বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে মারামারির ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে যাওয়া চার কলেজশিক্ষার্থী জামিন পেয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে শুনানি শেষে তাদের জামিন মঞ্জুর করেন বগুড়া জেলা শিশু আদালতের বিচারক।
ওই মামলায় সংশোধনাগারে থাকা কলেজ শিক্ষার্থী বোরহান ও রিশাদের আইনজীবী জহুরুল হক জাফর বলেন, শজিমেকের ঘটনায় যশোর সংশোধনাগারে থাকা চার কলেজ শিক্ষার্থীর জামিন দিয়েছেন বিচারক। তাদের জামিনের ই-বেল বন্ড সংশ্লিষ্ট বিভাগে পাঠানো হয়েছে।
সংশোধনাগারে বন্দি থাকা কলেজশিক্ষার্থী বোরহান উদ্দীনের বাবা প্রকৌশলী রুহুল আমিন বলেন, আমার ছেলেসহ অন্য কলেজ শিক্ষার্থীরা জামিন পেলেও তাদের জীবনে এ ঘটনাটি একটি মানসিক পীড়া হয়ে থাকবে। এছাড়াও, মামলাটি প্রত্যাহারসহ বাম পা হারানো ইরামের সুচিকিৎসা, পুনর্বাসন ও সকলের আর্থিক ক্ষতিপূরণের জন্য সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
উল্লেখ্য, গত ১৬ সেপ্টেম্বর রাত ১০টার দিকে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন ইরাম। তার বন্ধুরা তাকে দ্রুত শজিমেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান এবং ট্রলি নিয়ে আসতে গেলে ট্রলিম্যান টাকা দাবি করে বলে অভিযোগ উঠে। এ ঘটনায় এক পর্যায়ে ঘটনাস্থলে আনসার সদস্যদের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডা ও সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
আনসার সদস্য আহতের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ইরামের বন্ধু চার কলেজ শিক্ষার্থীকে আটক করেছিল পুলিশ। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, আটক চারজন ছিলেন- বোরহান উদ্দিন (১৮), তানভীর আহমেদ (১৭), সামির আহম্মেদ (১৮) ও রিশাদ (১৭)। তারা বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজ এবং বগুড়া ক্যান্টনমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের উচ্চমাধ্যমিকের মেধাবী শিক্ষার্থী।
আনসার কর্তৃপক্ষের করা মামলায় আদালতের নির্দেশে তাদের যশোর সংশোধনাগারে পাঠানো হয় এবং ইরামের বাম পায়ে আঘাতপ্রাপ্ত অংশে পচন ধরায় চিকিৎসকদের পরামর্শে গত সোমবার (২ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে বাম পা কেটে ফেলতে হয়েছে। এ ঘটনায় গত দুই দিন ধরে বগুড়া সাতমাথায় মানববন্ধন, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপিও প্রদান করেন ইরামের বন্ধু, সহপাঠী ও স্বজনরা।
