পেরেছি।

বাংলাদেশ চিত্র অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন